দুরন্ত প্রতিবেদন
কেন্দ্রের বঞ্চনা নিয়ে মুখর রাজ্য সরকার। আর কেন্দ্রীয় সরকারের দপ্তরগুলির ‘সার্ভিস ট্যাক্স’ পেতে সরব হল শিলিগুড়ি পুরনিগম। রেল, সামরিক বাহিনী থেকে বায়ুসেনা, যে কোনও দপ্তর কোনও শহরের পরিষেবা নেবে অথচ ‘সার্ভিস ট্যাক্স’ দেবে না, সেটা আর বরদাস্ত করবে বলে এদিন জানিয়ে দিলেন পুরনিগমের মেয়র গৌতম দেব। এদিন পুরনিগমের বাজেট বিতর্কে জবাব দিতে গিয়ে মেয়র পুর কমিশনারকে নির্দেশ দিয়ে বলেন,‘আমি কমিশনারকে বলব, আপনি পুরো এলাকার সমীক্ষা করুন। কোন্ কোন্ কেন্দ্রীয় সংস্থার দপ্তর এখানে আছে– রেল, সামরিক বাহিনী, বায়ু সেনা সহ যাই হোক, তাদের অবশ্যই পরিষেবা কর ‘লোকাল বডি’কে দিতে হবে। সমস্ত ডিমান্ড দিয়ে পাঠান ২ মাসের মধ্যে। জরুরী ভিত্তিতে টাস্ক ফোর্স করে সমস্ত জায়গায় পাঠান। কর না দিলে প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের দরজা ঠকঠকাব।’
মেয়র এদিন পরিস্কার করে জানান,‘ওরা কেন আমাদের কর দেবে না ? উত্তর-পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শহর শিলিগুড়ি। রোজ কত লোক আসছে এবং যাচ্ছে তার সমস্ত মনিটর করতে হয় আমাদের। লক্ষ লক্ষ লোক এই ভূখন্ডকে ব্যবহার করে অথচ তারা কোনও দায়িত্ব নেয় না। সবটাকে ব্যবহার করে চলে যায়। সেটাকে আমাদেরকে ঠিক রাখতে হয়, এই বিষয়গুলি বুঝতে হবে। নইলে এই শহরকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন।’
উল্লেখ্য, ২০ ফেব্রুয়ারি শিলিগুড়ি পুরনিগমের ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের বাজেট পেশ করেন মেয়র গৌতম দেব। বাজেট প্রায় ৬১৮ কোটি টাকার। এত বড় বাজেট আগে কখনও হয়নি। এই অঙ্ক নিয়ে বিরোধীরা বিশেষ করে বিজেপি কাউন্সিলররা বারেবারে বলার চেষ্টা করেন যে, কেন্দ্রের বরাদ্দের ওপর ভিত্তি করে পুরো বাজেট করা হয়েছে। নিজস্ব কিছু নেই। মেয়র তার চুলচেরা বিশ্লেষন করে উত্তর দেন। এরপরই কেন্দ্র ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি কীভাবে এই শহরকে বঞ্চিত করছে তার নমুনা তুলে ধরেন এবং সেই বঞ্চনার বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন। পুরনিগম সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে শিলিগুড়িতে যা কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির অফিস কাছারি আছে, তাদের পরিষেবা কর এমনিতেই বছরে প্রায় ১.৮২ কোটি বকেয়া হয়ে থাকে। বিগত দিনের বকেয়া ধরলে সংখ্যা অনেক বড়। অথচ তারা পুরনিগম থেকে সমস্ত পরিষেবা নিয়ে যাচ্ছে। তাই এবারে সেসবের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া সিদ্ধান্ত হল।












