উত্তরবঙ্গ, দার্জিলিং

জিটিএ-তে ২০০ কোটির প্রকল্প বাতিল

জুলাই 15, 2026

দুরন্ত প্রতিবেদন :‌ বিগত পশ্চিমবঙ্গ সরকার শেষবার জিটিএ-‌কে বরাদ্দ দিয়েছিল ১৮০ কোটি টাকা। আর নতুন সরকার দায়িত্ব নেবার পর ১৪ জুলাই জিটিএ’‌র বৈঠকের পর সাংসদ রাজু বিস্তা ঘোষণা করলেন ‘‌বিগত বোর্ডের ২০০ কোটি টাকার কাজ পুরো বাতিল করা হল।’‌
ডিপিআর তৈরির পরও কেন এত বিপুল টাকার কাজ বাতিল করা হল?‌ এই প্রসঙ্গে সাংসদ রাজু বিস্তা ও রাজ্যের পার্বত্য বিষয়ক রাষ্ট্রমন্ত্রী বিশাল লামার স্পষ্ট বক্তব্য হল,‘‌আগের বোর্ড মানুষের স্বার্থে ডিপিআর করেনি। বরং মানুষের প্রয়োজনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কেবল ঠিকাদার এবং নেতাদের পকেট ভরাতেই প্রকল্পগুলি তৈরি করতো। যে কাজ পাহাড়ের মানুষের কোনও উপকারেই আসবে না, তা সরকার কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না।’‌ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পাবার পরেই নাকি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি যেটি সুখবর তা হল, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর উত্তরের ৮ জেলার উন্নয়নের জন্য যে সহস্রাধিক কোটি অর্থ পেয়েছে, সেখান থেকে ২৫০ কোটি টাকা পাহাড়ের জন্য বরাদ্দ করল। ফলে খুব তাড়াতাড়ি ওই ২৫০ কোটি টাকায় পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়নের কাজ শুরু হবে।

১৪ জুলাই মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের শাখা সচিবালয় ‘‌উত্তরকন্যা’‌য় গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অর্থ্যাৎ জিটিএ’‌র কাজের খতিয়ান খতিয়ে দেখতে ও দুর্নীতিমুক্ত পাহাড় গড়তে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রী বিশাল লামার উপস্থিতিতে আয়োজিত বৈঠকে ছিলেন দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা, জিটিএ-র উচ্চপদস্থ সচিব, এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা। বর্ষাকালীন কাজের পাশাপাশি পাহাড়ের প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে বৈঠকে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঠিক হয়, বিগত বোর্ডের হাতে তৈরি হওয়া প্রায় ২০০ কোটি টাকার ডিপিআর (ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট) সম্পূর্ণ বাতিল বা স্ক্র্যাপ করে দেওয়া হবে।

তবে পাহাড়ের পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্য এবারে দ্বিগুন অর্থ অর্থ্যাৎ ৩৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। তার পাশাপাশি মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর (এনবিডিডি) থেকে আরও ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘‌জিটিএ-র অধীনে ১ কোটি টাকার বেশি মূল্যের প্রায় ৫০টি প্রকল্পের কাজ নিয়ে তদন্ত, স্পট পরিদর্শন ও অডিট শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য আসা বিপুল অর্থের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব নেওয়া হচ্ছে। অতীতে জিটিএ-র নামে হওয়া সমস্ত আর্থিক অনিয়মের তদন্তভার আগামী দিনে সিএজি, ইডি নাকি সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে রাজ্য সরকার শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’‌‌

Leave the first comment