দুরন্ত প্রতিবেদন : দুটি রাজ্যের সংযোগকারী জাতীয় সড়ক। এই মুহূর্তে সেই সড়ক দেখলে মনে হবে যেন কোনও গ্রামের আলপথ। কাদামাটিতে জরাজীর্ণ। ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের এই বেহাল দশার কারণ ফুলে ফেঁপে ওঠা তিস্তা। দুদিন ধরে তিস্তা নদী সড়কের ওপর দিয়ে বইতে শুরু করেছিল। তাতেই কাদার স্তর পড়ে গেছে রাস্তায়। নদী নামতেই ফাটল দেখা দিতে শুরু করেছে জাতীয় সড়কে। রাস্তার পাশে নদীর দিকের দোকান থেকে বাড়ি সমস্ত ভেসে যাবার মুখে। যা গোটা কালিম্পংকে ত্রস্ত করে রেখেছে। ভয়ঙ্কর বিষয় হল, যে কোনও সময় পুরো জাতীয় সড়ক খুবলে খেয়ে নিতে পারে তিস্তা। যে কারণে কালিম্পঙের তিস্তা বাজার এলাকার মানুষজন নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। কালিম্পং প্রশাসনের তরফেও কমিউনিটি হল কিংবা বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতকিছুর মধ্যে সিকিমগামী ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক এখনও অক্ষত থাকলেও কালিম্পং থেকে দার্জিলিং যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পঙের যান পরিষেবা সচল আছে বলে জানিয়েছেন কালিম্পঙের জেলাশাসক শ্রীবালা সুব্রমনিয়াম।
অন্যদিকে ৪ অক্টোবর লোনক হ্রদ ফেটে হড়পা নেমে আসায় ভয়ঙ্করী তিস্তা যেভাবে লাচুং, লাচেন, চুংথাংয়ের মতো পর্যটনকেন্দ্রগুলিকে গ্যাংটকের থেকে বিচ্ছিন্ন করেছিল, এবারে তারই পুনরাবৃত্তি হয়েছে। মঙ্গন জেলার লাচুংকে জুড়তে যে বেইলি ব্রিজ তৈরি করা হয়েছিল এবারের বৃষ্টিতে সেটাই ভেঙে পড়েছে। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ১২০০ পর্যটন এখনও আটকে আছেন। যাদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশের, ৩ জন নেপাল ও ২ জন থাইল্যান্ডের। সিকিমের পর্যটন ও অসামরিক বিমান বিভাগের প্রধান সচিব সি এস রাও ইতিমধ্যে প্রেস বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, এই বিষয়ে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংয়ের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের কথা হয়ে গেছে। পর্যটকদের উদ্ধারের জন্য বিমান প্রস্তত রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সঙ্গে সড়কপথেও উদ্ধার করা যায় কিনা সে বিষয়েও চেষ্টা জারি রাখা হয়েছে।

কালিম্পঙের জেলাশাসক জানান,‘আমরাও সিকিমের মঙ্গন জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখছি। যতদূর জেনেছি পর্যটকরা সবাই নিরাপদে ও সুস্থ আছেন। লাচুং পুরো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় নিয়ে আসা যাচ্ছে না। আমরা আমাদের মতো সমস্ত সহযোগিতার গিক গুছিয়ে রাখছি।’ এদিকে তিস্তা বাজার , মেল্লি, ২৯ মাইল, বরিঝোরা এলাকার যে সব বাড়ির অনেকটা করে তিস্তার জলে ডুবে গেছে, কিংবা ভাঙার মুখে, সেই সব ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে সহযোগিতার জন্য এদিন যথারীতি প্রশাসনিক বৈঠক করেছে কালিম্পং জেলাপ্রশাসন। কালিম্পং বিডিও সামিরুল ইসলাম জানান, রাজ্য সরকারের তরফে এর আগের বিপর্যয়ের জন্য ২২৯টি পরিবারকে ৭৫ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এদিন আমরা এনএইচপিসিকেও তাদের তরফে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি।’
অন্যদিকে ধস ও বৃষ্টির জেরে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় এদিন তিস্তাবাজার এলাকায় সড়ক পরিদর্শনে যান রাজ্যের পূর্ত সচিব অন্তরা আচার্য, পুলিশ সুপার শ্রীহরি পান্ডে, জেলাশাসক বালা সুব্রমনিয়াম সহ অনেকে। এদিকে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিংগামী পথে কোনও সমস্যা না হলেও এদিন বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে ভানুভবনের সামনে একটি গাছ ভেঙে পড়ে। তাতে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন এক গাড়ির চালক। দার্জিলিঙেও দফায় দফায় বৃষ্টি হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে ২-৩ দিন উদ্বেগের মধ্যেই থাকতে হবে। কারণ তিস্তার নাব্যতা কম হওয়ায় সবসময় জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে।












