দুরন্ত প্রতিবেদন :
দিন ছয়েক আগে শিলিগুড়ি ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অমর আনন্দ দাসের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ তুলেছিলেন ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র দেবনাথ ও তাঁর পরিবার। বৃহস্পতিবার সেই তৃণমূল সম্পাদকের বিরুদ্ধে পাল্টা মানহানি মামলার হঁশিয়ারী দিলেন কাউন্সিলর। ঘটনায় ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড তো বটেই শিলিগুড়ি তৃণমূলের আভ্যন্তরীণ সমস্যার একটা ছবি ফুটে উঠেছে। যাতে করে গোটা দলটাই অস্বস্তির মধ্যে পড়েছে। একই ওয়ার্ডের দলীয় নেতা ও কাউন্সিলরের মধ্যে এই কাঁদা ছোড়াছুড়ি চললেও দলীয় নেতারা তবে কী করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আর এই চাপানউতোরে ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের মধ্যে নানারকম উদ্বেগ তৈরি হতে শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত, ১৬ ফেব্রুয়ারিতে ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বে-আইনি নির্মাণ ভাঙাকে কেন্দ্র করে। উল্লেখ্য, সেদিন শিলিগুড়ি পুরনিগমের কর্মীরা যে বে-আইনি নির্মাণ ভাঙার জন্য যায়, সেটি আসলে তৃণমূল নেতা সৌমিত্র দেবনাথের। তিনি বিশালাকার বাড়ি নির্মাণ করলেও সেই বাড়ি নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল। প্রথমত সরকারি জমিতে পাট্টা পাবার আগেই বিশাল নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সামনের নিকাশি নালা দখল করেও নির্মাণ কাজ চালানো হয়েছে। এবং এই নির্মাণকে রক্ষার করার জন্য ভবনের একটি রুমে দলীয় কার্যালয় বানানো হয়েছে। পুরকর্মীরা ভাঙতে গেলে সৌমিত্র বাবুর নেতৃত্বে কিছু তৃণমূল কর্মীরাই ঝান্ডা হাতে প্রতিরোধ করে এবং পুরকর্মীদের ফিরে আসতে হয়। সৌমিত্র দেবনাথ জানিয়েছিলেন,‘এখানে ৯০ শতাংশ পরিবারের হাতে পাট্টা নেই। তা সত্ত্বেও সকলে বাড়ি করে শান্তিতে আছেন। কেউ কখনও বাধা দেননি। এখনকার কাউন্সিলর বেছে বেছে নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ভাঙার পরিকল্পনা করছেন। অনেক জায়গা থেকে টাকা তোলারও অভিযোগ আছে।’ অন্যদিকে সৌমিত্রবাবুর স্ত্রী মামনি দেবনাথ তো প্রকাশ্যে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ১০ লক্ষ টাকা দাবির অভিযোগ করেন। জানান, ওই টাকা না দিলে বিল্ডিং ভেঙে ফেলা হবে বলে শাসানি দিয়েছিলেন কাউন্সিলর।
‘সৌমিত্র দেবনাথ ও তাঁর স্ত্রীর থেকে নাকি ১০ লক্ষ টাকা চেয়েছি। আমি উনাদের ৩ দিন সময় দিচ্ছি এর প্রমাণ দেবার জন্য। অথবা সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরুন। নইলে আমি মানহানি মামলা করব। কারণ আমি কাউন্সিলর। আমার একটা সামাজিক মর্যাদা আছে। এই ধরনের অবাঞ্চিত কথা আমি বরদাস্ত করব না।’
এই ঘটনার সময় কাউন্সিলর ওয়ার্ডে ছিলেন না। বৃহস্পতিবার তিনি ওয়ার্ডে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দিলেন,‘সৌমিত্র দেবনাথ ও তাঁর স্ত্রীর থেকে নাকি ১০ লক্ষ টাকা চেয়েছি। আমি উনাদের ৩ দিন সময় দিচ্ছি এর প্রমাণ দেবার জন্য। অথবা সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরুন। নইলে আমি মানহানি মামলা করব। কারণ আমি কাউন্সিলর। আমার একটা সামাজিক মর্যাদা আছে। এই ধরনের অবাঞ্চিত কথা আমি বরদাস্ত করব না।’












