রাজনীতি, শিলিগুড়ি

‌শিলিগুড়ি তৃণমূলের সংকটকালে সভাপতি কুন্তল

জুন 18, 2026

দুরন্ত প্রতিবেদন :‌ মহাভারতের অভিমুন্য চরিত্রটি সবারই প্রায় জানা। তৃতীয় পান্ডব অর্জুনের বীর পুত্র। চক্রব্যূহ রচনা করে যাকে অন্যায় ভাবে হত্যা করা হয়েছিল। অভিমন্যুর একমাত্র পুত্রের নাম ছিল পরীক্ষিৎ।
পরীক্ষিৎ যখন সিংহাসনে বসেন, তখন চারদিকে কলিযুগের অশুভ প্রভাব ছড়াতে শুরু করেছে। কিন্তু পরীক্ষিৎ তাঁর বীরত্ব ও কুশলী শাসনের মাধ্যমে কলিযুগের অশুভ শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি প্রজাদের সুরক্ষিত রেখেছিলেন এবং তাঁর রাজ্যে পুনরায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।


আজ তৃণমূল যখন প্রায় তাসের ঘরের মতো ভেঙে গেছে। বেঁচে ফেরার কোনওরকম আশা নেই। দলের কর্মীরাও অসুরক্ষিত। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ভয়ে ভয়ে আছেন। কখন কার উপর মামলার খাড়া নেমে আসে। তেমন একটা কঠিন সময়ে তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সমতলের সভাপতির দায়িত্ব পেলেন কুন্তল রায়। এটা যে ভীষণ চ্যালেঞ্জের তা বলার অপেক্ষায় রাখে না। গোটা দলটাকে যখন চোর চোর বলে ডিম থেরাপির কালচার শুরু করে দেওয়া হয়েছে, সেই অমানবিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরীক্ষিতের মতো কুন্তল রায় কতটা দলের ভাবমূর্তি ফেরাতে পারেন, কর্মীদের নিশ্চিন্ত রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করে দিতে পারেন, সেটাই এখন দেখার।‌

শিলিগুড়ির রাজনীতিতে কুন্তল রায় তৃণমূলের (AITC) একজন পরিচিত এবং যুব সংগঠন থেকে উঠে আসা প্রথম সারির নেতা। সম্প্রতি দলের কঠিন সংকটের সময়ে শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন। যে কমিটিতে চেয়ারম্যান হিসেবে বসানো হয়েছে প্রবীণ নেতা গৌতম দেবকে। কুন্তল রায় মূলত শিলিগুড়ি পৌরনিগমের কাউন্সিলর এবং দলের যুব সংগঠনের দায়িত্বশীল স্তরের নেতা হিসেবে পরিচিত।
কুন্তল রায় মূলত যুব তৃণমূল থেকে নিজের রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি করেছেন। শিলিগুড়ি মহকুমা এবং শহর সংলগ্ন অঞ্চলে দলের বিভিন্ন ছাত্র ও যুব আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ২০১৫-১৬ সাল নাগাদ তৃণমূলের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর নানারকম প্রতিবাদে স্থানীয় যুব নেতা হিসেবে কুন্তল রায় দলের প্রথম সারিতে থাকতেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য আসে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। সেই সময় অনুষ্ঠিত শিলিগুড়ি পৌরনিগম নির্বাচনে তিনি ২১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং নির্বাচনে বামফ্রন্ট এবং বিজেপির প্রার্থীদের পরাজিত করে তিনি ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০২২ সালের এই নির্বাচনে তৃণমূল শিলিগুড়িতে ঐতিহাসিক জয় লাভ করে বোর্ড গঠন করে এবং মেয়র হন প্রবীণ নেতা গৌতম দেব। এই পৌরবোর্ডে কুন্তল রায় একজন সক্রিয় ও তরুণ কাউন্সিলর হিসেবে নিজের ওয়ার্ডের নাগরিক পরিষেবা ও উন্নয়নের কাজ পরিচালনা করছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কুন্তলই প্রার্থী গৌতম দেবের নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শুধু তাই নয়, গৌতম দেবের গোটা প্রচারের ব্লু-‌প্রিন্ট তাঁরই হাতে তৈরি।

Leave the first comment