দুরন্ত প্রতিবেদন: ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি বিধানসভা ভোটের সুর বেঁধে দিয়েছেন। আগামী বিধানসভা পর্যন্ত বাঙালি ও বাংলা ভাষার মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখা নিয়েই যে আন্দোলন চলবে, সেটা পরিস্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে শিলিগুড়িতে শুভেন্দু অধিকারির নেতৃত্বে উত্তরকন্যা অভিযানে বিজেপিও তাঁদের অবস্থান পরিস্কার করে। শুভেন্দু জানিয়ে দেন,‘ভোটার তালিকা থেকে প্রতিটি রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী মুসলমানকে বিদায় দেব।’ অর্থ্যাৎ বাঙালির ওপর নামিয়ে আনা অত্যাচার ও ভোটার তালিকায় কারা থাকবে, কারা থাকবে না, এসব বিতর্ক নিয়েই রাজ্য পরিচালনার জন্য অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ ভোট হতে চলেছে। আর এসবের মধ্যে খুব সহজেই চাপা পড়ে গেল বাংলার হাজার হাজার যুবকের চাকরির কথা, উত্তরবঙ্গে এইমস স্থাপনের কথা, সরকারি স্কুলের প্রাণ ফেরানোর কথা, উত্তরের বন-জঙ্গল বাঁচানোর কথা, চা-বাগানের শ্রমিকদের দুর্দশার কথা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কথা ইত্যাদি ইত্যাদি।


উত্তরবঙ্গের প্রায় প্রতিটি নদীতে বে-আইনি বালিখাদান, শহর ও শহরতলিতে ভয়ঙ্কর প্রোমোটর রাজ, বে-আইনি নির্মাণের রমরমা কারবার, গোটা উত্তরবঙ্গে ড্রাগ মাফিয়াদের দাপাদাপি, জঙ্গল মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য, উপার্জন কমে যাওয়া মধ্যবিত্তদের কঠিন জীবন সংগ্রাম, চুরি ডাকাতি ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের বাড়বাড়ন্ত, উত্তরবঙ্গের পরিবেশ ও জলবায়ুর কঠিন পরিস্থিতি, বন্ধ হয়ে যাওয়া ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা নিয়ে কেন্দ্রের দায়বদ্ধতার কথা — সবই হাপিশ হয়ে গেল। বিজেপি এসবের পরিবর্তে কালী, দুর্গা, চন্ডী আর হর হর মহাদেব ধ্বনি তুলে নিজেদের ধর্মাবতার প্রমাণ করার নয়া নজির তৈরির চেষ্টা করলেন।
২১শে জুলাইয়ে কার্যত আবারও একটা ‘খেলা’র ঘোষণা হল। বাঙালির আবেগ নিয়ে খেলা। বাঙালির স্বার্থকে সুক্ষ্ণভাবে সরিয়ে রাখার খেলা। কারা খেলবে তাও ঠিক হল। তৃণমূল ও বিজেপি। দুটি দলই উচ্চকণ্ঠে প্রধান প্রতিপক্ষের নাম ঘোষণা করল। আশপাশ থেকে বামেরা আওয়াজ দেবার চেষ্টা করল বটে। তবে সেই মিউ মিউ আওয়াজ বেশিদূর পৌঁছল না।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা আসছে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারেও ধর্ম ও ভাষা নিয়ে বাকযুদ্ধ চলবে। উন্নয়ন, সমস্যা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কোনও আশ্বাস, প্রতিশ্রুতি কিংবা দাবি দাওয়া ধ্বনিত হবে না। ৫ বছর ধরে মানুষ যে দাবি দাওয়ার তালিকা তৈরি করেছিল, সেসব ফ্যাকাশে হয়েই থাকবে। বড় ইস্যু হয়ে উঠবে ভাষা আন্দোলন।












