খবরাখবর, সাতরঙ

ঠিকানাবিহীন উত্তরবঙ্গ বইমেলা

সেপ্টেম্বর 18, 2026

দুরন্ত প্রতিবেদন :‌ আগামী ডিসেম্বরেই উত্তরবঙ্গ বইমেলা হবার কথা। কিন্তু সেই মেলার ভবিষ্যৎ আপাতত অনিশ্চিত। বইমেলা কোথায় হবে, তারই নিশ্চয়তা মিলছে না। এখনও পর্যন্ত যেটা ঘোষিত, তা হল শিলিগুড়ি কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের মেলা গ্রাউন্ডে আর বইমেলা করতে দেওয়া হবে না। বৃহস্পতিবার দুপুরে শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এই ঘোষণা করেছেন।
তাহলে কোথায় হবে এই মেলা?‌ বিধায়ক তথা মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন,‘‌আমরা পৃথক মেলা ময়দান করব।’‌ কাওয়াখালির বিশ্ববাংলা শিল্পী হাটের প্রসঙ্গও তোলেন। সেখানে ধীরে ধীরে বিভিন্ন মেলা সরিয়ে নিতে চান তিনি। তবে কী বইমেলাকেও কাওয়াখালিতে নেবার কথা বলছেন?‌ না, সরাসরি সেই কথা তিনি বলেননি। তবে যেটা জানিয়েছেন, তা হল,‘‌‌শহরের প্রাণকেন্দ্রে মেলা করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মাঝ শহরে মেলা হলে শহর ঘিঞ্জি হয়, পার্কিং সহ নানা জটিলতা তৈরি হয়। আমরা তাই মেলার জন্য পৃথক ময়দান তৈরি করব। সেই ময়দান শহরের বাইরে হবে।’‌


কিন্তু এই বইমেলা যারা আয়োজন করেন, সেই ‘‌গ্রেটার শিলিগুড়ি পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’‌এর অন্যতম প্রধান কর্মকর্তা মধুসূদন সেন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, কাওয়াখালিতে আমরা বইমেলা নেবো না। ওখানে বইমেলা সফল করা কঠিন।’‌ মধুসূদন বাবুর আশঙ্কা বেঠিক নয়। এখনতো বই পড়া প্রায় উবেই গেছে। বইমেলায় বই কেনার চেয়ে খাবারের দোকানে ভিড় দেখা যায় বেশি। তবু শহরের মধ্যে মেলা হলে অনেকে ঘুরতে এসে শখে কিংবা আবেগে হলেও বই কেনেন। এভাবেই বইমেলা নতুন পাঠক পেতে শুরু করে। তারসঙ্গে লেখক-‌কবি-‌সাহিত্যিকদের আড্ডা ও চর্চা মানুষকে বইমুখী করে। বইমেলা দূরে চলে গেলে, এত পাঠক কী পাওয়া যাবে?‌ তারচেয়ে বড় প্রশ্ন হল কলকাতার প্রকাশকরা শহরের বাইরে আসবেন কিনা। প্রকাশকরা কিন্তু ব্যবসা সম্ভাবনা না দেখলে আসতে চাইবেন না।


মধুসূদন সেন জানান,‘‌গোটা বিষয় নিয়ে কথা বলতে পর্যটন মন্ত্রীর কাছে আমরা চিঠি দিয়েছি অনেকদিন আগেই। কিন্তু মন্ত্রী এখনও সময় করে উঠতে পারেননি। আমরা অপেক্ষা করছি।’

‌

এতকিছুর পরে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়, সেটি হল শিলিগুড়ি বিধান রোডের মুখে বিতর্কিত যে বিল্ডিং বহুদিন থেকে দাঁড়িয়ে আছে, সেই বিল্ডিং নিয়ে কেন সব রাজনৈতিক দলই চুপ হয়ে যায় !‌ বিধান রোডের পার্কিং সমস্যা মেটানোর জন্যই তো ওই বিল্ডিংয়ের জায়গায় পার্কিংয়ের কথা হয়েছিল। আজ সেই বিল্ডিং নিয়ে টুঁ শব্দটি না করে উল্টে শহরের অহংকারগুলিকে নিয়ে টানা হেঁচড়া শুরু হয়েছে।

স্টেডিয়ামের মেলা গ্রাউন্ড ভাড়া দিয়ে যে অর্থ আসে, সেই টাকা দিয়ে স্টেডিয়াম কমিটির বহু কাজ সম্পাদন হয়। পাশাপাশি বিতর্কিত জায়গায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করলে মেলা গ্রাউন্ডে মেলা করা নিয়ে কোনও সমস্যাই হতো না। কিন্তু প্রভাবশালী বলে ওই বিল্ডিং নিয়ে কোনও পদক্ষেপ না নিয়ে সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে টানাটানি শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠা শুরু হয়ে গেছে।

Leave the first comment