খবরাখবর, শিলিগুড়ি

হচ্ছেটা কী !‌ শিলিগুড়ি কলেজেও ঢুকল পুলিশ

ফেব্রুয়ারি 3, 2025

শিলিগুড়ি কলেজে সরস্বতী পুজো। ইনসেটে প্রতিবাদ।

দুরন্ত প্রতিবেদন:‌ অশান্তি ঠেকাতে কলকাতার যোগেশচন্দ্র কলেজে পুলিশি নিরাপত্তায় হয়েছে সরস্বতী পুজো। তা নিয়ে গোটা রাজ্যে জলঘোলা হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে দূরে থাকতে পারল না শিলিগুড়ি কলেজও। সোমবার শিলিগুড়ি কলেজেও ঢুকল পুলিশ। তাও আবার সরস্বতী পুজোর দিন। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এদিন শিলিগুড়ি কলেজের ছাত্ররা সরস্বতীয় পুজোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বয়কট করে প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদে সামিল হয়। কেন বয়কট ?‌ ছাত্রনেতারাই জানিয়ে দেন, কলেজে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চালানোরহ মতো পরিবেশ নেই।

অনুষ্ঠান বাতিল করে প্রতিবাদ শিলিগুড়ি কলেজে। অভিযোগ,অনুষ্ঠান চালানোর পরিবেশ নেই। ছবি:‌ সাতদিন


ধীরে ধীরে পরিস্কার হয়, কেন ৭৫ বছরের সরস্বতী পুজোর অনুষ্ঠান বাতিল করতে হল এবং সেই কলেজে অশান্তি রুখতে পুলিশকে ঢুকতে হল। জানা যায়, একই ক্যাম্পাসের মধ্যে শিলিগুড়ি ডে কলেজ ও শিলিগুড়ি কমার্স কলেজ রয়েছে। প্রতি বছর পৃথকভাবে সরস্বতীর পুজোর আয়োজন করে। এবারেও তাই হচ্ছিল। ৭৫ বছর উপলক্ষ্যে শিলিগুড়ি ডে কলেজের আয়োজন ছিল অনেকটা বড়। মন্ডপ তৈরি হয়েছে ঢাউস সাইজের। যাতে করে নাকি কমার্স কলেজের পুজো ঢাকা পড়ে যায়। এখানে থেকেই দুই কলেজের ছাত্র নেতাদের মধ্যে ঝামেলার সূত্রপাত। শুরু হয় রেশারেশি। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে কমার্স কলেজের মন্ডপে ডিজে বাজানোর জেরে ডে কলেজ অনুষ্ঠান চালাতে পারছিল না। নিরুপায় হয়ে ডে কলেজ অনুষ্ঠান বাতিল করে প্রতিবাদে সামিল হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢুকতে হয় পুলিশকেও। পুলিশ কমার্স কলেজের অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য করে বলেও জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে কলেজ কলেজ পরিচালন সমিতির সদস্য সুপ্রকাশ রায়, তৃণমূল জেলা যুব সভাপতি নির্ণয় রায় এমনকি জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী পাপিয়া ঘোষ পর্যন্ত ছুটে আসেন কলেজে। যদিও সবাই কলেজে আসার অন্য কারণ দেখিয়ে মূল বিষয় থেকে পাশ কাটাতে চেয়েছেন। কিন্তু বিরোধিরা প্রশ্ন তুলেছে, কলেজে রাজনৈতিক নেতাদের ঢুকে পড়াটাও তো কাম্য নয়। সব মিলিয়ে শিলিগুড়ি কলেজের ঘটনা গোটা উত্তরবঙ্গের শিক্ষামহলে নতুন করে একটি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সরস্বতী পুজোও কি শান্তিপূর্ণ ভাবে করা যায় না?‌ কেন সেখানে পুলিশ কিংবা রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপ করতে হবে?‌ এতসবের মধ্যে আরও একটি অভিযোগ রয়েছে,তাতে বলা হয়েছে এই টানাপোড়েনের জেরে কমার্স কলেজের তৃণমূলের এক ছাত্র নেতা, ডে কলেজের অধ্যাপক অধ্যাপিকাদেরও দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এই স্পর্ধা কোথা থেকে আসে?‌ শিলিগুড়ি কলেজের অধ্যাপিকা বিদ্যাবতী আগরওয়াল জানান,‘‌পুজো নিয়ে সমস্যা কিছু নেই। তবে কমার্স কলেজের মার্ডার নামের একটি ছেলে হুমকি দিয়েছে। এটা ঠিক নয়।’‌ পরে জানা যায়, মার্ডারের ভাল নাম সৌরভ ভাস্কর। কমার্স কলেজের প্রাক্তন ছাত্র। এখানে প্রাক্তনীদের নাক গলানোর কারণ কি সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Leave the first comment