খবরাখবর, রাজনীতি, শিলিগুড়ি

অদ্ভুত পুনর্বিন্যাস !‌ সোচ্চার সিপিএম

সেপ্টেম্বর 4, 2026

দুরন্ত প্রতিবেদন :‌ শিলিগুড়ির সব রাজনৈতিক দলের দাবি ছিল ওয়ার্ডের পুনর্বিন্যাস করতে হবে। বিজেপি ক্ষমতায় এসেই সেই কাজে হাত দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই স্বাগত জানিয়েছিল সব মহল। কিন্তু পুনর্বিন্যাসের যে খসড়া তালিকা প্রকাশ হয়েছে, সেটা দেখে উল্টে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হতে শুরু করেছে। কারণ ‘‌বোকা’‌র মতো সব ওয়ার্ড ভাঙা হয়েছে। যেখানে ওয়ার্ডগুলির মধ্যে সমতা ফেরানোর কথা ছিল, সেখানে আসল উদ্দেশ্যই সফল হয়নি। আগের মতো অসমতা রেখে ওয়ার্ড বাড়ানো হয়েছে বলেই অভিযোগ। একইসঙ্গে পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে ন্যুনতম যে নিয়ম তাও মানা হয়নি বলে অভিযোগ।
শিলিগুড়িতে ওয়ার্ডের সংখ্যা মোট ৪৭টি। সেটা থেকে বাড়িয়ে ৬৩টি করার প্রস্তাব রয়েছে খসড়ায়। বলা হয়েছে, আয়তন ও জনসংখ্যার ভিত্তিতেই ওয়ার্ড ভাগ করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে অন্য ছবি। ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে জনসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। অথচ ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে জনসংখ্যা মাত্র ১১ হাজার। সমতা আনতে ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডকে ৩ ভাগ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রতিভাগে জনসংখ্যা রাখতে বলা হয়েছে ১০ হাজার ২২২ জন করে। এটুকু হলে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সঙ্গে সমতা অনেকটাই ফিরতো। কিন্তু দেখা গেল ২৪ নম্বর ওয়ার্ডকেও ভেঙে দুই টুকরো করা হয়েছে। ফলে সেখানে একেকটি ওয়ার্ডে জনসংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৫৫২৩ জন করে। তাহলে ৪৬ নম্বরের সঙ্গে সমতা থাকল কোথায় ! আরও অবাক করা বিষয় হল ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জনসংখ্যাও ১১ হাজারের কাছাকাছি। অথচ সেই ওয়ার্ড যেমন ছিল, তেমনি আছে। একই ভাবে ৩৫ নম্বর জনসংখ্যা আরও বেশি। সেই ওয়ার্ডও ভাঙা হয়নি। কিন্তু তার চেয়ে কম জনসংখ্যার ওয়ার্ড ভেঙে দুই টুকরো করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই অদ্ভুতভাবেই ১৬টি অতিরিক্ত ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। ফলে সমস্যা আগের মতোই থেকে গেল।

এই সমস্যাকেই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরে দার্জিলিং জেলা সিপিআইএম বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি পুর কমিশনার বীর বিক্রম রাইকে দেবার পাশাপাশি রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন সচিব, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রধান সচিব, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ির জেলাশাসক এবং শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসকের কাছেও পাঠিয়েছে। সিপিআই(এম)-এর দার্জিলিং জেলা সম্পাদক সমন পাঠক জানান,‘‌একই শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নতুন সীমানা নির্ধারণে দ্বিমুখী নীতি নেওয়া হল কেন? যদি ২৪ নম্বর ওয়ার্ড মাত্র ৫,৫০০ জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে দুটি ভাগ হতে পারে, তবে ৪ নম্বর ওয়ার্ডকে কেন ১০,০০০ জনের ওপরে রাখা হচ্ছে?’‌

সমন পাঠক, নুরুল ইসলাম, দিলীপ সিং, শরদিন্দু চক্রবর্তীদের দাবি— নতুন ৬৩টি ওয়ার্ডের খসড়া মানচিত্র, জনসংখ্যার সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড এবং কোন্‌ যুক্তিতে ওয়ার্ডগুলি ভাঙা হচ্ছে—তার সমস্ত তথ্য দ্রুত জনসমক্ষে আনতে হবে। জানান,‘‌গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের মতামত ও রাজনৈতিক দলগুলির নিরপেক্ষ পরামর্শ অত্যন্ত জরুরি। খামখেয়ালিভাবে ওয়ার্ডের সীমানা পরিবর্তন মেনে নেওয়া হবে না।’‌

নিয়ম না মেনে পুনর্বিন্যাস, প্রতিবাদে সরব নুরুল ইসলাম, দিলীপ সিং

Leave the first comment