রাজনীতি, শিলিগুড়ি

কেন পদত্যাগ করছেন গৌতম দেব ?‌

জুন 19, 2026

দুরন্ত প্রতিবেদন:‌ জানা যাচ্ছে, শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব পদত্যাগের চিঠি জমা করে দিয়েছেন। ১৯ জুন শুক্রবার অর্থ্যাৎ আজ সেই চিঠি গৃহীত হবার কথা। যতদূর জানা যাচ্ছে, বেলা ২টার মধ্যে তৃণমূলের পুরবোর্ড ভেঙে যাবে। সেখানেই প্রশ্ন উঠেছে, বোর্ডের মেয়াদ শেষ হবার ৮ মাস আগেই কেন মেয়র গৌতম দেব পদত্যাগ করছেন?‌
পুরনিগম সূত্রে জানা গেছে, ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই পুরবোর্ডের হাত-‌পা প্রায় বাঁধা পড়ে গেছে। অভিযোগ, পুরনিগমে কোনও লেনদেন করতে মানা করা হয়েছে ওপর থেকে। শুধুমাত্র দৈনন্দিন পরিষেবার কাজ বাদে সমস্ত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে আপাতত মেয়র থেকে পুরবোর্ডের বসে থাকা ছাড়া কোনও কাজ নেই।


এদিকে বর্ষা শুরু হয়ে গেছে। নানারকম বিপর্যয় চলে আসতে পারে। এই কঠিন সময়ে যদি রাজ্য সরকার কোনও পুরবোর্ডকে ঠুঁটো জগন্নাথ বানিয়ে রেখে দেয়, তাহলে সেই পদে তো বসে থাকার কোনও মানে হয় না। বরং জোর করে বোর্ডে থাকলে পরিষেবা না পেয়ে মানুষ উল্টে তৃণমূল বোর্ডের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে পড়বেন।
অন্যদিকে গোটা রাজ্যে যে সংস্কৃতির আমদানি হয়েছে, কিছু হলেই ডিম ছোঁড়া থেকে মানহানি করতে দ্বিধাবোধ করছে না। ফলে তেমন পরিস্থিতির মুখেও বোর্ডের কেউ পড়তে চাইছে না। ফলে এই মুহূর্তে পুরনিগম থেকে পদত্যাগ করাই সঠিক বলে মনে করছেন গৌতম দেব থেকে অধিকাংশ কাউন্সিলর।

বিধানসভা ভোটের প্রচারের সময়ও ছিলেন আত্মবিশ্বাসী


যদিও এই মতের বিপক্ষেও কয়েকজন রয়েছেন। যে কারণে বৃহস্পতিবার পদত্যাগ দেবার কথা থাকলেও মেয়র চিঠি শুক্রবারের তারিখে পাঠিয়ে রেখেছেন।
এটা সত্যি যে, সরকার বদল হয়েছে মানেই নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিতে হবে কেন?‌ ৬ মাস পরেই তো ভোটের দামামা শুরু হয়ে যাবে। বরং এখন জনপ্রতিনিধিরা সরে গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। কিন্তু সম্ভবত শাসকদল সেসব নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ।
শিলিগুড়ির বিরোধী দলনেতা অমিত জৈন জানান,‘‌এরা আর কিছু করতে পারবে না। বিগত ২ বছরে এদের কাজের সাফল্য শুন্য। ঠিকাদারদের কাছে কোটি কোটি বাকি। কেউ আর কাজ নিতে চাইছে না। ফলে এরা নিজেরাই বুঝতে পারছে, ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি।’‌
তবে গোটা রাজ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, সেসব নিয়ে দার্জিলিং জেলা সমতল তৃণমূলের সভাপতি কুন্তল রায় পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, এসবের প্রায়শ্চিত্ত বিজেপিকেই করতে হবে। এই সংস্কৃতি বাংলার ভাল করবে না। মানুষও মেনে নেবে না।

Leave the first comment