দুরন্ত প্রতিবেদন : জুনের প্রথম রবিবার স্মরণীয় হয়ে থাকল শিলিগুড়িতে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া শিলিগুড়ির পরিবেশ ফেরাতে মন ভাল করা একটি কর্মযজ্ঞ শুরু করল ‘শিলিগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন’। শহরের মানুষকে বুঝিয়ে মোট ৫০ পরিবারকে একটি করেল গাছ দত্তক দিলেন তাঁরা। এদিনই ওয়েলফেয়ারের কর্মীরা নিজ হাতে সেই গাছ বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুঁতে দিয়ে এলেন। তবে এই ৫০টি পরিবারকে বাছাই করা খুব সহজে সম্ভব হয়নি। টানা তিন মাস লেগেছে। কারণ, দত্তক দেওয়ার জন্য এমন বাড়ির খোঁজ ওয়েলফেয়ারের কর্মকর্তারা করছিলেন, যে বাড়িতে কিছুটা হলেও উঠোনের মাটি আছে। যে বাড়িতে উঠোন আছে, তাদের রাজি করানোও ছিল চ্যালেঞ্জের। টানা ৩ মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর সেই রাজি করানো সম্পন্ন হয়েছে এবং এদিন ২ জুন থেকে সেই সব বাড়ি বাড়ি গিয়ে গাছ লাগানোর কর্মসূচি শুরু হল। এই ৫০টি গাছের লালন পালন নিশ্চিত হলে আরও ৫০টি গাছের জন্য পরিকল্পনা শুরু করবে শিলিগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন। জানালেন, সংগঠনের সম্পাদক জ্যোতির্ময় পাল ও আইনজীবী দেবারতি দাশগুপ্ত। মূলত শিলিগুড়ি শহরের পুরনো প্রকৃতি ফিরিয়ে আনতে এই প্রকল্প।



সংগঠনের কর্মকর্তারা জানান, একটা সময় ছিল যখন শিলিগুড়িতে গ্রীষ্মকাল বলে কিছু ছিল না। বছরে মাত্র ৪টি ঋতু দেখা যেত। কখনও কোনও কারণে দিনে সামান্যতম গরম পড়লে বিকেলে ঝেঁপে নামত বৃষ্টি। দিনে সাধারণ জামাকাপড় পরে চললেও রাতে একটা হালকা চাঁদর জড়িয়ে রাখতে হত গায়ে। অথচ সেই শহরে এবারে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪০ ডিগ্রির ওপরে। শহর জুড়ে পানীয় জলের সমস্যা আরেকটা মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে উঠেছে। অথচ এখানে সামান্য মাটি খুঁড়লেই টলটলে জলের দেখা মিলত। গাছে গাছে ভরে থাকা শহর এখন ন্যাড়া। আস্ত অভয়ারণ্য চুরি হয়ে যাচ্ছে। এই সর্বনাশ আটকাতে এবং পুরনো শিলিগুড়ির আবহাওয়া ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন সকলে।
একটা সময় ছিল যখন শিলিগুড়িতে গ্রীষ্মকাল বলে কিছু ছিল না। বছরে মাত্র ৪টি ঋতু দেখা যেত। কখনও কোনও কারণে দিনে সামান্যতম গরম পড়লে বিকেলে ঝেঁপে নামত বৃষ্টি।
১৯৭৭ সালে তৈরি হওয়া শিলিগুড়ি ওয়েলফেয়ার শহরের একটি প্রশংসিত সংস্থা। উত্তরের পরিবেশ, স্বাস্থ্য থেকে সচেতনতা সমস্ত কাজে অনেকটাই এগিয়ে এই সংস্থা। সংগঠনে খুঁটির মত দাঁড়িয়ে থাকা অধ্যাপক অভিজিৎ মজুমদার জানান, আমাদের জন্য আমাদের শহরের জন্য এই কাজগুলি দরকার। গোটা শহর ও তার আশপাশে উন্নয়নের নামে গাছপালা উজার করা হয়েছে। এটা বন্ধ করার সময় এসেছে। পাশাপাশি এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে আরও মানুষকে পাশে টানতে আমরা একটা পরিবেশ আন্দোলনও সংগঠিত করতে চলেছি।












