বনানী বিশ্বাস : দু’দিন আগেই ছিল শিলিগুড়ি পুরনিগমের বোর্ড মিটিং। সেখানে বাম কাউন্সিলর শরদিন্দু চক্রবর্তী রামকৃষ্ণ মিশন নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করতে গেলে বাদ সাধেন তৃণমূলের চেয়ারম্যান প্রতুল চক্রবর্তী। ওয়াক আউট করেন ৪ সিপিএম কাউন্সিলর। বাম পরিষদীয় দলনেতা নুরুল ইসলাম হুঁশিয়ারী দিয়ে জানিয়ে এসেছিলেন,‘বোর্ড মিটিংয়ে বলতে দিচ্ছেন না, আমরা বাইরে গিয়ে মানুষের কাছে বলব।’ হুঁশিয়ারীর ৪৮ ঘন্টা পার না হতেই তৃণমূলের পুরবোর্ডকে হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিলেন। আর জল নিয়ে বামেদের তুমুল বিক্ষোভে সমর্থনও মিলল হাজার হাজার মানুষের। যা নিঃসন্দেহে গৌতম দেব পরিচালিত শিলিগুড়ি পুরবোর্ডের কাছে বড় ধাক্কা। কারণ, মহানন্দার দূষিত জল সরবরাহের ঘটনা শহরে আপামর মানুষের আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। কেউ পুরনিগমের এই ভুলকে মার্জনা করতে নারাজ। মেয়র মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে জল না খেতে অনুরোধ করার ঘটনা উল্টে মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করে। আর এই মোক্ষম সময়ে সিপিএমের আন্দোলন মানুষের ব্যাপক সমর্থন পাওয়ায় সিপিএম নেতাকর্মীরাও উজ্জীবীত হয়ে ওঠেন।


এদিন তরুণ সিপিএম নেতা যেমন সৌরভ দাস, উদয়ন দাশগুপ্ত, সাগর শর্মা, দীপ্ত কর্মকার, মৌসুমী হাজরা, সৌরভ সরকার, অঙ্কিত দে-রা যেভাবে বুক চিতিয়ে তৃণমূল পুরবোর্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে, সেটি প্রবীণ নেতাদের মুগ্ধ করেছে। এমনকি শহরের প্রচুর মানুষের প্রশংসাও কুড়িয়ে নিয়েছে। আর তরুণদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যেভাবে অশোক ভট্টাচার্য, জীবেশ সরকার, নুরুল ইসলামরা নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেটাও ছিল দেখার মতো।
পুরবোর্ড বামেদের হাতে থাকার সময় তৃণমূল যেভাবে আন্দোলন সংঘটিত করেছে, এখন বামেরা তেমন আক্রমণাত্মক না হওয়ায় অনেকেই বলা শুরু করেছিলেন, ‘এদের দিয়ে কিচ্ছু হবে না।’ কিন্তু বৃহস্পতিবারের আন্দোলন মানুষের ধারণা পাল্টে দিয়েছে।












