খবরাখবর, শিলিগুড়ি

শিলিগুড়িতে ডাহা ফেল তৃণমূল, কেন ?‌

জুন 5, 2024

দুরন্ত প্রতিবেদন :‌ দার্জিলিং কেন্দ্রের তৃণমূলকে চোপড়া বিধানসভা একাই এগিয়ে দিয়েছে ৯২১৩১ ভোটে। জোর লড়াই করেছে পাহাড়। বিজেপির থেকে এখানে পিছিয়ে মাত্র ৯৩৪৮৪ ভোটে। অর্থ্যাৎ পাহাড় যে ধাক্কা দিয়েছে, চোপড়া সেটাকে সামাল দিয়েছে প্রায় পুরোটাই। কিন্তু ডুবিয়ে দিয়েছে শিলিগুড়ি। শিলিগুড়ির শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র বিজেপির জয়জয়কার। মাটিগাড়া-‌নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রেই তৃণমূল পিছিয়ে ৮৩৯৫৫ ভোটে। অথচ এই কেন্দ্রেই বাড়ি শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধপতি অরুণ ঘোষ, কর্মাধ্যক্ষ প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস, ক্যাপ্টেন নলিনীরঞ্জন রায়, কিশোরী মোহন সিংহ থেকে জ্যোতি তিরকি সকলের। অন্যদিকে শিলিগুড়ি শহরে তৃণমূল পিছিয়ে ৬৬০০৯ ভোটে। যে পুরনিগমের মাথায় গৌতম দেবের মতো নেতা রয়েছেন। ফাঁসিদেওয়াতে তৃণমূল পিছিয়ে ২৫২১৮ ভোটে। আর এই বিপুল ধসের জেরেই দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে ফের বিজেপির রাজু বিস্তা জয়ের মুকুট পরতে পেরেছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে শিলিগুড়ির ৩৭ জন তৃণমূল কাউন্সিলর আর পঞ্চায়েত এলাকায় গাদা গাদা পঞ্চায়েত সদস্য থাকায় লাভ কী হল ?‌

দার্জিলিঙে তৃণমূল হারতেই শিলিগুড়ির কাউন্সিলরদের ওঠাবসা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে দলের মধ্যেই। বাদ যাচ্ছেন না পঞ্চায়েত সদস্যরাও।

লোকসভায় শোচনীয় পরাজয়ের পর শিলিগুড়ি পুরনিগমের কাউন্সিলরদের ঔদ্ধত্য আর অহংকার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। দলের মধ্যেই কাউন্সিলরদের ভূমিকা নিয়ে চর্চা চলছে। বিষয়টি জেলা তৃণমূল সভাপতি পাপিয়া ঘোষের কাছেও গিয়ে পৌঁছেছে। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য না করে পরাজয়ের দায় নিজের কাধেই নিয়ে নিয়েছেন। জানিয়েছেন,‘‌জয়ের মতো হারটাও মেনে নিচ্ছি। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী বিধানসভা আরও বীরবিক্রমে লড়াই করব।’‌ তাহলে কী শিলিগুড়ির শহর ও গ্রামের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে না?‌ জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান অলোক চক্রবর্তী শুধু জানিয়েছেন,‘‌এবার থেকে দেখবে আমার মুখ খোলা শুরু হচ্ছে।’‌ তার মানে কী,‌ অনেক কিছু দেখেও জেলার শীর্ষনেতারা এতদিন অকপটে মেনে নিয়েছেন ?‌ আর এবারে উপযুক্ত সময় এসেছে মুখ খোলার ?‌ একই প্রশ্ন উঠেছে গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যদের নিয়েও।

দলের অনেকেই বলছেন,‘‌যারা দলের ক্ষমতা ভোগ করবে, অথচ দলকে কিছু দেবে না, তাদের শোকজ করে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহন করা হোক। দলের তরফেও বিষয়টি নিয়ে যে চুলচেরা বিশ্লেষন চলবে সেটাও কিছুটা আভাস দিয়েছেন পাপিয়া ঘোষ।

Leave the first comment