দুরন্ত প্রতিবেদন: শিলিগুড়ির জঞ্জাল সাফাইয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন পুর প্রশাসক। দায়িত্ব নিয়েই তাই সরাসরি পথে নামলেন পুর প্রশাসক আর বিমলা এবং পুর-কমিশনার বীরবিক্রম রাই। প্রথম দিন ময়দানে নেমেই দেখতে পেলেন একাধিক গাফিলতি। স্বভাবতই পুরকর্মীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন। সেইসঙ্গে সাফাইকর্মী থেকে সুপারভাইজার, এমনকি সেনেটারি ইন্সপেক্টরদের কীভাবে কাজ করতে হবে, তারও নির্দেশ জারি করে দেওয়া হল। রীতিমত ৫টি দাওয়াই প্রাথমিকভাবে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সকালে জঞ্জাল সাফাইয়ের জন্য কর্মীরা যখন কাজে আসবেন, সেই সময় —
১) ওয়ার্ড সুপারভাইজারদের এক জায়গায় জড়ো হতে হবে
২) সবাই একত্রিত হলে তাঁদের ছবি তুলে পাঠাতে হবে
৩) হাজিরা নিশ্চিত করতে রেজিস্টার তৈরি করতে হবে
৪) কাজে ফাঁকি দিলে সাফাইকর্মীদের বেতন কাটা যাবে
৫) শো-কজ করা হবে সুপারভাইজার ও সেনেটারি ইন্সপেক্টরদের

সোমবার শিলিগুড়ি পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলেই প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রধান সচিব আর বিমলা। সেদিনই আবার বদল করা হয়েছে পুরকমিশনার। বুধবার নতুন কমিশনার হিসেবে এসজেডিএ’র সিইও বীর বিক্রম রাই কাজে যোগ দিয়েছেন। আর বৃহস্পতিবারেই প্রশাসক ও নতুন কমিশনার একসঙ্গে নেমে গেলের রাস্তায়। প্রশাসক হিসেবে আর বিমলা কাজে যোগ দিয়েই জানিয়েছিলেন, জঞ্জাল ও বর্ষাকালীন কাজেই প্রাধান্য দেবেন। তাই পথে নেমে জঞ্জাল সাফাইয়ের যাবতীয় দিক খতিয়ে দেখলেন। খোঁজ খবর করতে গিয়ে একাধিক গাফিলতি খুঁজে পেলেন তিনি। মিলল গরহাজিরার সংখ্যাও।
পুর প্রশাসক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সকাল ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে প্রধান রাস্তার জঞ্জাল সরিয়ে ফেলতে হবে। রাতে ট্রাফিক কমলে সাফাইয়ের কাজ শুরু করতে হবে। শহরকে পরিষ্কার রাখতেই হবে। কেউ বারেবারে গরহাজির থাকলে কাজ থেকেই সরিয়ে দেওয়া হবে এবং নতুন লোক নেওয়া হবে।
সেখানে দাঁড়িয়েই অনুপস্থিত কর্মীদের শো-কজ করার নির্দেশ দেন প্রশাসক। পরে পুরিগমের তরফে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, যেহেতু সাফাইয়ের কাজে চূক্তিভিত্তিক কর্মী রয়েছে। তাদের কাজের ওপর হাজিরা, ফলে কাজ না করলে বেতন কাটা হবে। এদিন কাজে বেরিয়ে প্রশাসক ও কমিশনারের নজরে বেশ কিছু আশ্চর্য বিষয় নজরে আসে। প্রথমত, দেখা যায় এক কর্মী নিজের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কাজে এসেছেন। এই বিষয়টি নোট করা হয়েছে। স্ত্রীকে কাজে নিয়ে আসার পেছনে স্বার্থ কী? তবে কী কারও প্রক্সি দিতে এসেছিলেন, নাকি অন্য কোনও রহস্য আছে। আদৌ কি সঠিক সংখ্যায় কর্মীরা কাজে আসছেন, নাকি ভুয়ো নামে টাকা উঠছে। সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। কমিশনারের দপ্তর থেকে নির্দেশ গেছে, শুক্রবার থেকেই সাফাই সুপারভাইজারদের সকালে একসঙ্গে হাজির হতে হবে। সেখানে হাজিরা দেখার পর নিজ নিজ জায়গায় কাজে যোগ দিতে হবে। এর মাধ্যমে বোঝা যাবে সবাই কাজে আসছেন কিনা। রেজিস্টার তৈরির নির্দেশও দেওয়া হচ্ছে। পুর প্রশাসক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সকাল ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে প্রধান রাস্তার জঞ্জাল সরিয়ে ফেলতে হবে। রাতে ট্রাফিক কমলে সাফাইয়ের কাজ শুরু করতে হবে। শহরকে পরিষ্কার রাখতেই হবে। কেউ বারেবারে গরহাজির থাকলে কাজ থেকেই সরিয়ে দেওয়া হবে এবং নতুন লোক নেওয়া হবে।













1 comment
Ritesh darjee
Good job