দুরন্ত প্রতিবেদন : লোকসভা নির্বাচন চলে গেছে সেই কবে ! ভোটে দার্জিলিং আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন রাজু বিস্তা। তারপর দার্জিলিং থেকেই হর্ষবর্ধন শ্রিংলাকে রাজ্য সভার সাংসদ করা হয়েছে। কিন্তু অবাক করা কথা হল, আজ পর্যন্ত একই জেলায় একই দলের দুই সাংসদকে পাশাপাশি দেখার সুযোগ হয়নি জেলাবাসীর। এটা কি নিছক কাকতালীয়, নাকি এই পাশাপাশি না দেখার পেছনেও আভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব রয়েছে?
আরও অবাক করা কথা হল, বিধানসভা ভোটের প্রাকমুহূর্তে সেই দুই সাংসদ আবার পাশাপাশি বসে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন ১১ এপ্রিল শনিবার। দুজনেই আবার ভোটের মুখে ঢালাও প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি ওড়ালেন। এটাও কি কাকতালীয় নাকি চাপে পড়েই এমনটা করতে হল দুই সাংসদকে?

উল্লেখ্য, দার্জিলিং লোকসভা আসন থেকে এবারে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। তিনি ছিলেন ভারতীয় কূটনীতিক এবং ভারতের ৩৩তম পররাষ্ট্রসচিব। আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশে হাইকমিশনার এবং থাইল্যান্ডে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জি-২০ তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। দার্জিলিঙে যখন জি-২০ এর আসর বসে, তখন থেকেই তিনি দার্জিলিং নিয়ে কাজ করা শুরু করেন। দ্রুত একটি এনজিও গড়ে তোলেন। তার মাধ্যমে নানান কাজ করা শুরু করেন। তারপরেই জানা যায় তিনি দার্জিলিঙে প্রার্থী হতে চলেছেন। কিন্তু রাজু বিস্তা ৫ বছর সাংসদের দায়িত্ব পালনের পর এখান থেকেই পুনরায় প্রার্থী হতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। শেষমেষ টিকিট রাজু বিস্তাই পান।
রাজনৈতিক মহল মনে করছেন মোদীজির আগমনের জন্য উভয়ে একসঙ্গে হতে বাধ্য হয়েছেন। নতুবা দার্জিলিং জেলায় বিজেপি এবারে কঠিন চাপে পড়ে গেছে, সেই চাপ থেকে রক্ষা পেতেই উভয়কে একমঞ্চে আসতে হয়েছে।
ফলে দার্জিলিং লোকসভার টিকিট নিয়ে কার্যত দু’জনের মধ্যে আভ্যন্তরীণ লড়াই চলে। মনে করা হয়, তারপর থেকেই উভয়কে একসঙ্গে আর দেখা যায়নি। তবে শনিবার দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শিলিগুড়ি আসেন। ঠিক তার আগে উভয়কে পাশাপাশি দেখা যায়। রাজনৈতিক মহল মনে করছেন মোদীজির আগমনের জন্য উভয়ে একসঙ্গে হতে বাধ্য হয়েছেন। নতুবা দার্জিলিং জেলায় বিজেপি এবারে কঠিন চাপে পড়ে গেছে, সেই চাপ থেকে রক্ষা পেতেই উভয়কে একমঞ্চে আসতে হয়েছে।


উল্লেখ্য, পাহাড় থেকে সমতলে বিজেপি সাংগঠনিকভাবেই অনেকটা চাপে রয়েছে। পাহাড়ে বিজেপির টোটকা খুব বেশি কাজে লাগছে না। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সেখানে বিজেপি সাংসদ থাকলেও বিজেপির শক্ত সংগঠন গঠিত হয়নি। বরং মোর্চার হাতে ঝান্ডা তুলে দিয়েই নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে হচ্ছে। ফলে বিজিপিএম ও তৃণমূলের সঙ্গে লড়াইয়ে জিততে নিজেদের মধ্যেকার দ্বন্দ্বকে আপাতত ঝোলায় ভরে রাখতে চাইছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।












