দুরন্ত প্রতিবেদন : ‘লড়াই ছাড়া দার্জিলিঙে ষষ্ঠ তফসিল চালু করা যাবে না। লড়াই করতেই হবে। গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ত্রিপুরার অভীজ্ঞতা থেকে এই ধ্রুব সত্যটি উল্লেখ করলাম। উপজাতিদের সঙ্গে অসমেও বিজেপি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি একই রকম। কাজেই এমন একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে দার্জিলিংকে যদি ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করতে হয়, লড়াই করতেই হবে। অশোক ভট্টাচার্য যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে, যে প্রত্যয় নিয়ে, যে স্বপ্ন নিয়ে দার্জিলিংকে মাথায় রেখে কাজ করবার চেষ্টা করছেন— সেই জায়গায় এটাকে বাস্তবায়িত করতে গেলে প্রয়োজন বৃহত্তর ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক আন্দোলন।’— শিলিগুড়ি রামকিঙ্কর প্রদর্শনী কক্ষে দাঁড়িয়ে বাংলায় ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের এই ডাক দিলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার।

শিলিগুড়িতে মানিক সরকারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বাংলার প্রাক্তন পুরমন্ত্রী তথা সিপিএমের প্রবীণ নেতা অশোক ভট্টাচার্য। উদ্দেশ্য অশোকের লেখা ১৪তম বই ‘ভারতের সংবিধানে স্বশাসন এবং ষষ্ঠ তপসিল’ নামাঙ্কিত বই প্রকাশ করানো। আর অশোক ভট্টাচার্যের এই বইটি এমন একটি বিষয় নিয়ে লেখা, যা পাহাড় সমস্যার দীর্ঘদিনের যে রাজনৈতিক সমস্যা, তার সমাধান করে দেবে। বইয়ে তারই প্রস্তাব রয়েছে। দেশে তপসিল অন্তর্ভূক্ত অন্তত ১০টি রাজ্য ঘুরে লেখা এই বই। যার পরতে পরতে দার্জিলিংকে অধিক স্বশাসন দেবার কথা রয়েছে যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে। এ বইটি পড়ে ত্রিপুররা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীও অশোকের ভাবনার সঙ্গে একমত। কিন্তু তিনি সঙ্গে বই প্রকাশের পর এটাও জানান, এই প্রস্তাব খুব সহজে পাওয়া যাবে না। এর জন্য ঐক্যবদ্ধ গণ আন্দোলন করতে হবে। এবং পাহাড়ের জন্য এই আন্দোলনে শিলিগুড়িতেও পথে নামতে হবে।
‘লড়াই ছাড়া দার্জিলিঙে ষষ্ঠ তফসিল চালু করা যাবে না। লড়াই করতেই হবে। গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ত্রিপুরার অভীজ্ঞতা থেকে এই ধ্রুব সত্যটি উল্লেখ করলাম। উপজাতিদের সঙ্গে অসমেও বিজেপি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি একই রকম। কাজেই এমন একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে দার্জিলিংকে যদি ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করতে হয়, লড়াই করতেই হবে।’
মানিক সরকার যখন এই বক্তব্য রাখছিলেন, তখন মঞ্চে ছিলেন ভারতীয় ফুটবলের প্রাক্তন অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া, ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্টের সুপ্রিমো অজয় এডওয়ার্ডস, পাহাড়ের নেতা রোহিত শর্মা প্রমুখ। ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে আপাত অর্থে দার্জিলিঙের স্বায়ী রাজনৈতিক সমাধানের কথা মনে হলেও তিনি প্রকারান্তরে বাংলা বাঁচানোর জন্য আপামর বঙ্গবাসীকে আন্দোলনে নামার ডাক দিয়ে যান।

বইয়ের প্রসঙ্গ থেকে বেরিয়ে মানিক সরকার শনিবার সন্ধ্যায় তুলে ধরেন কীভাবে বিজেপি ২০১৮ সালে ত্রিপুরার মানুষকে বিশেষ করে উপজাতি সম্প্রদায়কে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। ক্ষমতায় এসেই সব ভুলে গেছে। উল্লেখ করেন, কীভাবে সেখানে গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ক্ষমতা বহাল রেখেছে বিজেপি। তার ঠিক পরেই পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গ তুলে বলেন,‘নতুন সরকার এসেছে। ৪ মাস মাত্র বয়স। আপনাদের মধ্যে যারা প্রবীণ মানুষ আছেন, বয়োজ্যেষ্ঠ অভিভাবকতুল্য, যারা ড. বিধান রায় থেকে শুরু করে বর্তমানের মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে অভীজ্ঞতা আছে, কেউ কী বলতে পারবেন ৩ থেকে ৪ মাসের ব্যবধানে নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে আসা একটা সরকার জনসমর্থন হারাতে শুরু করার কারণটা কী? আসলে এরা আক্রমণাত্মক ! গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ করছে। জনজীবনের জ্বলন্ত সমস্যাগুলো— সুরাহা সমাধানের জন্য কার্যকরী কোনও উদ্যোগ নাই। জিনিসের দাম বাড়ছে, টাকার দাম কমছে, মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে, উপার্জন-আয়ের জন্য কাজ নাই কিংবা ক্ষমতা নাই, জীবনযাত্রার মান দ্রুত নীচের দিকে যেতে আরম্ভ করেছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার ওপর আক্রমণ, স্বাস্থ্যের ওপর আক্রমণ, যাদবপুর ইউনিভার্সিটির ওপর যে আক্রমণ সহ্য করতে হচ্ছে— এটা তো দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। কাজেই স্বাভাবিক কারণেই এই সরকারের প্রতি মানুষের সমর্থক-আস্থা কী করে থাকবে?’
৩ থেকে ৪ মাসের ব্যবধানে নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে আসা একটা সরকার জনসমর্থন হারাতে শুরু করার কারণটা কী? আসলে এরা আক্রমণাত্মক ! গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ করছে।
মানিক সরকারের এই বক্তব্যগুলির মধ্যে বাংলার মানুষকে জাগিয়ে তোলার উপাদানই রয়েছে। কারণ ত্রিপুরা এতদিনে বুঝেছে বিজেপি কী ! তাই তিনি এটাও জানিয়ে দেন,‘পশ্চিমবঙ্গের সামনের দিন জটিল দিন, কঠিন দিন।’












