দুরন্ত প্রতিবেদন : খোলা মাঠে চেয়ার টেবিল পেতে বসেছেন বিধায়ক ড. শঙ্কর ঘোষ। আর কাতারে কাতারে মানুষ এসে অভাব অভিযোগ জানাচ্ছেন। বিধায়ক সেই অভিযোগ নিজে হাতে নোট করছেন। বিগত ৫০ বছরে এমন দৃশ্য দেখেনি শিলিগুড়ি। নিঃসন্দেহে শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়কের ‘সরাসরি শংকর’ কর্মসূচি একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত। যেখানে শুধু শহরের গুটিকয়েক লোকজন এলেন না, বরং শহর ছাড়িয়ে ভিন জেলা থেকে রীতিমত বাসে ট্রেনে গাড়ি ভাড়া করে ছুটে এলেন শুধুমাত্র নিজেদের অভাব অভিযোগ জানাবেন বলে। টানা দুই ঘন্টায় ১৫০ জন মানুষের কথা শুনতে পেরেছেন প্রথম দিন। এই ধৈর্য্য যদি শংকর ঘোষ দেখাতে পারেন এবং সিংহভাগ সমস্যার সুরাহা করতে পারেন, তবে ‘সরাসরি শংকর’ গোটা উত্তরবঙ্গ ছাড়িয়ে গোটা বাংলাতেই একটি মডেল কর্মসূচি হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কর্মসূচির আগাম প্রচার করার সময়ও শঙ্কর ঘোষ ভাবেননি, এখানে এত মানুষ আসতে পারেন। রবিবার কর্মসূচী শুরু করতেই চক্ষু চড়কগাছ ! দেখেন শুধু শিলিগুড়ি বিধানসভা এলাকার মানুষ নন, একেবারে ট্রেনে বাসে সুদূর মুর্শিদাবাদ, কলকাতা, মালদা, হলদিবাড়ি, কোচবিহার সহ বিভিন্ন জেলার থেকে এসেছেন। অথচ বিধায়ক শঙ্কর কাউকে নিরাশ করলেন না। একে একে নিজে সকলের অভাব অভিযোগ নোট করলেন। দিলেন আশ্বাস।
বিগত ৫০ বছরে এমন দৃশ্য দেখেনি শিলিগুড়ি। নিঃসন্দেহে শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়কের ‘সরাসরি শংকর’ কর্মসূচি একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত।
উল্লেখ্য, এখানেই চাকরির অনিশ্চয়তা নিয়ে মালদা, মুর্শিদাবাদ ও কোচবিহার থেকে দলবেঁধে এসেছিলেন শিক্ষকরা। ২০১৬ সালের এসএসসি আয়োজিত এসএলএসটি এবং আরএলএসটি পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ হওয়া শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা টানা ৮ বছর চাকরি করার পরও এখন গভীর অনিশ্চয়তায়। সেইসব শিক্ষকরা সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে নিজ নিজ কর্মস্থানে ফেরার আবেদন জানান। যেখানে কোচবিহারের কৌশিক আচার্যি, মালদার নন্দিতা সরকার, মুর্শিদাবাদের শুভাশিস মান্নার মতো শিক্ষকরা ছিলেন। সকলেই শঙ্কর ঘোষকে জানান, নতুন সরকার যেন নতুন ভোরের আলো দেখাতে পারে।

আবার এই শিবিরেই রেল পুলিশের এক সাব ইন্সপেক্টর নন্দিতা মজুমদার জমির নামের একবিজেপি দম্পতির বিরুদ্ধে সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে হাজির হন। শিলিগুড়ি ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি জমি বিক্রির নামে টাকা নিলেও সেই জমি না কিনলেও আর টাকা ফেরত দেননি সেই দম্পতি। অসহায় সেই রেলপুলিশ কোথাও সুরাহা না পেয়ে এদিন শঙ্কর ঘোষের দ্বারস্থ হন। অন্যদিকে শিলিগুড়ি ২ নম্বর ওয়ার্ডের সুবর্ণা সাহা আরেক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে আসেন। প্রধাননগর এলাকার সেই বিজেপি নেতা ভাড়াটিয়া হিসেবে ঢুকে গোটা বাড়ি কব্জা করে নাকি জাল দলিল তৈরি করেন। এরপর সেই বাড়ি দেখিয়ে প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি ব্যাংক লোন নেন। যা নিয়ে সুবর্ণা সাহা সমস্ত স্তরে অভিযোগ জানানো থেকে সবরকম আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান। সমাধান না হওয়ায় এদিন ‘সরাসরি শঙ্কর’ কর্মসূচিতে অভিযোগ জমা করেন। বিধায়ক তাঁকেও আশ্বস্ত করেন। পরে বিধায়ক অবশ্য জানান,‘আসলে ১৫ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কারের জন্য নামতে হয়েছে। এতদিন মানুষ ন্যায়বিচার পাননি। কিন্তু এবারে সাধারণ মানুষের দুঃখ দুর্দশা, অভাব অভিযোগ বিজেপির সরকার দূর করবে।’
বিধায়ক জানান, এদিন প্রায় ১৫০টির মতো অভিযোগ জমা পড়েছে। এই কর্মসূচি চালু থাকবে।












