খবরাখবর, শিলিগুড়ি

‌হেরিটেজ তকমা পেতে দৌড়বে ‘‌শিলিগুড়ি বয়েজ’‌, জানুয়ারিতে প্রাক্তনীদের পুনর্মিলন

নভেম্বর 18, 2023

দুরন্ত প্রতিবেদন:‌ উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন স্কুল ‘‌শিলিগুড়ি বয়েজ’‌ এবারে হেরিটেজ তকমা পেতে চাইছে। এই তকমা পাবার জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি তথা শিলিগুড়ির মেয়র তথা স্কুলেরই প্রাক্তনী গৌতম দেব জানান,‘‌হেরিটেজ তকমা পেতে যে মানদন্ড প্রয়োজন, আমরা সেসব একত্রিত করার কাজ শুরু করছি। আমরা চাই, এই স্কুলের ঐতিহ্য আরও দিকদিগন্তে ছড়িয়ে পড়ুক।’‌
ব্রিটিশ শাসনকালের ১৮৮৯ সালে মিডল ইংলিশ স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯১৮ সালের ২ জানুয়ারিতে উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। তখনও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলই ছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৫৭ সালে বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পঠনপাঠন শুরু হয় বাংলা মাধ্যমেও। ফলে প্রথম থেকেই এই স্কুলের আলাদা একটা ঐতিহ্য রয়েছে। এই স্কুলের ছাত্ররা দেশে বিদেশে ও রাজ্যের বিভিন্ন উচ্চপদে আসীন। নকশাল আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা চারু মজুমদার যেমন এই স্কুলে লেখাপড়া করেছেন, তেমনি ভারতের জাতীয় দলের ক্রিকেটার ঋদ্ধিমান সাহাও বয়েজ স্কুলের ছাত্র। সবচেয়ে কম বয়সে অলিম্পিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী টেবিল টেনিস খেলোয়াড় সৌম্যজিৎ ঘোষও এই স্কুলেই পড়েছেন। শুধু খেলা কিংবা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নয়, বরং আইন, শিক্ষা, সংস্কৃতি থেকে বিভিন্ন বিভাগেই কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন এই স্কুলের পড়ুয়ারা। অতি সম্প্রতি এই স্কুলের ১৩ বছর বয়সী পড়ুয়া অরিজিৎ ব্যানার্জি পাখোয়াজ বাজানোর আমন্ত্রণ পেয়েছিল জি-‌২০ শীর্ষ সম্মেলন থেকে। যেখানে তার বাজানো শুনে মুগ্ধ হয়েছেন দেশ বিদেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। স্কুলের এই সোনালী ইতিহাস ও বিশাল কৃতিত্বকে সামনে রেখে এবারে হেরিটেজ তকমা পেতে তোড়জোড় শুরু করল। পাশাপাশি শিলিগুড়ি উচ্চতর বালক বিদ্যালয়ের বহু প্রাক্তনী আজও স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেন। ইতিমধ্যে প্রাক্তনীদের নিয়ে কমিটিও তৈরি হয়েছে। তাঁরা সকলে মিলে একটা প্রাক্তনী পুনর্মিলন উৎসব করার পরিকল্পনা করেছেন। আগামী ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি সেই উৎসব হবে। তার ঘোষণাও করা হল ১৭ নভেম্বর শুক্রবার। পাশাপাশি স্কুলের নিজস্ব ওয়েবসাইট উন্মোচন করলেন মেয়র গৌতম দেব। সেখানে তিনি স্কুল নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনার কথাও জানান। শুধু তাই নয়, পুনর্মিলন উৎসবকে স্মরণীয় করে রাখতে স্কুলে একটি স্মারক গেটও তৈরির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক উৎপল দত্ত জানান,‘‌আমরা স্কুলকে বিভিন্ন দিক দিয়ে ঋদ্ধ করতে চাই। তার জন্য সকলের সহযোগিতা কাম্য। সকলকে নিয়েই স্কুলকে আরও ঐতিহ্যশালী করে তুলে বদ্ধপরিকর আমরা।’‌

স্কুলের নিজস্ব ওয়েবসাইট উন্মোচন করছেন মেয়র গৌতম দেব। ছবি:‌ সাতদিন

Leave the first comment