রাজনীতি, শিলিগুড়ি

কোথায় ক্ষয়, কোথায় বিচ্যুতি, দার্জিলিং জেলা সম্মেলনে খুঁজবেন সিপিএম নেতারা

জানুয়ারি 7, 2025

দুরন্ত প্রতিবেদন :‌ ২০১১ সালে বাংলায় বাম-‌বিপর্যয়ের পর দার্জিলিংই একমাত্র জেলা যেখানে মানুষের সমর্থন পুনরুদ্ধার করতে পেরেছিলেন বামেরা। তৃণমূলের জয়জয়কারের মধ্যেই বামেরা দখল করতে পেরেছিলেন শিলিগুড়ি পুরনিগম এবং শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ। এমনকি ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শিলিগুড়ি বিধানসভা আসনেও জয়ী হয়েছিলেন বামেরা। অথচ ২০১৯ সালের পর থেকে এখানেও মানুষের সমর্থনে ক্ষয় হতে শুরু করে। বামেদের ভোট কব্জা বিজেপির মতো দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাম-‌কংগ্রেসের হাত থেকে সমস্ত বিধানসভা আসন চলে যায়। ২০২২ সালে শিলিগুড়ি পুরনিগম ও শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদও প্রথমবারের জন্য দখল করতে সমর্থ্য হয় তৃণমূল। এই মুহূর্তে বামেরা বিরোধী দলের তকমা থেকেও শতযোজন দূরে। পাহাড়ে তো আরও করুণ অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে বামেদের অবস্থান কী হওয়া উচিৎ? পাহাড়ের মানুষের দাবিদাওয়াকে মর্যাদা দিয়ে কীভাবে বিকল্প সমাধানের পথ তৈরি করতে পারবেন? সেসব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা নিয়েই সিপিএমের ২৪তম দার্জিলিং জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আগামী ২৪ ও ২৫ জানুয়ারিতে। দুইদিন শিলিগুড়ি মিত্র সম্মেলনী সভাকক্ষে গুরুগম্ভীর আলোচনা চলবে জেলা নেতাদের মধ্যে। ‌একসময়ের দাপুটে মন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্য জানান,‘‌মূলত তিনটি ভাগে আলোচনা হবে। প্রথমত সাংগঠনিক বিষয়। যেখানে চর্চা হবে বিগত সম্মেলনের। সেখানে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা কতটা সঠিক ছিল কিংবা কতটা বেঠিক। কী সংশোধন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আন্দোলন সংগ্রামের বিষয় আলোচনা হবে। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে জেলা থেকে রাজ্যপর্যায়ে আলোচনা হবে। আমরা খুঁজব বিজেপির মতো সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিস্ট একটা দল কীভাবে বামসমর্থনকে ছিনিয়ে নিতে পারছে, কীভাবে আমরা আজ চ্যালেঞ্জের মুখে এসে দাঁড়িয়েছি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার রাস্তা খুঁজব।’‌

দার্জিলিং জেলা সম্মেলন উপলক্ষে সিপিএম নেতাদের সাংবাদিক সম্মেলন। শিলিগুড়ি অনিল বিশ্বাস ভবনে। ছবি:‌ সাতদিন


তবে এবারের সম্মেলনের একটা বড় অংশ জুড়ে থাকবে পাহাড়ের সমস্যা। সুবাস ঘিসিংয়ের আমলেই ষষ্ঠ তপশীল নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বামেরা চেয়েছিল পাহাড়ে অধিক স্বায়ত্ত্বশাসনের ব্যবস্থা করতে। কিন্তু পরবর্তীতে ঘিসিংয়ের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে বিমল গুরুং গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন মারাত্মক ভাবে শুরু করেন। ২০১১ সালে তৃণমূল বাংলার ক্ষমতায় এলে জিটিএ (‌‌গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)‌ এর মাধ্যমে আন্দোলন বন্ধ করার ব্যবস্থা করেন।

‘‌২০১৪ সালে ২১তম সম্মেলনে পাহাড়ের জনজাতিদের দাবি দাওয়া, আবেগ আকাঙ্খার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সেই আলোচনা অসম্পূর্ণ ছিল। এবারে নতুন করে সেই আলোচনা হবে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে।’‌

কিন্তু বামেরা বারেবারে বলেছিলেন, জিটিএ পাহাড় সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। সেটা প্রমাণ হয়েছিল ২০১৭ সালে। জিটিএ থাকা সত্ত্বেও সেসব ছেড়ে বিমল গুরুং পুনরায় হিংসাত্মক আন্দোলনের পথে পা বাড়ায়। যদিও সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে তৃণমূল সরকার, কিন্তু গোর্খাদের মন থেকে জাতিস্বত্ত্বার আন্দোলনকে মুছে ফেলা যায়নি। যে কোনও সময় সুযোগ পেলেই পাহাড় অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন অনেকেই। এই অবস্থা যাতে তৈরি না হয়, তার জন্যই একটা বিকল্প ব্যবস্থা, সমাধানের বিকল্প পথ খুঁজছেন বামেরা। অশোক ভট্টাচার্য জানান,‘‌২০১৪ সালে ২১তম সম্মেলনে পাহাড়ের জনজাতিদের দাবি দাওয়া, আবেগ আকাঙ্খার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সেই আলোচনা অসম্পূর্ণ ছিল। এবারে নতুন করে সেই আলোচনা হবে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে। আমাদের মতের সঙ্গে মিল না থাকলেও পাহাড়ি জনজাতিদের আকাঙ্খাকে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েই খুঁজব সুরাহার পথ। কোনওভাবে তাঁদের অশ্রদ্ধা করে কিছু সিদ্ধান্ত হবে না।’‌

Leave the first comment