দুরন্ত প্রতিবেদন :
ভোটে ব্যস্ত রাজনৈতিক নেতা থেকে ক্লাব সংগঠনের কর্মকর্তারা। ব্যস্ত প্রশাসনও। যে ব্যস্ততার মধ্যে একপ্রকার স্তব্ধ হয়ে গেছে রক্তদান কর্মসূচি। আর এতেই উত্তরবঙ্গের প্রায় প্রতিটি ব্লাডব্যাংকে ব্যাপক রক্ত সংকট দেখা দিয়েছে। রক্ত নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই সংকট চলছে গোটা রাজ্যে। ফলে রোজ নার্সিংহোম কিংবা হাসপাতাল থেকে রোগীর পরিজনরা বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীদের কাছে ফোন করে প্রায় পাগল করে তুলছেন রক্তের জন্য। কিন্তু এরপরও রক্তদান শিবির নেই। কেউ স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়েও আসছে না। এই কঠিন পরিস্থিতিতে ব্লাডব্যাংকের রক্ত সংকট মেটাতে শিলিগুড়িতে সংঘবদ্ধ হলেন প্রায় ২৭টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তাঁরা আগামী ৭ এপ্রিল শিলিগুড়ি বাঘাযতীন পার্কে একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে ব্যাপক প্রচার শুরু করেছেন।
রক্ত সংকট মেটাতে শিলিগুড়িতে সংঘবদ্ধ হলেন প্রায় ২৭টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তাঁরা আগামী ৭ এপ্রিল শিলিগুড়ি বাঘাযতীন পার্কে একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে ব্যাপক প্রচার শুরু করেছেন।
শিলিগুড়ি সোশ্যাল ওয়ার্কার অ্যাসোসিয়েশন নামের ফোরামের কর্মকর্তা পীযুষকান্তি রায়, অরিন্দম সান্যাল, রবিন মজুমদার, প্রিয়া রুদ্ররা জানান,‘আপাতত রক্তের সংকট মেটানো ভীষণ প্রয়োজন। এতটা সংকট হয়ে পড়েছে যে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের রক্তের জন্য ডোনার সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার নিদান দিচ্ছে ব্লাডব্যাঙ্কগুলি। যা কখনও দেখা যায়নি। আমরা তাই রোজ পথসভা করে মিছিল করে মানুষকে আবেদন করছি, দয়া করে ৭ এপ্রিল রক্তদান করতে আসুন। অসহায় মানুষকে বাঁচার সুযোগ করে দিন।’

প্রিয়জন সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সংস্থার অরিন্দম সান্যাল জানান,‘শিলিগুড়িতে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৬টি ব্লাড ব্যাংক রয়েছে। যেখান থেকে রোজ অন্ততপক্ষে ৬০-৭০ ইউনিট রক্ত সরবরাহ করতে হয়। এখন সেই সরবরাহ বন্ধ। কারণ স্টকে রক্ত নেই। ফলে মুমূর্ষ রোগীকে রক্ত দিতে হলেও ডোনার জোগাড় করে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। শুধুমাত্র বি পজিটিভ গ্রুপের কিছু রক্ত পাওয়া যাচ্ছে। বাকি উধাও।’ উল্লেখ্য, শুধুমাত্র শিলিগুড়ি ও লাগোয়া এলাকায় মাসে মাত্র ৭৫ থেকে ৭৮টি রক্তদান শিবির হয়। তা থেকে রক্ত সংগ্রহ হয় প্রায় ৩৫০০ ইউনিট। মাসে ৩৫০০ মানুষ রক্ত দান করেন এখানে। অথচ ওই এলাকায় লোকসংখ্যা ১১ লক্ষের বেশি। এত মানুষের মধ্যে রক্তদান করেন মাত্র ০.৩৫%। ভোটের জন্য এই শিবিরও প্রায় বন্ধ। ফলে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। সমাজসেবীরা তাই রাজনৈতিক দলগুলির কাছে আবেদন করছেন, যাতে ভোট প্রচারের মধ্যেও রক্তদান শিবিরকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তাহলে সমস্যা অনেকটাই মিটবে।












