কবিতা অধিকারী ● শিলিগুড়ি
পরপর এটিএম লুঠ, সোনার দোকানে ডাকাতি, পাড়ায় পাড়ায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতঙ্ক গ্রাস করেছিল শিলিগুড়ি শহরে। ধারাবাহিক অপরাধের ঘটনায় সাধারণ মানুষ পুলিশের ওপর প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি পুলিশের ব্যর্থতা নিয়ে সরব হন। ফলে শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খোদ পুলিশ কমিশনার সি সুধাকর নিজে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে রাতের শহরে নেমে পড়েন। চলে নজরদারি। বিগত এক সপ্তাহে শহরে সেভাবে ছিনতাই কিংবা লুটপাটের ঘটনা আর ঘটেনি। ফলে শহরবাসী কিছুটা স্বস্তির শ্বাস ফেলার মুহূর্তে ফের বড়সড় এটিএম লুঠের ঘটনা ঘটল। এবার রাত ৩টা নাগাদ ঘটনাটি হল শিলিগুড়ি আশিঘর মোড় লাগোয়া লোকনাথ বাজার এলাকায়।

জানা গেছে, সাদা রঙের গাড়িতে এসে গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে এটিএম কাউন্টারে ঢোকে। এরপর সিসিটিভিতে স্প্রে করে ঝাপসা করে দেয়। এরপর গ্যাস কাটার দিয়ে মেশিন কেটে আনুমানিক ২০ লক্ষ টাকা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। এই ভাঙাভাঙির সময় কাউন্টারে আগুন ধরে যায়। দুস্কৃতী দল তখন গাড়ি নিয়ে পালাতে শুরু করে। তখনই নজরে পড়ে পুলিশ ভ্যানের। তাড়া করলেও পালাতে সমর্থ্য হয়। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গাড়ির নম্বর বোঝার চেষ্টা করতেই খবর আসে শিলিগুড়ি হিমাচল বিহার এলাকায় ওই সাদা রঙের গাড়িটি পড়ে আছে। পরে তাঁর মালিকের খোঁজও মেলে। গাড়ির খোঁজ মিলতেই জানা যায় নতুন ঘটনা। গাড়িটি অম্বিকানগর মাঠে একজন রোজ রাতে রেখে দেন। দুস্কৃতীরা সেই গাড়িই সেখান থেকে চুরি করে নিয়ে এসে লুঠ করে গাড়ি রেখে অন্য গাড়িতে চম্পট দেয়। এতে করে পুলিশ মহা ফ্যাসাদে পড়ে যায়। এই কায়দা যে আখেরে পুলিশকে চ্যালেঞ্জ করা, সেটা আর বুঝতে বাকি থাকে না।
তারপরেও শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি (ইস্ট) রাকেশ সিং জানান,‘আমরা সমস্ত থানাকে সতর্ক করেছি। আশা করছি দুস্কৃতীদের খোঁজ বের করতে পারব।’
এদিকে এটিএম মেশিনে আগুন লাগায় সেখানে ছুটে আসতে হয়, দমকল বাহিনীকে। তারা আগুন নেভাতে সক্ষম হলেও জানান, মেশিন পুরো তছনছ হয়ে আছে।
এভাবে ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে লুঠের ঘটনা নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে শিলিগুড়ি শহরে।












