দুরন্ত সাতদিন : ‘চব্বিশে লোকসভা ভোটের ভুলগুলি থেকে শিক্ষা নিন। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগেই সেই ভুল শোধরান। নইলে সাতাশের পুরভোটে কোনও কাউন্সিলরের পাশে দল থাকবে না।’ শিলিগুড়ি শহরের ৩৩টি ওয়ার্ডে লোকসভা ভোটের পর্যালোচনা বৈঠকে এভাবেই হুঁশিয়ারী দিয়েছেন দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের (সমতল) সভানেত্রী পাপিয়া ঘোষ। তিনি বলেছেন,‘২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে যদি ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে দলকে জেতাতে কার্যকরী ভূমিকা না নিতে পারেন, তবে ২০২৭ সালের পুরনিগমের নির্বাচনেও দল কাউন্সিলরদের দেখবে না।’ অর্থ্যাৎ জেলা সভানেত্রীর এই কড়া বার্তার মধ্যে পরিস্কার ইঙ্গিত, যে কাউন্সিলরদের হাতে ২ বছর সময় আছে। কোনও ওয়ার্ডে যদি সংগঠনে কোনও ঘাটতি থাকে, সেটা লোকসভা ভোটের ফলাফল দেখে বুঝে নিন। তারপর সেই ঘাটতি দেখে বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি নিন। কিন্তু বিধানসভা ভোটেও যদি সংগঠনকে মজবুত রাখার বিষয়ে অবহেলা থাকে তবে সেই কাউন্সিলরকে পরের পুরনির্বাচনে টিকিট দেবার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করবে।

শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত শিলিগুড়ি বিধানসভার ৩৩টি ওয়ার্ড নিয়ে লোকসভা ভোটের পর্যালোচনা বৈঠক করেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। সেখানে সভানেত্রী পাপিয়া ঘোষ, চেয়ারম্যান অলোক চক্রবর্তী, দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী গোপাল লামা, জয়ন্ত কর, মিলন দত্ত, দীপক শীল, মদন ভট্টাচার্য, অসীম অধিকারী থেকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর, সব ওয়ার্ডের দলীয় সভাপতিরা হাজির ছিলেন। পাপিয়া ঘোষ সেখানে জানতে চান, প্রতিটি ওয়ার্ডে তৃণমূলের লিড কতটা থাকতে পারে, কিংবা কোথাও লিড না হলেও কতটা পিছিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। নেত্রীর প্রশ্নের জবাবে বেশিরভাগ কাউন্সিলর মূল প্রশ্ন এড়িয়ে নানা সমস্যা, অন্য দলের কী অ্যাডভান্টেজ ছিল সেসব নিয়েই সময় ব্যয় করেন। এতে বিষম ক্ষুদ্ধ হন জেলা সভানেত্রী থেকে জেলা নেতৃত্ব।
শিলিগুড়ি শহর তৃণমূলে পর্যালোচনা বৈঠক
এমনকি কাউন্সিলরদের উত্তর শুনে পরে বাইরে বেরিয়ে এসে প্রার্থী পর্যন্ত অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বলেন, অনেকেই প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে পারছেন না। এরা যা হিসেব দিচ্ছেন আমি তার চেয়ে অনেক বেশি ভোট পাব।’ এরপরেই সভানেত্রী প্রত্যেককে একটি ফরম দিয়ে সেটা পূরণ করে ৪ দিনের মধ্যে জমা করতে নির্দেশ দেন। তাতে প্রতিটি বুথে মোট ভোটার, প্রদত্ত ভোট এবং তৃণমূলের পক্ষে কত ভোট পড়তে পারে তার একটা সম্ভাব্য অঙ্ক জানাতে বলা হয়েছে। রেজাল্টের পর এই হিসেব মিলিয়ে দেখা হবে। সেখানেই বোঝা যাবে বুথের সঙ্গে কাউন্সিলর কিংবা ওয়ার্ড সভাপতির যোগাযোগ কতটা ছিল। পাপিয়া ঘোষ জানান,‘এই হিসেব নিকেশ আসলে ২৬ সালের বিধানসভার প্রস্তুতি। কিছু ভুল থাকতেই পারে। এবারের ফলাফলে সেটা পরিস্কার হবে। কিন্তু সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে শুধরাতে হবে। নইলে দল তাঁর কথা ভাবে কেন!’ তবে চেয়ারম্যান অলোক চক্রবর্তী জানান,‘পর্যালোচনায় একটা বিষয় বোঝা গেছে যে, বিগত লোকসভা ভোটে যে বিপুল ঘাটতি ছিল, এবারে সেটা মিটে যাবে। ভারসাম্য আসবে।’












