দুরন্ত প্রতিবেদন : ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে শপথ নিয়েছেন আরও ৫ মন্ত্রী। বাংলার রাজবংশী, আদিবাসী, মতুয়া, আদি বিজেপিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেখানে। এর পেছনে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কারণ রয়েছে। তাই বলে মুখ্যমন্ত্রীর শপথের ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও মন্ত্রীসভা হবে না কেন এমন একটি সুশৃঙ্খল দলে? চলুক বিস্তর আলোচনা। কিন্তু উত্তরবঙ্গকে খুব বেশি প্রতিযোগিতার মধ্যে ফেললে কিন্তু বিজেপিকে ভাল চোখে নেবে না উত্তরবঙ্গের মানুষ।
উত্তরবঙ্গকে যেমন এইমস থেকে বঞ্চনা করা হয়েছে, তেমনি এখানকার নদী, পাহাড়, প্রকৃতি, পরিবেশ, সাহিত্য, সংস্কৃতি নিয়ে বিগত দিনের সরকার পদে পদে বঞ্চনা করেছে। এখানকার বিধায়কদের হাতে ক্ষমতা থাকে না। বিজেপি এসেই সেই বঞ্চনার জায়গায় হাত দিয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে প্রথমবার বিধানসভার অধ্যক্ষ করা হয়েছে। যেভাবে একেকটি বিষয় নিয়ে ভাবনা হচ্ছে তাতে মনে করা হচ্ছে বঞ্চনা ঘুচবে।
কিন্তু এখানকার প্রতিভাদের বেশি পরীক্ষার মধ্যে ফেলাটা এই মুহূর্তে ঠিক হবে না। রাজ্যে যখন বিজেপি ক্ষমতায় নেই, তখন থেকে শঙ্কর ঘোষ গোটা বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে জোরালো আওয়াজ তুলে মানুষকে বোঝাতে পেরেছেন। মানুষ তখন সেই আওয়াজ শুনে বিজেপি নাকি আরএসএস বিচার করেনি।
শিলিগুড়ি উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা গৌতম দেবকে ৭৩ হাজার ভোটে হারিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি আরএসএস এর থেকে কম নন।
শুধুমাত্র তৃণমূলকে সরানোর জন্য ভেতরে ভেতরে তৈরি হয়েছে। বিধানসভা মূখ্যসচেতক থাকার সময় অসম্ভব পরিশ্রম করে নিজেকে প্রমাণিত করেছেন শঙ্কর। শিলিগুড়ি উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা গৌতম দেবকে ৭৩ হাজার ভোটে হারিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি আরএসএস এর থেকে কম নন। এখন জিতে আসার পর তাঁকে নিয়ে ১০ দিন ধরে কাঁটাছেঁড়া মোটেও বরদাস্ত করা চলবে না। দপ্তর বন্টনে সমস্যা হলে পরে দিন। আগে উত্তরবঙ্গের মুখ হিসেবে শঙ্কর ঘোষকে উপমুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করা হোক। তার জন্য উত্তরবঙ্গের মানুষ আজীবন বিজেপির কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে। এই ক্ষমতা প্রদান উত্তরবঙ্গের সমস্ত বঞ্চনা ঘুচিয়ে দেবে।

এই দাবি উত্তরবঙ্গের প্রতিটি মানুষের। প্রয়োজনে সমীক্ষা করে দেখতে পারে দল। উত্তরবঙ্গ চায় তারাই তাদের ভালমন্দ ঠিক করবেন। তাই উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিকে রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদের আশপাশে রাখা হোক অতি অবশ্যই।
১৮ মে সোমবার দেখা গেল শিক্ষা বিভাগের বৈঠকে শঙ্কর ঘোষ ও স্বপন দাশগুপ্ত নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অনেকে মনে করছেন এই দু’জনের মধ্যে কেউ শিক্ষামন্ত্রী হবেন। উত্তরবঙ্গ এই প্রতিযোগিতা চায় না। বন, পর্যটন, সেচ, জনস্বাস্থ্য যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ নিয়েই ভাবতে পারে। সেই শিরোপা যে সম্মানজনক হয়। গৌতম দেবকে হারানোর জন্য একটা বাড়তি পুরস্কার প্রাপ্য বৈকি !












