Uncategorized, শিলিগুড়ি

বৌদ্ধ গুম্ফা আর বেঙ্গল সাফারির ছোঁয়ায় মাটি এখন সোনা, জমি নিয়ে জালিয়াতি বেতগাড়ায়

জুন 6, 2024

দুরন্ত প্রতিবেদন :‌ ১৫ বছর আগেও যেখানে জমি পাওয়া যেত মাত্র ৫০০০–১০,০০০ টাকা কাঠায়, সেখানকার জমিই এখন কার্যত দুর্লভ। লাখ টাকা কাঠাতেও জমি কেনা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। সৌজন্যে বেঙ্গল সাফারি পার্ক এবং বৌদ্ধ গুম্ফা। শিলিগুড়ি শুধু নয়, গোটা বাংলা এমনকি দেশের বাইরের মানুষও প্রায় রোজই আসছেন বেঙ্গল সাফারি ও বৌদ্ধ গুম্ফা দর্শনে। আর এত পর্যটকের আনাগোনায় বেতগাড়া, তরিবাড়ি তথা লাগোয়া এলাকার মাটি কার্যত সোনায় পরিণত হয়েছে। আর দাম বাড়তেই এই এলাকায় বেড়েছে জমি মাফিয়াদের দাপট। তৈরি হয়েছে সিন্ডিকেট। কোথাও হুমকি দিয়ে, কোথাও জাল দলিল, জাল খতিয়ান তৈরি করে একের পর এক জমি দখল করে চলেছে। কোথাও আবার জমি নিয়ে এমন জট তৈরি করা হয়েছে যে, কে সিন্ডিকেটের লোক আর কে সত্যিকারের জমির মালিক সেটাই ঘেঁটে যাচ্ছে।

‌জমি নিয়ে জালিয়াতি – ১


সম্প্রতি শিলিগুড়ি সালুগাড়ার কাছে বেতগাড়ার নরেশ শৈব ও অজিত শৈব একটি অভিযোগপত্রে জানিয়েছেন, তাঁরা চম্পাসারি মৌজায় এলআর খতিয়ানের আওতাধীন ৫ ডেসিমাল জমি কিনেছিলেন। যার প্লট নম্বর ৩৮৫, ৩৮৬। জে এল নম্বর ৩৪। থানা প্রধাননগর। রেজিস্টার ডিডের সেল বিয়ারিং নম্বর ২৮০৩ (‌২০২১ সাল)‌। কেনার পর নাকি তাঁরা ওই জমি রেকর্ডও করিয়েছেন। যার এল আর খতিয়ান নম্বর ৩২৮ ও ৩২৯। ওই প্লটে মায়া প্রধান নামে আরও একজনের জমি কেনার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। সেই মায়া প্রধান আবার তার সমস্ত জমির পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি নরেশ ও অজিতকেই দিয়েছেন বলে দাবি। ফলে বড়সড় ওই জমিতে তাঁরা একটি গোডাউন তৈরি করে ফেলেছেন। যেখানে তাঁদের ব্যবসায়িক জিনিস যেমন রড, সিমেন্ট, পাইপ, জলের ট্যাঙ্ক সব রাখেন। নরেশ ও অজিতের অভিযোগ, মিনা কুমারি নামের এক মহিলা ও তাঁর বেশ কিছু সহযোগী মিলে ওই জমির জাল কাগজপত্র বের করে দখলের চেষ্টা করছেন। নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ফলে অজিত ও নরেশ শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করে আদালতের মাধ্যমে ওই জমিতে স্টে-‌অর্ডার নিয়ে এসেছেন বলে জানিয়েছেন। আর এই অভিযোগ থেকেই জন্ম নিয়েছে নতুন রহস্যের। কারণ অজিতের ও নরেশের তরফে তাঁদের আইনজীবী জ্ঞানেন্দ্র দেওয়ান যখন মিনা কুমারিকে ব্ল্যাকমেলার বলে সাব্যস্ত করতে ব্যস্ত, তখন মিনা কুমারি জানিয়েছেন,‘‌ওরা পুলিশ কমিশনারের কাছে কোনও অভিযোগই জমা করেনি। এমনকি আদালতে গিয়ে স্টে অর্ডার আনারও ক্ষমতা নেই ওদের। কারণ ওই জমির কাগজপত্র আমার কাছে। এই জমি আমার পৈতৃক সম্পত্তি। কিছুটা কেনা ছিল। সরকার আমাদের ডিড করে তুলে দিয়েছে। কারণ এই জঙ্গল এলাকাতেই আমাদের পূর্বপুরুষদের বসবাস। জঙ্গল থেকে ১৯৬২ সালে জঙ্গল থেকে সরিয়ে পুনর্বাসন স্বরূপ সরকার যেমন কিছু জমি দিয়েছিল, তেমনি সেই সময় প্রয়োজনের তাগিদে কিছু জমি কেনাও হয়েছিল। অথচ সেই জমি এতদিন ঠিক থাকলেও ২০০০ সালের সময় থেকে তার ওপর নজর পড়ে। কারণ ২০১৬ সালের পর থেকেই বেঙ্গল সাফারি, গুম্ফা তৈরি হবার জেরে এলাকার গুরুত্ব বেড়ে যায়। ওরা গুন্ডা মস্তান দিয়ে আমাকে শায়েস্তা করতে চাইছে, কিন্তু আমি বাপ-‌দাদার স্মৃতিচিহ্ন অতসহজে দখল করতে দেব না। ওদের জেলে ঢুকিয়ে ছাড়ব। সব কিছু রেডি করছি।’‌ (‌ক্রমশ)‌

Leave the first comment