দুরন্ত প্রতিবেদন : দার্জিলিং জেলায় বড় জয় পেয়েছে বিজেপি। বিধানসভার ৫টি আসনে নির্বাচিত ৫জন বিধায়কই বিজেপির। শঙ্কর ঘোষ যেমন উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় তৃণমূল নেতা গৌতম দেবকে ৭৩ হাজার ভোটে হারিয়ে রীতিমত ‘হিরো’ হয়ে গেছেন, তেমনি মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির আনন্দময় বর্মন রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জিতে রেকর্ড গড়েছেন। পাহাড়ে তো সমস্ত সমীকরণ পাল্টে দিয়ে একা বিজেপিই কিস্তিমাত করেছে। স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচিত প্রার্থীদের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে তাকিয়ে গোটা পাহাড়-সমতল। বিধায়করা শপথ নিয়ে শিলিগুড়ি ফিরতেই তাই এলাকার মানুষ তাঁদের কথা, তাঁদের ভাবনা, কাজের ক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রাধিকারের কথা শুনতে ছটফট করছিলেন। জেলার ৫ জন বিধায়ক শিলিগুড়ি ফিরে সেদিনই বিকেলে শিলিগুড়ি স্টেট গেস্টস হাউসে নতুন সরকারের আমলে প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বিধায়কদের বক্তব্য নিতে গিয়ে দেখা গেল ৫জন বিধায়কের মধ্যে মঞ্চ আলো করে বসে আছেন দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা। শুধু তাই নয়, বৈঠকের সিদ্ধান্ত কী হয়েছে, তা বিস্তারিত তিনিই সংবাদ মাধ্যমের কাছে তুলে ধরেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরও দেন। কিন্তু একবারের জন্যও সাংসদ বিধায়কদের কিছু কিছু করে বলার জন্য অনুরোধ পর্যন্ত করলেন না। সাংবাদিকরা শঙ্কর ঘোষের বক্তব্য চাইছিলেন। তাই সেই প্রেসমিটেই বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি কি কিছু বলবেন? শঙ্কর ঘোষ মাথা নাড়িয়ে ‘না’ ইঙ্গিত করে উঠে পড়েন।

তবে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মন আগ বাড়িয়ে ‘শিলিগুড়ি জেলা’ গঠন বিষয়ে কিছু বলতে চাইলে, সেটাকে আর আটকাতে পারলেন না সাংসদ। আনন্দময় বর্মন বক্তব্য শেষ করতেই সকলে বেরিয়ে চলে গেলেন শিলিগুড়ি বাঘাযতীন পার্ক। সেখানে ছিল ‘ধন্যবাদ যাত্রা’। শয়ে শয়ে বিজেপি কর্মী সমর্থক থেকে সাধারণ মানুষ সেই মিছিলে পা মেলান। সাধারণ মানুষকে সেই মিছিল থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়। মূলত সমতলের ৩ বিধায়কের তরফেই মানুষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে এই মিছিলেন আয়োজন। কিন্তু সেখানেও সংবাদ মাধ্যম যখন বিধায়কদের ভাবনা জানতে যান, দেখা যায় বিবৃতি দিচ্ছেন সাংসদ রাজু বিস্তা। তিনি যেমন ধন্যবাদ জানাচ্ছেন, তেমনি তিনিই রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি হয়ে হুঁশিয়ারী থেকে প্রতিশ্রুতি সমস্ত দিচ্ছেন। শুরুতেই রাজু বিস্তার ভূমিকা দেখে শহরের সিংহভাগ মানুষ ধরেই নিয়েছেন, ৫ বিধায়ক জিতলেও আসল ক্ষমতা সাংসদ রাজু বিস্তার হাতেই। তিনিই এলাকার বস্।
রাজু বিস্তার ভূমিকা দেখে শহরের সিংহভাগ মানুষ ধরেই নিয়েছেন, ৫ বিধায়ক জিতলেও আসল ক্ষমতা সাংসদ রাজু বিস্তার হাতেই। তিনিই এলাকার বস্।
এই বিষয়ে বিজেপির কোনও নেতাই অবশ্য মন্তব্য করতে নারাজ। তবে রাজু বিস্তাই যে গোটা জেলার নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠছেন সেটা প্রায় স্পষ্ট। জেলার বিধায়করা যখন শপথ নিয়ে কলকাতাতেই আছেন, ঠিক সেই সময় শিলিগুড়ি ছোট উদ্যোগপতিদের সংগঠন ‘লঘু উদ্যোগ ভারতী’ এবং ‘ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স’ পৃথক দুটি ব্যবসায়িক কনফারেন্সের আয়োজন করে। লঘু উদ্যোগ নিজেদের দপ্তরের উদ্বোধন পর্যন্ত করে ফেলেন। এই সমস্ত জায়গায় একমাত্র আমন্ত্রিত ছিলেন রাজু বিস্তা। ফলে ব্যবসায়ী মহলকে যে খোদ রাজু বিস্তাই নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন, সেটাও পরিষ্কার হয়ে গেছে। ফলে একথা বলাই যায় ‘বিস্তাই বস’।












