দুরন্ত প্রতিবেদন : দার্জিলিং পাহাড়ের প্রত্যন্ত গ্রামগুলি ক্রমশ পুরুষশূন্য হয়ে পড়ছে। এই উদ্বেগজনক তথ্য দিলেন ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্টের (আইজিজেএফ) সুপ্রিমো অজয় এডওয়ার্ডস। শনিবার সন্ধ্যায় শিলিগুড়ি রামকিঙ্কর প্রদর্শনী কক্ষে রাজ্যের প্রাক্তন পুরমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্যের চতুর্দশতম বই প্রকাশ ঘিরে অনু্ষ্ঠান ছিল। সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন অজয় এডওয়ার্ডস। যে মঞ্চে ভারতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া থেকে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের মতন ব্যক্তিরা হাজির ছিলেন। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে অজয় অত্যন্ত ব্যথিত ভাবে জানালেন এই তথ্য। বললেন,‘আমাদের দার্জিলিঙের মানুষ আজ বড় কষ্টে আছেন। যে দার্জিলিং বিশ্বমানের মূল্যবান চা তৈরি করে, সেখানে আগে ব্রিটিশ আমলে বা তার পরেও বিনামূল্যে চাল-গম ও জ্বালানি কাঠ দেওয়া হতো। এখন কাঠের প্রয়োজন পড়ে না, গ্যাস এসেছে। আগে চা বাগান কর্তৃপক্ষ রেশন দিত, এখন সরকার রেশন দেয়। শিক্ষা বা স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে চা বাগান কর্তৃপক্ষের অবদান এখন শূন্য।

আজও মাত্র ২২০ টাকার মজুরিতে চা-শ্রমিকরা দিন কাটাচ্ছেন। যার ফল স্বরূপ আমাদের গ্রামগুলো পুরুষশূন্য হয়ে পড়ছে। পরিবার চালাতে পুরুষরা সব শিলিগুড়ি, ব্যাঙ্গালোর, মাদ্রাজ বা অন্য শহরে কাজের খোঁজে চলে যাচ্ছেন। ঘরে শুধু নারীরা রয়ে গেছেন, কারণ বাচ্চাদের আর শাশুড়িকে ছেড়ে তাঁরা যেতে পারছেন না। ওই ২২০ টাকা দৈনিক মজুরির জন্য ৮ ঘণ্টার প্রচণ্ড শারীরিক পরিশ্রম করতে হয় ! অথচ দার্জিলিঙে আমার রেস্তোরাঁতেই এক কাপ চায়ের দাম ৩০০ টাকা।
আজও মাত্র ২২০ টাকার মজুরিতে চা-শ্রমিকরা দিন কাটাচ্ছেন। যার ফল স্বরূপ আমাদের গ্রামগুলো পুরুষশূন্য হয়ে পড়ছে। পরিবার চালাতে পুরুষরা সব শিলিগুড়ি, ব্যাঙ্গালোর, মাদ্রাজ বা অন্য শহরে কাজের খোঁজে চলে যাচ্ছেন। ঘরে শুধু নারীরা রয়ে গেছেন, কারণ বাচ্চাদের আর শাশুড়িকে ছেড়ে তাঁরা যেতে পারছেন না। ওই ২২০ টাকা দৈনিক মজুরির জন্য ৮ ঘণ্টার প্রচণ্ড শারীরিক পরিশ্রম করতে হয় ! অথচ দার্জিলিঙে আমার রেস্তোরাঁতেই এক কাপ চায়ের দাম ৩০০ টাকা। অথচ সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে একজন শ্রমিক পান মাত্র ২২০ টাকা ! শিয়ালদহ বা এনজেপি স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্যাক্সি পর্যন্ত মাত্র ১৫ মিনিটে কুলির কাজের জন্য মানুষ ২০০, ৩০০ বা ৪০০ টাকা পান, আর পাহাড়ে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি চা বাগানে সারাদিন ৮ ঘণ্টা ভারী কাজ করে এখনও মানুষ রোজ মাত্র ২২০ টাকা পাচ্ছেন!’
অজয় এডওয়ার্ডসের রেঁস্তোরা পৃথিবী বিখ্যাত। ম্যালের একেবারে কাছেই অবস্থিত। যারা দার্জিলিং বেড়াতে যান, তাঁরা যদি ওই রেঁস্তোরার সামনে একটি ছবি না তোলেন,তবে দার্জিলিং বেড়ানো সম্পন্ন হয় না। সেই রেঁস্তোরার মালিকের মুখ নিঃসৃত এমন বক্তব্য নিঃসন্দেহে গোটা সভাকক্ষকে স্তব্ধ করে দেয়।












