শিলিগুড়ি, সাতরঙ

মিড-‌ডে-‌মিলের লোভে স্কুলমুখী হাতিও

ফেব্রুয়ারি 1, 2024

দুরন্ত প্রতিবেদন

মিড-‌ডে-‌মিলের জন্য স্কুলে পড়ুয়াদের হাজিরা বাড়ছে, এটা সত্য। কিন্তু সেই মিড ডে মিলের লোভে শিলিগুড়ি লাগোয়া ছোটা ফঁাপড়ির স্কুলে ইদানিং বুনো হাতিও আসা শুরু করেছে। তবে হাতি লেখাপড়া করতে নয়, আসছে মিড-‌ডে-‌মিলের ঘর ভেঙে বস্তা ভর্তি চাল সাবার করতে। আর এই চালের বস্তা হাপিস করতে গিয়ে হাতি কখনও স্কুলের গুদামঘরের জানলা ভাঙছে তো কখনও রান্না ঘরের দেওয়াল ভাঙছে। গত রবিবার থেকে হাতির স্কুল আসা নিয়মিত হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় অভিভাবকদের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বহুগুণে। অনেকে সন্তানদের স্কুলে পাঠানোই বন্ধ করে দিয়েছেন। অনেকে স্কুল ঘরের মধ্যে ক্লাস করানোর প্রতিবাদ করছেন। ফলে আপাতত সবদিক ভেবে স্কুলের শিক্ষকরা স্কুল কক্ষ থেকে খানিকটা দূরে খোলা মাঠের মধ্যেই ক্লাস করাচ্ছেন। যাতে আচমকা হাতি ঢুকে পড়লেও অন্তত দৌঁড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে পারেন। যদিও রবিবার থেকে পরপর রাতের ভোররাতের দিকেই হানা দিচ্ছে হাতি। লোকজনের আনাগোনা শুরু হবার আগেই আবার জঙ্গলে ঢুকে পড়ছে। ঘটনাক্রম শিলিগুড়ির খুব কাছে বৈকুণ্ঠপুর ডিভিশনের ছোটা ফাঁপড়ির নেপালি প্রাইমারি স্কুলের।

হাতির ভয়ে মাঠেই চলছে পঠনপাঠন। ছবি:‌ সাতদিন


স্কুলের টিচার ইনচার্জ কুসুম বিশ্বকর্মা বলেন,‘‌এভাবে হাতির পরপর হানার কারণে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চাইছেন না। আমরাও তো ভয়ে থাকি। ফলে নামমাত্র পড়ুয়াকে নিয়ে ক্লাস শেষ করে দ্রুত বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি।’‌ অভিভাবকরা জানান,‘‌স্কুলের চারপাশে শক্ত দেওয়ালে ঘিরে দেওয়া দরকার। সেটা হচ্ছে না। ফলে ভয় তো থাকবেই।’‌ বৈকুণ্ঠপুর বন বিভাগের ডাবগ্রাম রেঞ্জের রেঞ্জার শ্যামাপ্রসাদ চালকাদার জানান,‘‌আমাদের বনকর্মীরা নিয়মিত কাজ করছে৷ তবে সঠিক সময়ে খবর না পেলে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। এর আগে স্কুলের বাইরে ফেন্সিং দেওয়া হলেও চুরি হয়ে যায়। আবার দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে এক্ষেত্রে মানুষকেও সচেতন হতে হবে।’‌

মঙ্গলবার রাতে স্কুলের এই জানালা ভেঙে চালের বস্তা ও অন্যান্য সবজি নিয়ে চলে গেছে হাতি। ছবি:‌ সাতদিন

Leave the first comment