দুরন্ত প্রতিবেদন
লোকসভা ভোট ঘোষণা হতে পারে যে কোনও দিন। তাই গোটা রাজ্যের ৪২টি আসনে তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণার পরই আচমকা উত্তরবঙ্গ সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মনে করা হচ্ছে নির্বাচনের আগে এটাই মুখ্যমন্ত্রীর শেষ সরকারি সফর। আজ মঙ্গলবার বেলা ২টায় বাগডোগরা বিমানবন্দর হয়ে উত্তরকন্যা আসার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। আজই বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে বিশেষ বৈঠক রয়েছে পাহাড়ের উন্নয়ন পর্ষদগুলির সঙ্গে। এই বৈঠকের জন্য স্থান নির্বাচন করা হয়েছে শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চ। কাল বুধবার আরও একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন শিলিগুড়ি লাগোয়া জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের ফুলবাড়িতে। প্রাথমিকভাবে যেটা জানা গেছে তাতে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ) আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য সম্প্রতি সস্তার ফ্ল্যাট বিলি করেছে। লটারির মাধ্যমে ৪২২টি ফ্ল্যাট বন্টন করলেও সেইসব ফ্ল্যাটের চাবি প্রাপকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েনি। এসজেডিএ’র চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী প্রথম থেকে জানিয়ে আসছিলেন, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কমদামে এত ফ্ল্যাট রাজ্যের আর কোথাও দেওয়া হয়নি। ফলে এই ফ্ল্যাটের চাবি মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়েই তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বুধবার মূলত সেই চাবি তুলে দেওয়ার কাজটি করবেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি আরও কিছু সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বিলি করতে পারেন। এরইসঙ্গে ঘোষণা করতে পারেন নতুন কিছু প্রকল্প। দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী পাপিয়া ঘোষ জানান,‘মুখ্যমন্ত্রী দুটি অনুষ্ঠানে থাকবেন। তবে গোটা অনুষ্ঠানের সূচি আমাদের হাতে আসেনি। বুধবারের অনুষ্ঠানে ফ্ল্যাটের চাবি তুলে দেবেন বলেই আমরা জানি। তার সঙ্গে অবশ্যই মুখ্যমন্ত্রী মূল্যবান বক্তব্য পেশ করবেন আমাদের জন্য।’
এদিকে ভোটের মুখে পাহাড়ের ১৫টি উন্নয়ন পর্ষদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৪ সালের পর থেকে মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ের জনজাতিদের জীবন ও সংস্কৃতির বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেন। উপহার দেন লেপচা উন্নয়ন পর্ষদ সহ তামাং, শেরপা, ভুটিয়া, লিম্বু, মঙ্গর, খাম্বু রাই সহ মোট ১৫টি উন্নয়ন পর্ষদ। এই পর্ষদগুলির জন্য অর্থও বরাদ্দ হয়। সেই টাকায় নির্দিষ্ট জনজাতির জন্য বাড়িঘর, স্কুল, জনজাতির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বাঁচানোর নানা কর্মসূচি নেওয়ার কথা বলা হয়। সেই কাজ হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে বোর্ডের কাজ নিয়ে অভিযোগ উঠতে শুরু করলে অর্থ বরাদ্দও কমে যায়। ২০২১ সালের পর অনেক বোর্ড নাকি অর্থ পাচ্ছে না। এমনকি তাঁরা পর্ষদের অফিস পর্যন্ত চালাতে পারছেন না। সম্প্রতি সমস্ত বোর্ডের অডিট সম্পন্ন হয়েছে। মনে করা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী কাজের ভিত্তিতে ফের বোর্ডগুলিকে চাঙ্গা করতে বিশেষ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। দু’দিনের কর্মসূচি শেষ করে বুধবার বিকেলে কিংবা বৃহস্পতিবার দুপুরে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন।












