খবরাখবর, রাজনীতি, শিলিগুড়ি

শিলিগুড়ির রাজনীতিতে ‘‌মৌসুমী’ চাপ, অশনি সংকেত

জুলাই 18, 2025

কবিতা অধিকারী ●‌ শিলিগুড়ি

মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে ঋতু পরিবর্তন হয়। গ্রীষ্মে নেমে আসে অঝোর ধারা। শীতে থাকে শুষ্কতা। এই বায়ু মুহূর্তে বদলে দিতে পারে আবহাওয়া। শিলিগুড়ির রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে আরেক ‘‌মৌসুমী’‌ যেভাবে মানুষের ক্ষোভকে সম্মিলিত করে রাস্তায় নামিয়ে এনেছেন, সেটা যদি বাড়তে শুরু করে তবে শিলিগুড়ির রাজনৈতিক সমীকরণেও ব্যাপক বদল নিয়ে আসবে নিশ্চিতভাবে।
যে কোনও রাজনৈতিক ইস্যুতে আরেক দলের রাজনৈতিক নেতারা পথে নামবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কোনও রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে যদি এলাকার সাধারণ মানুষ পথে নামা শুরু করে, তাহলে সেই প্রবণতা মোটেও সুবিধাজনক নয় শাসকের পক্ষে। তাও আবার এমন এক রাজনৈতিক নেতার নেতৃত্বে, যে দলের অস্তিত্বই স্বীকার করে না তৃণমূল। শিলিগুড়ির ছোটবড় তৃণমূল নেতারাই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেন ওই দলকে। সেই ‘‌শূন্য’ পাওয়া সিপিএম দলের শিলিগুড়ির এক নেত্রী মৌসুমী হাজরা যেভাবে বৃহস্পতিবার ঘরের মহিলাদের তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে পথে নামিয়েছেন, তা অবশ্যই আলোচ্য বিষয়।

‌মহিলারা পথে নামলেন কেন ?‌

তৃণমূল নেতার কান্ডকীর্তির প্রতিবাদে পথে মহিলাবাহিনী। ছবি:‌ সাতদিন

মহিলাদের পথে নামার কারণ তৃণমূল নেতা ধীমান বোস। ৩ বছর আগে শিলিগুড়ির মেয়র ঘনিষ্ঠ এই নেতা একটি ওষুধের দোকান চালু করেন। শহরের ১৭ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগস্থলে এই দোকান। পরবর্তীতে তার দোকানের নামে উল্টোদিকে আরও একটি চায়ের দোকান হয়। অভিযোগ, ধীরে ধীরে ওই গোটা চত্বর ধীমান বোসের দখলে চলে যায়। ফুটপাতে ছাতা , চেয়ার, টেবিল পেতে দিনরাত আড্ডা চালাতে থাকে। আর বহিরাগত কিছু উশৃঙ্খল যুবকেরা সেখানে বসে মহিলাদের দিকে কু-‌দৃষ্টিতে তাকানো সহ অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করা শুরু করে। স্থানীয় শিক্ষিকা রোমিলা কৈরালা ও সুবিমল ঘোষ অভিযোগ করে জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁরা বরো চেয়ারম্যান তথা ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে জানালেও কাজ হয়নি। শেষে দুদিন আগে বিষয়টি শহরের মেয়র গৌতম দেবকে জানানো হয়। সেইসঙ্গে ১৯নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম কাউন্সিলর মৌসুমী হাজরাকে জানালে তিনিও মেয়রের নজরে আনেন। এরপর পাড়ার মানুষজন সম্মিলিত ভাবে স্বাক্ষর করে অভিযোগ নিয়ে যান শিলিগুড়ি থানায়। কিন্তু থানা সেই অভিযোগ জমা নেয়নি বলে অভিযোগ। এরপর সেটি ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের কাছে জমা দিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। এদিন পুলিশের অপেক্ষা না করে ওয়ার্ডের প্রচুর মহিলা একজোট হয়ে ওয়ার্ড-‌পাহাড়া দেওয়া শুরু করলেন। এদিন মৌসুমী হাজরার নেতৃত্বে পথে নেমে মিছিলও করলেন। জানিয়ে দিলেন এবার থেকে রোজ এই টহল চলবে।

এই মহিলা বাহিনী কী করতে চান?‌

এরা মূলত একটি গ্রুপ করে পাড়ায় টহল দেবে বলে জানিয়েছেন। এদিন দিয়েছেনও। সেই সঙ্গে এরা মহিলাদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও তৈরি করছেন। যেখানে এমন সমস্যার কথা কেউ লিখলেই গোটা টিম সেখানে সাহায্যের জন্য হাজির হবে। এই বাহিনীর কাজকর্ম ঠিকঠাক করার জন্য মৌসুমীর সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিবাদী রোমিলা কৈরালা ও বাম কাউন্সিলর মৌসুমী হাজরা।

আশঙ্কার বিষয় কী?‌

যে রাজ্যে তৃণমূলের সাধারণ নেতার বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে মানুষ কথা বলতে ভয় করেন, সেই রাজ্যের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে যদি গৃহবধূরা রাস্তায় নেমে মিছিল করা শুরু করে, তবে এর ফল কী হতে পারে !‌ এমনিতেই ডাক্তাররা এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন, শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন, শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন। এবার যদি সাধারণ জনতা পাড়ায় পাড়ায় আন্দোলনে নেমে পড়েন, তবে পুনরায় তৃণমূলের পুরবোর্ড গড়া অনিশ্চিত হয়েই পড়বে বলে মনে করছেন অনেকে।

যদিও শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব, গোটা বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে ধীমান বোস আবার পাল্টা আইনি নোটিশ পাঠাতে মরিয়া।

এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূলকে ঠিক কী অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন, সেটা নিয়ে গভীরভাবে না ভাবলে ছোট এই ঘটনা অনেক বড় বিপর্যয় ঘটিয়ে ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

Leave the first comment