খবরাখবর, শিলিগুড়ি

পুর-‌শংসাপত্রে অধীরের ছবি ঘিরে বিতর্ক, নিন্দা প্রস্তাব ঘিরে ডেপুটির বিরুদ্ধে সুজয়ের রণডঙ্কা !‌

জানুয়ারি 31, 2024

দুরন্ত প্রতিবেদন :‌ শিলিগুড়ির কংগ্রেস কাউন্সিলর সুজয় ঘটকের বিরুদ্ধে পুর-‌অধিবেশনে নিন্দা প্রস্তাব এনেছেন ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার। আর সেই নিন্দা প্রস্তাব ঘিরে পুরনিগমের চেয়ারম্যান প্রতূল চক্রবর্তী এমন সব নির্দেশ জারি করেছেন, যা নিয়ে শিলিগুড়িতে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের নতুন করে দূরত্ব বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এমনকি পাশাপাশি দুটি ওয়ার্ড ১৫ ও ১৬ নম্বরের মধ্যেও অঘোষিত যুদ্ধের আবহ রচিত হয়েছে মঙ্গলবার। চেয়ারম্যান নির্দেশ দিয়েছেন,‘‌১৬ নম্বরের ওয়ার্ড-‌উৎসবে প্রতিযোগীদের মধ্যে যে শংসাপত্র বিতড়ন করেছেন কাউন্সিলর, সেটা বাতিল করে নতুন শংসাপত্র ছাপতে হবে। কারণ ওই শংসাপত্রে অধীর চৌধুরির ছবি রয়েছে।’‌ কিন্তু সুজয় ঘটক পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন,‘‌ওই শংসাপত্র বাতিল করলে রাজ্যের অনেক শংসাপত্রই বাতিল করতে হবে। আমি নতুন করে শংসাপত্র কখনই তৈরি করব না।’‌ বলেন,‘‌এই নিন্দা প্রস্তাব আসলে ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রার আফটার অফেক্ট। কারণ বিগত বছরেও একইরকম সার্টিফিকেট তৈরি করেছিলাম। তখন কোনও প্রশ্ন ওঠেনি। এবারে রাহুল গান্ধী ন্যায় যাত্রা নিয়ে শিলিগুড়ি পরিক্রমার পর তৃণমূল বোর্ড এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’‌

এবারে জানা যাক, ৩০ জানুয়ারি মঙ্গলবার শিলিগুড়ি পুরনিগমের বোর্ড মিটিংয়ে ঠিক কী ঘটনা ঘটেছে। এদিন মাসিক অধিবেশনের শেষপর্বে ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার একটি রেজুলেশন পেশ করেন। তাতে দেখা যায়, সেটি আসলে কং-‌কাউন্সিলর সুজয় ঘটকের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব। সেখানে বলা হয়েছে,‘‌১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ার্ড উৎসবের একটা শংসাপত্র আমাদের হাতে এসেছে। সেখানে দেখতে পাচ্ছি মাননীয় কাউন্সিলর তাঁর ছবির পাশে তাঁর দলের রাজ্য সভাপতির ছবি একটি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিযোগিতার শংসাপত্রে ব্যবহার করে সুস্পষ্ট রাজনীতি করতে চাইছেন। এটা ঠিক নয়। অধীরবাবু শিলিগুড়ি পুরনিগমের সঙ্গে কোনওভাবেই যুক্ত নন। পুরনিগমের শংসাপত্রে অধীরবাবুর ছবি ব্যবহার করে কাউন্সিলর মহাশয় যে অনৈতিক রাজনীতির পরিচয় দিয়েছেন, আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই।’‌ অর্থ্যাৎ ওয়ার্ড উৎসবে নাচ গান খেলায় প্রতিযোগীরা সে শংসাপত্র পান সেই সার্টিফিকেটে সুজয় ঘটকের ছবির পাশাপাশি কংগ্রেস দলের প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরির ছবি রাখায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলররা। কিন্তু সুজয় ঘটক জানান, অধীরবাবু শুধু দলের সভাপতি নন, তিনি নির্বাচিত সাংসদও। সাংবিধানিক পদে আছেন। ফলে সেটা নিয়ে আপত্তি উঠলে দেশ বা রাজ্যের কোনও শংসাপত্রে জাতির জনক বাদ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রীর ছবি থাকা উচিৎ নয়। কিন্তু সেটাই দস্তুর হয়ে গেছে। ফলে আমি আমার নিজের জায়গায় অটুট থাকছি।

এই শংসাপত্র ঘিরেই বিতর্ক শিলিগুড়িতে। ছবি:‌ সাতদিন


এদিকে পাশের ওয়ার্ডের রঞ্জন সরকার এভাবে নিন্দা প্রস্তাব আনায় বোর্ড মিটিংয়ের মধ্যেই সুজয় ঘটক শান্তি মোড়ের জটলা নিয়ে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত দেন। যা উভয়ের মধ্যে রাজনৈতিক যুদ্ধের রণডঙ্কা বলেই মনে করা হচ্ছে। শান্তি মোড়ে কিছু বসার জায়গা তৈরি হয়েছে। সেখানে নানা প্রান্তের লোকজনের জটলা হচ্ছে। অভিযোগ, সেই জটলা আসলে জুয়ার ঠেক। বোর্ড মিটিংয়ের মধ্যে এই ইঙ্গিত ডেপুটির বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা বলেই মনে করা হচ্ছে। সুজয় ঘটককে যেভাবে হেয় করার চেষ্টা হয়েছে তার মাশুল যে চোকাতে হবে সেটা জানাতেও ভোলেননি সুজয় ঘটক।
তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে যখন এই বিতণ্ডা পরিস্থিতি চলছে, তখন খুব সাবধানি ভাবে সিপিএম কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম এই নিন্দা প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু সংশোধনী প্রস্তাব দেন। সেখানে নুরুল বাবু, অধীর চৌধুরিকে বিরোধী দলনেতার পরিবর্তে সাংসদ হিসেবে দেখানো এবং শংসাপত্র এবারে বাতিল না করে এবারে সাবধান করে দেওয়ার মতো কিছু সংশোধনীর কথা বেলন। কিন্তু তৃণমূল বোর্ড তাতে সহমত না হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নিজেদের প্রস্তাব পাস করিয়ে নেয়। তাতে করে বোর্ডে কং-‌তৃণমূলের মধ্যে একটা অদৃশ্য দূরত্ব তৈরিই হয়ে গেল এদিন।

Leave the first comment