দুরন্ত প্রতিবেদন: শিলিগুড়ি শহরের আয়তন ৪২ বর্গ কিমি। অথচ এই ছোট্ট শহরে ন্যুনতম টোটোর সংখ্যা ২০ হাজার। আর এই টোটোর দৌরাত্ম্যে শহরের গতির অবস্থা প্রায় দফারফা। তীব্র যানজটের কারণে তাই রোজ কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে শিলিগুড়ি পুরবোর্ডকে। পরিস্থিতি পাল্টাতে বুধবার জরুরী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। বুধবার এক বৈঠকে করে সেখানে প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু ‘নীল নকশা’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সেই বিষয়ে মেয়র আগাম কিছু বলতে চাননি। তাঁর বক্তব্য,‘আমরা ৩ মাসের মধ্যে সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা করছি। শহরে আগামীদিনে আর কত রাস্তা তৈরি হতে পারে। সেই সমস্ত রাস্তা ধরে কত টোটোর চাপ নিতে পারবে, সমস্ত হিসেব নিকেশ করেই আমরা প্ল্যান তৈরি করছি। একইসঙ্গে শহরের মধ্যে থেকে বাসস্ট্যান্ড সরিয়ে বাইরে নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। এটা কালের নিয়ম। নতুন যান এসেছে। কিন্তু কোনওকিছুকেই অস্বীকার করা সম্ভব নয়। সবদিক দেখেই আমরা সুংসহত পরিকল্পনা নেব অতি দ্রুত।’
শিলিগুড়ি শহরকে ৪ জোনে ভাগ করার প্রস্তাব এসেছে। যাতে নির্দিষ্ট জোনের অন্তর্ভূক্ত টোটো অন্য জোনে ঢুকে না পড়ে। এর বাইরে একেক রুটের অটো একেক রং করে নিয়ন্ত্রণ করার কথাও ভাবা হয়েছে। তবে সবটাই প্রাথমিক স্তরে রয়েছে।
ইতিমধ্যে যেটা জানা যাচ্ছিল, শিলিগুড়ি শহরকে ৪ জোনে ভাগ করার প্রস্তাব এসেছে। যাতে নির্দিষ্ট জোনের অন্তর্ভূক্ত টোটো অন্য জোনে ঢুকে না পড়ে। তাতে একটা রাস্তার ওপর অত্যধিক টোটোর দাপাদাপি কমবে। কিন্তু তাতে আরও নতুন সংকটও আসতে পারে বলেও আলোচনা চলছে। এর বাইরে একেক রুটের অটো একেক রং করে নিয়ন্ত্রণ করার কথাও ভাবা হয়েছে। তবে সবটাই প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। এই বিষয়গুলি নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মেয়র জানিয়েছেন, শহরে মোট ৪১৭৫ টোটো টিন (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) নম্বর নিয়েছে। এর মধ্যে ৩৬০২ টি টোটো পরিবহন দপ্তর রেজিস্ট্রেশন করিয়েছে। আগামীতে সমস্ত টোটোকে এই রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে। নইলে সেটি অবৈধ বলেই গণ্য হবে। কারণ পরিবহন আইন সংশোধিত হয়েছে। নতুন আইন মেনেই সকলকে বৈধতার শংসাপত্র নিতে হবে। নচেৎ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার কথা ভাবতে হবে।’ জানা গেছে, টোটো অ্যাসোসিয়েশনের অনেকে জানান, শিলিগুড়ি শহরেই ১৫ হাজারের কাছাকাছি টোটো রয়েছে, এছাড়াও আশপাশের গ্রাম থেকে আরও অন্তত ৫০০০ টোটো রোড ঢুকে পড়ে। এই শহর ও গ্রামের টোটো নিয়েও একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। মেয়র জানান, পরবর্তীতে টোটো নিয়ে বৈঠকে মহকুমা পরিষদের সভাধিপতিকেও ডাকা হবে। এদিনের বৈঠকে ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার, মেয়র পারিষদ দুলাল দত্ত, মানিক দে, রামভজন মাহাতো সহ অনেকেই ছিলেন।












