খবরাখবর, শিলিগুড়ি

হায়রে রাজনীতি ‌!‌ গুরুংয়ের মুখে গোর্খাল্যান্ড উধাও

অক্টোবর 31, 2023

দুরন্ত প্রতিবেদন:‌ গুরুংয়ের মুখে আর গোর্খাল্যান্ডের দাবি নেই। এবারে নতুন দাবি ‘‌আলাদা উত্তরবঙ্গ’‌। গোর্খাল্যান্ডের দাবি নাকি এখন শুধু মনেই থাকবে। এই কথাগুলি অকপটে জানালেন, খোদ মোর্চা নেতা বিমল গুরুং। তাও আবার এই দাবি নিয়ে বিজেপি দলের সঙ্গে দরবার করবেন না, দাবিপত্র পাঠাবেন রাজ্য, কেন্দ্র ও দেশের বিরোধীদের তৈরি ইন্ডিয়া (‌ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স)‌ জোটের কাছে। তবে কি গুরুং ফের কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকছেন?‌ বিজিপিএম (‌ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা)‌ এর মুখপাত্র এস পি শর্মা জানালেন,‘‌এটা গুরুংয়ের ভোলবদল নয়, বরং দর কষাকষির নয়া ফর্মূলা। উনারা রাজ্য বলতে রাজ্যের শাসকদল, কেন্দ্রের শাসকদল ও বিরোধী জোটের কাছে নিজেদের অস্তিত্ব জানিয়ে দর হাঁকালেন মাত্র। যারা সঠিক মূল্য দেবে সেদিকেই ঝুলে পড়বেন। পাহাড়ের মানুষ এদের রাজনীতি ধরে ফেলেছে। চাই এখন পাহাড়ে গুরুংদের আর কেউ গুরুত্ব দেন না। মানুষের কাছে তাঁরা এখন ব্রাত্য।’‌
পাহাড় আন্দোলনে কোণঠাসা হয়ে পড়া বিমল গুরুং নতুন করে প্রাসঙ্গিক হতে মরিয়া। একা পেরে না উঠতে পেরে পুজোর আগে শিলিগুড়িতে বসেই গঠন করেছেন ‘ইউনাইটেড ফ্রন্ট ফর সেপারেট স্টেট’। যে ফ্রন্টে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ছাড়াও রয়েছে কামতাপুর পিপলস পার্টি, কামতাপুর প্রোগ্রেসিভ পার্টি, গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন, বীর বিরসা মুন্ডা ইল উলগান, ভূমিপুত্র কো-অর্ডিনেশন পার্টির মতো ৯টি সংগঠন। এদিন সেই ৯ সংগঠন দ্বিতীয় বৈঠক করল শিলিগুড়ির মাল্লাগুড়িতে। বৈঠকে প্রথম সিদ্ধান্ত হল ফোরামের দাবিপত্র তৈরি করা এবং সেই দাবিসনদ বিভিন্ন জায়গায় পাঠানোর। কোথায় কোথায় পাঠাবে দাবিসনদ, সেই তালিকা নিয়ে ফের জল্পনা ছড়াল গোটা উত্তরবঙ্গজুড়ে। বিমল গুরুং বৈঠক থেকে বেরিয়ে পরিস্কার ভাবে জানিয়ে দেন তাঁরা প্রথমে দাবিসনদ তৈরি করবেন। তারপর সেই দাবিপত্র রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি ইন্ডিয়া (‌ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স)‌ জোটের কাছে পাঠাবেন। কেন ইন্ডিয়া জোটের কাছে, প্রশ্নের উত্তরে গুরুংয়ের সটান জবাব,‘‌ওদের সঙ্গে আলোচনা হবে। আগে ওরাই সরকারে ছিল। আবার সরকারে আসবে। তাই আলোচনা হবে।’‌ তবে কী বিজেপির সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক ছিন্ন করছেন গুরুংরা। এর স্পষ্ট উত্তর না দিলেও বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিতে ভোলেননি। বলেন,‘‌২০০৭ সাল থেকে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনে নামার পর বিজেপিকে এখানে বারেবারে ক্ষমতায় এনেছি, কিন্তু ওরা খেলা করেছে। এমনটা করতে দেব না।’‌ কিন্তু যে পাহাড়ে গোর্খাল্যান্ডের আওয়াজ তুলে আজকের গুরুংয়ের জন্ম হয়েছিল, সেই পাহাড়ে সেই আওয়াজ পাল্টে দিয়ে কী আদৌ তিনি পুরনো মেজাজে ফিরতে পারবেন?‌ সেই আশা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

Leave the first comment