কবিতা অধিকারী
শিলিগুড়ি, ১২ ডিসেম্বর
‘বাংলা যা আজ ভাবে, ভারত ভাবে কাল। আর এরা (বিজেপি) সেটা পরশু ভাববে। সেই কারণে বাংলাই নেতৃত্ব দেবে। আমরা ইন্ডিয়াকে নেতৃত্ব দেব। বাংলা থেকেই সর্বত্র নেতৃত্ব দেব। সবাইকে সম্মান দেব। সবার জন্য কাজ করব। সবাই ভাল থাকবে। এই কথা থাকল। সরফরোশি কী তমান্না অব হামারে দিল মে হ্যায়..।’ – মঙ্গলবার শিলিগুড়ি কাঞ্চনজঙ্ঘা ক্রীড়াঙ্গনে দাঁড়িয়ে এই তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য পেশ করলেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। যেভাবে বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটেও অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন মমতা, সেখানে দাঁড়িয়ে এই বক্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলা ছাপিয়ে ক্রমশ যে তিনি গোটা দেশের মুখ হয়ে ওঠার পথে এগোচ্ছেন, সেটা এদিনের বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন তিনি। আর তাই বাংলার প্রতি কেন্দ্রের যে বঞ্চনা, সেটাকে নিয়ে শুধু বাংলায় ভাষণবাজী করতেও রাজি নন তিনি। সোজাসুজি প্রধানমন্ত্রীকে সওয়াল করতে তৈরি হচ্ছেন। সাত দিনের উত্তরবঙ্গ সফর শেষে শিলিগুড়ির সরকারি সভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বললেন,‘আজ আমি ফিরে যাব। ১৭ তারিখে দিল্লি যাব। বাংলার দাবি আদায় করতে। বাংলার যে অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে সেটা ফিরিয়ে আনতে দিল্লি যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেখা করার জন্য সময় চেয়েছি। ১০০ দিনের কাজের জন্য, আমাদের যে যে কাজ বন্ধ করে রেখেছে তার জন্য আমাদের টাকা ফিরিয়ে দাও– এই কথা বলার জন্য দিল্লি যাচ্ছি।’

কেন্দ্রের সরকার যে বাংলার প্রতি প্রতিনিয়ত বঞ্চনা করে চলেছে, সে কথা প্রতিটি সভাতেই জোরের সঙ্গে উচ্চারণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রের বঞ্চনার কারণে এখানকার গরিব মানুষের যে সমস্যা হচ্ছে সে কথা বারেবারে তুলে ধরছেন। এদিনও তিনি বলেন,‘কেন্দ্রীয় সরকার ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। যারা কাজ করেছেন, তাঁদের টাকাও দেয়নি। আবাস যোজনার টাকাও বন্ধ করে দিয়েছে। গ্রামীণ রাস্তার টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। স্বাস্থ্য যোজনার টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। মনে রাখবেন এইটাকা ওদের পকেটের টাকা নয়। আগে আমরা সেলস ট্যাক্স তুলতাম। আমরা সেস তুলতাম। রাজ্য সরকারের টাকা রাজ্য নিজেই আয় করত। কিন্তু এখন একটাই ট্যাক্স। ওয়ান নেশন, ওয়ান ট্যাক্স। কী হল তার পরিণতি ! জিএসটি। নকুলের দানা কিনলেও জিএসটি দিতে হবে। রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে খাবারের দাম ১০০ হলে জিএসটি দিতে হবে ৩০ টাকা। আর এই টাকা চলে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের পকেটে। বিজেপি সরকারের পকেটে। দিল্লি সরকারের পকেটে। আমাদের প্রাপ্য টাকা কেন্দ্রীয় সরকার দিচ্ছে না। কী দোষ করেছে বাংলা। কী দোষ করেছে যারা ১০০ দিনের কাজ করেছে তারা যে আমাদের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে।’ এরপরেই মুখ্যমন্ত্রী রীতিমত হুঁশিয়ারীর সুরে বলেন,‘শুনে রাখুন বিজেপি সরকার। আমরা ভোটের সময় শুধু ৫ কেজি চাল দিই না। আমরা সারা বছর দিই। আবার নির্বাচন আসছে তাই ঘন্টা বাজাচ্ছে। ৫ কেজি চাল দেবে, কতদিন দেবে। ব্যাঙ্ক আ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ করে টাকা ঢুকবে বলেছিল, পেয়েছেন ? পাননি। ২ কোটি চাকরি দেবে বলেছিল, পেয়েছে কেউ ? পায়নি। উপরন্তু ৪০ শতাংশ কর্মসংস্থান কমে গেছে। যেখানে বাংলায় ৪০ শতাংশ কর্মসংস্থান বেড়েছে। এটা আমাদের গর্ব।’
আমরা রাজনীতি কম করি, উন্নয়ন বেশি করি
এদিন শিলিগুড়ি থেকে ১২ হাজার মানুষকে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে সুবিধা প্রদান করে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধীদের শুনিয়ে দিলেন,‘আমরা রাজনীতি কম করি, উন্নয়ন বেশি করি। রাজনীতি ছিল, আছে, থাকবে। তাই শুধু কুৎসা আর অপপ্রচার নয়। গালাগালি নয়। খারাপ কথা বললে মন খারাপ হয়। ইতিবাচক ভাবুন। যে খায় চিনি তাকে জোগায় চিন্তামণি।’
এদিনের অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী উদয়ন গুহ, শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব, অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বুলু চিক বরাইক, এসজেডিএ চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ, উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার চেয়ারম্যান পার্থপ্রতীম রায়, ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার, দার্জিলিং জেলা সিএডিসি চেয়ারম্যান অলোক চক্রবর্তী, জেলাশাসক প্রীতি গোয়েল সহ বিভিন্ন দপ্তরের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।












