উত্তরবঙ্গ, পর্যটন

‘‌পথের সাথী’‌র নবরূপ কি ‘‌পর্যটন তথ্য কেন্দ্র’‌ ?‌

জুলাই 24, 2026

দুরন্ত প্রতিবেদন :‌ বৃহস্পতিবার বিধানসভা অধিবেশনে দুর্দান্ত ঘোষণা করলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। জানিয়ে দিলেন, উত্তরবঙ্গে মোট ১০০টি পর্যটন তথ্য কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। পর্যটকরা উত্তরবঙ্গে কোথায় কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে যে সমস্যা হতো তার পুরো অবসান করবেন এই পর্যটন তথ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে। একেবারে অত্যাধুনিক এই কেন্দ্রগুলি থেকে যেমন পর্যটন সংক্রান্ত সবরকম তথ্য পাবেন পর্যটকরা, তেমনি এই তথ্যকেন্দ্রের ছাদের তলাতেই বুটিক, ক্যাফেটেরিয়া, ফুড প্লাজা থেকে হোম-‌স্টের স্বাদও মিলবে। প্রত্যেক জেলায় ন্যুনতম ৮টি করে এই কেন্দ্র গড়ার ঘোষণা করা হয়েছে। খরচ করা হবে অন্তত ৭৫ লক্ষ এবং দোতলা ভবন হবে। গ্রাউন্ড ফ্লোরে থাকবে ইনফর্মেশন সেন্টার।


আপাত অর্থে এটিকে নতুন ভাবনা বলা হলেও কোথায় যেন মমতা ব্যানার্জির ‘‌পথের সাথী’‌ প্রকল্পের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে। ২০১৮ সালে মমতা সরকারের আবাসন দপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পের ঘোষণা হয়। ব্যস্ত রাজ্য সড়ক এবং জাতীয় সড়কের ধারে একগুচ্ছ মোটেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল — রাজ্য ও জাতীয় সড়কের ধারে প্রতি নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর যাত্রী সাধারণের সুবিধার জন্য মোটেল বা পান্থশালা তৈরি করা। যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের জন্য পরিচ্ছন্ন ‘পে অ্যান্ড ইউজ’ শৌচাগার ও বিশ্রামের ঘর বা ওয়েটিং রুমের ব্যবস্থা। যাত্রীদের জন্য পানীয় জল, খাবার ও প্রাথমিক পসরাসহ নানা সুবিধার জোগান রাখা। কীভাবে এসেছিল এই ভাবনা ?‌ বিদেশের নানা জায়গায় পান্থশালা এবং মোটেলের দেখা মেলে। যাঁরা গাড়ি চালিয়ে অনেক দূর যান, তাঁদের জন্যই এমন ব্যবস্থা। ভারতে যেমন রাস্তার পাশে ছোটো ছোটো খাবারের ঝুপড়ি এবং ধাবা মেলে।

সেসব জায়গায় খাবার ঠিকঠাকই মেলে, কিন্তু শৌচাগারের অবস্থা খুবই শোচনীয়। কোনো কোনো পেট্রল পাম্পেও শৌচাগার থাকলেও সেগুলি অস্বাস্থ্যকর এবং অপরিচ্ছন্ন। মহিলাদের কাছে এই ধরনের শৌচাগার প্রায় দুঃস্বপ্নের মতো। মুখ্যমন্ত্রী সেই সমস্যা বুঝেই ওই মোটেল অর্থ্যাৎ পথের সাথী প্রকল্প রূপায়ন করেন। পরে সেখানে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর হস্তশিল্প রাখার জন্য স্টলের ব্যবস্থাও করা হয়। ফলে ‘‌পথের সাথী’ ও ‘‌পর্যটন তথ্য কেন্দ্র’‌ এর মধ্যে খুব বেশি তফাৎ নেই। নতুন বলতে এখানে নির্দিষ্ট এলাকার পর্যটন সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে।
ভাবনাটি মোটেও মন্দ নয়, বরং উত্তরবঙ্গের মতো পর্যটন ভূমিতে এই তথ্য কেন্দ্র সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু বিষয়টি পুরোপুরি মৌলিক ভাবনাও যে নয়, সেটাও প্রায় স্পষ্ট।

Leave the first comment