দুরন্ত প্রতিবেদন: পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের শিলিগুড়ি সফরকেই এবার হাতিয়ার করে ‘অগ্নি বধে’র কৌশল নিচ্ছেন বামেরা। ডানপন্থী দলগুলি যতই বামেদের অচ্ছুৎ করে রাখার স্ট্র্যাটেজি নিক না কেন, বামেরা এবারে ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে ‘অগ্নি বধ’, তদুপরি বিজেপিকে কোণঠাসা করতে তৎপর।
শিলিগুড়ি সফর সেরে অগ্নিমিত্রা পাল কলকাতা ফিরতেই বামনেতাদের একটিই প্রশ্ন, অগ্নিমিত্রা শিলিগুড়ি এসে শহরের জন্য করলেন টা কী? কীই বা বার্তা দিলেন ! তাঁদের সরাসরি অভিযোগ অগ্নিমিত্রা পাল এসে শুধুই শহরের মানুষের ওপর বাড়তি ট্যাক্স চাপানোর নির্দেশ ছাড়া কিছুই দিয়ে যাননি। থুতু ফেললে জরিমানা, নোংরা ফেললে জরিমানা, প্রকাশ্যে প্রস্রাব করলে জরিমানার মতো কড়াকড়ির কথা বাদে শহর জুড়ে যে ভয়ঙ্কর সমস্যা তৈরি হয়ে আছে, সেইসব বিষয়ে মুখই খোলেননি।

নতুন সরকার ডাবল ইঞ্জিনের কথা বললেও এই সরকার যে আখেরে কতটা কাজ করতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিদায়ী বাম কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম, শরদিন্দু চক্রবর্তী, মৌসুমী হাজরা ও দীপ্ত কর্মকার। উল্টে তাঁরা বিজেপির এই অপদার্থতার বিরুদ্ধে পথে নেমে মানুষকে সচেতন করে এবং ধারাবাহিক লড়াইয়ের মাধ্যমে অগ্নিমিত্রাদের ‘ফাঁকা বুলি’ জনতার সামনে আনতে তৎপর। এক কথায় অগ্নিমিত্রার ‘বিপ্লবী’ ভাষণ নিয়ে এবারে সরাসরি জনতার কাছে পোঁছে যেতে চলেছে দার্জিলিং জেলা সিপিএম।
বিগত পুরবোর্ডের বাম পরিষদীয় দলনেতা নুরুল ইসলাম জানান,‘শহরে পানীয় জলের বড় প্রকল্পের কাজ চলছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বন ও পরিবেশ বিভাগের কারণেই সেই কাজ আটকে আছে। অথচ শহরের অনেক এলাকার মানুষ পানের জলটাই পাচ্ছেন না। অথচ সেই বিষয়ে কোনও বক্তব্যই ছিল না।
ইকো-সেনসেটিভ জোনের কারণে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় উন্নয়ন বন্ধ। এর সমাধানে কিছু হচ্ছে কিনা তাও জানিয়ে যাননি।
শিলিগুড়ি পুরনিগমে এই মুহূর্তে ৭২০টির মতো স্থায়ী পদ রয়েছে। অথচ ৫৫০টি পদই খালি। পুর পরিবেষা দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়ছে। তারপরেও সেই পদে লোক নিয়োগের বিষয়ে পুরমন্ত্রী টুঁ শব্দটি করে যাননি।
গোটা শহরজুড়ে রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। অথচ সবরকম ওয়ার্ক অর্ডার বন্ধ করে রাখা হয়েছে। মানুষের এই কঠিন অবস্থা থেকে মুক্তি দেবার ব্যাপারে কোনও আশার বাণীও শুনিয়ে যাননি পুরমন্ত্রী।
নিকাশি ব্যবস্থার জন্য ৫০ কোটি টাকার বরাদ্দ হয়েছিল আগেই। পঞ্চদশ অর্থকমিশনের টাকা। বেশ কিছু কাজের ওয়ার্ক অর্ডার হয়েছিল। কিন্তু সরকারি নির্দেশনামায় সেই ওয়ার্ক অর্ডারগুলোর ফলে দেওয়ার পরেও সেসব বন্ধ আছে।


ফুল ছিটিয়ে বরণ শিলিগুড়ি পুরনিগমে
প্রায় ২ মাসের বেশি সময় ধরে ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট হচ্ছে না। মানুষ নাকানি চোবানি খাচ্ছেন। অথচ সরকারের হুঁশ নেই। পুরমন্ত্রী সেসব নিয়েও তেমন কিছু জানালেন না। সেই সঙ্গে দুর্নীতির পর্দাফাঁস নিয়ে কতকিছুই তো বলা হয়েছিল। আজ বিল্ডিংয়ের অডিট, কাজের অডিট সমস্ত অতীত। দুর্নীতির তদন্ত নিয়েও মুখে কুলুপ এঁটেই থাকলেন। শিলিগুড়ির মানুষকেও কিছু জানানো হলো না।
ফলে নতুন সরকার ডাবল ইঞ্জিনের কথা বললেও এই সরকার যে আখেরে কতটা কাজ করতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিদায়ী বাম কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম, শরদিন্দু চক্রবর্তী, মৌসুমী হাজরা ও দীপ্ত কর্মকার। উল্টে তাঁরা বিজেপির এই অপদার্থতার বিরুদ্ধে পথে নেমে মানুষকে সচেতন করে এবং ধারাবাহিক লড়াইয়ের মাধ্যমে অগ্নিমিত্রাদের ‘ফাঁকা বুলি’ জনতার সামনে আনতে তৎপর। এক কথায় অগ্নিমিত্রার ‘বিপ্লবী’ ভাষণ নিয়ে এবারে সরাসরি জনতার কাছে পোঁছে যেতে চলেছে দার্জিলিং জেলা সিপিএম। এখন দেখার এই আন্দোলন কতটা সাফল্য পায় বামেদের হাত ধরে..। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে পুরনিগমে বড় অভিযান চালানোরও পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে।














