খবরাখবর, শিলিগুড়ি

শিলিগুড়ি পুরনিগমে নজিরবিহীন ঘটনা

ফেব্রুয়ারি 28, 2024

দুরন্ত প্রতিবেদন

বুধবার নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল শিলিগুড়ি পুরনিগম। বাম কাউন্সিলররা বোর্ড মিটিং থেকে ওয়াক আউট করে সভাকক্ষ ছাড়ার জন্য উঠতেই নিজের চেয়ার ছাড়েন মেয়র গৌতম দেব। দরজার কাছে গিয়ে রীতিমত আগলে দাঁড়ান। বিরোধীদের অনুনয় বিননয় করে সকলকে নিজ নিজ আসনে ফেরান। অথচ এই গোটা পর্বে চেয়ারম্যান প্রতূল চক্রবর্তীর ভূমিকা নিয়ে অতিশয় আক্ষেপ প্রকাশ করেন বিরোধীপক্ষ। গোটা ঘটনা তৈরি হয় ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অলোক ভক্তের আলটপকা মন্তব্যের জন্য। যা শিলিগুড়ি পুরনিগমের ইতিহাসে নজির তৈরি করে ফেলে।
উল্লেখ্য, বৈদ্যুতিক খুঁটিতে অন্য দপ্তরের তার ঘিরে যে বিপদের সম্ভাবনা তৈরি হয়, সেই আশঙ্কার কথা বলে সমাধানের জন্য একটি নীতি তৈরির দাবি করতে মোশন উত্থাপন করতে ওঠেন সিপিএমের শরদিন্দু চক্রবর্তী। কিন্তু শরদিন্দুবাবু বক্তব্য দিতে উঠলে ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অলোক ভক্ত ব্যঙ্গোক্তি করতে থাকেন। কথার সুর ভাল না হওয়ায় মেয়র ও ডেপুটি মেয়র সহ অন্য কাউন্সিলররা অলোককে থামানোর চেষ্টা করেন। তাতেও অলোক ভক্ত স্থির না হওয়ায় একদিকে যেমন নুরুল ইসলাম, দীপ্ত কর্মকার, শরদিন্দু চক্রবর্তী ও মৌসুমী হাজরারা ওয়াক আউটের পরিকল্পনা করে ফেলেন, অন্যদিকে বামেদের আটকাতে মেয়র নিজেই সভাকক্ষের দরজা আগলে দাঁড়িয়ে পড়েন। এবং অনেকটা নত হয়েই সকলকে বোর্ড মিটিংয়ে ফেরান। যা নজিরবিহীনই বটে। এভাবে কোনও সময় বিরোধীদের আটকাতে কোনও মেয়র তৎপরতা দেখাননি। আবার এর আগে এভাবে কোনও শাসকদলের কাউন্সিলর মেয়রের কথার অমান্য করেননি। কিংবা চেয়ারম্যানও এতটা নির্জীব হয়ে বসে থাকেননি বলে অভিযোগ। যেটাও নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে।

‘‌‘‌উনারা অকারণে বেরিয়ে যান। ‌কেউ কিছু বললেই কি বেরিয়ে যেতে হবে ?‌ এটা আমরা অন্তত চাই না। বিরোধীদের সংখ্যা তো বাড়াতে পারব না। যা কয়েকজন আছেন, তাও যেন বেরিয়ে না যায় সেই কাজ করেছি এদিন। আশ্চর্য হল বিরোধীরা অধিবেশনে থাকতেই চায় না। বিজেপিও এদিন কোনও কথা বলেনি। আসলে এদের কাছে বলার কিছু নেই।’‌’‌– গৌতম দেব, মেয়র ‌

বক্তব্য দিতে গিয়ে মেয়র অবশ্য তৃণমূল কাউন্সিলরদের পক্ষ নিয়েই কথা বলেন। যা নিয়ে বিরোধী দলনেতা অমিত জৈন জানান,‘‌আজ মেয়র সাহেবের জন্য খুবই দুঃখ হল। নিজেদের দলের কাউন্সিলরের আচরনের জন্যই চেয়ার ছেড়ে উঠে বিরোধীদের পথ আটকাতে হলো। অথচ চেয়ারম্যান তেমন কোনও সক্রিয়তা দেখালেন না। এভাবে গণতন্ত্র বিকশিত হবে কীভাবে ?‌’‌ তিনি জানান,‘‌আমরা বোর্ডে কিছু বললেও বাধা দেওয়া হয়। তাই এদিন মৌন প্রতিবাদ করেছি। আমরা কেউ কোনও মোশন যেমন আনিনি, তেমনি কোনও কথাও বলিনি। আশা করছি বোর্ড বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে বুঝবে।’‌ মেয়র অবশ্য জানান,‘‌উনারা অকারণে বেরিয়ে যান। ‌সদনে এক সদস্যের সঙ্গে আরেক সদস্যের খোটাখুঁটি হয়। এটাই তো গণতন্ত্র। কেউ কিছু বললেই কি বেরিয়ে যেতে হবে ?‌ এটা আমরা অন্তত চাই না। তাই উঠে গিয়ে অনুরোধ করেছি। বিরোধীদের সংখ্যা তো বাড়াতে পারব না। এই অল্প নম্বর যেন বেরিয়ে না যায় সেই কাজ করেছি। আশ্চর্য হল বিরোধীরা অধিবেশনে থাকতেই চায় না। বিজেপিও এদিন কোনও কথা বলেনি। আসলে এদের কাছে বলার কিছু নেই। কারও বক্তব্যে খারাপ পেলে চেয়ারম্যানকে তো জানাতেই পারেন। বেরিয়ে যাওয়াটা তো সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।’‌ কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, এই বাধা দেওয়া নতুন নয়, এটা ক্রমশ বোর্ডে প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বোর্ড মিটিংয়ে বামেদের ওয়াক আউট আটকাতে সভাকক্ষের দরজার সামনে মেয়রের ব্যারিকেড। ছবি:‌ সাতদিন

Leave the first comment