রাজনীতি

রাজবংশী ভোটে থাবা বসাতে লোকসভার আসরে এপিআই

এপ্রিল 22, 2024

দুরন্ত প্রতিবেদন:‌

বাম-‌বিজেপি-‌তৃণমূলের পাশাপাশি এবারের লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গের ৭ আসনে লড়াই করছে নবগঠিত একটি ফ্রন্ট। যে ফ্রন্টের দলগুলিও প্রায় নতুন। এর মধ্যে যেমন রয়েছে আদিভূমিসন্তান পার্টি (‌এপিআই)‌, তেমনি রয়েছে নর্থবেঙ্গল পিপলস পার্টি (‌এনবিপিপি)‌। আর এই নতুন দল গুলিকে নিয়ে মাথাব্যাথা শুরু হয়েছে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে। কারণ এই দলগুলি রাজবংশী, মতুয়া, মুসলিম, নমশূদ্র, গোর্খা, আদিবাসী জনজাতির মানুষের সম্মিলীত মঞ্চ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ডে তিতিবিরক্ত হয়ে গঠিত এই পার্টিগুলির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ইতিমধ্যে হইচই শুরু হয়ে গেছে। এরা যেমন বংশীবদন বর্মন, অনন্ত মহারাজদের অবস্থান নিয়ে ক্ষুদ্ধ, তেমনি এরা পৃথক কামতাপুর কিংবা পৃথক গোর্খাল্যান্ডেরও বিরুদ্ধে। বরং এই দলগুলির সম্মিলীত দাবি আলাদা উত্তরবঙ্গ। যেখানে উত্তরবঙ্গের সমস্ত জনজাতি নিজের মতো করে বাঁচতে পারবেন। আর এই দলগুলির টার্গেট উত্তরবঙ্গের রাজবংশী, আদিবাসী, পিছিয়ে পড়া মুসলিম, মতুয়া কিংবা গোর্খা ভোট। এবারে তাঁরা উভয় দল মিলে কোচবিহার থেকে মালদা পর্যন্ত ৭ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। দার্জিলিং আসনে প্রার্থী দিয়েছে এপিআই পার্টি। প্রার্থীর নাম কালীচরণ বর্মন।

দার্জিলিং আসনে প্রার্থী দিয়েছে এপিআই পার্টি। প্রার্থীর নাম কালীচরণ বর্মন।

এপিআই পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হরেকৃষ্ণ সরকার শিলিগুড়ি জার্নালিস্টস ক্লাবে এসে জানান,‘‌তৃণমূল ও বিজেপি এই রাজ্যে নাগরিকত্বের নামে ভয় দেখিয়ে খেলা চালাচ্ছে। ধর্ম এমনভাবে মানুষের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে। কিছু বুঝতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি ও তৃণমূলের প্রচুর মানুষ আমাদের দলে চলে আসবেন। লোকসভা ভোটের পরেই এই যোগদান হবে।’‌ সিএএ ও এনআরসি আসলে ভন্ডামি বলে জানিয়েছেন হরেকৃষ্ণ বাবু। এসব করে বিজেপি যে আসলে ভয়ঙ্কর দানবের মতো এসে আমাদের গিলে খাবে, সেই পরিপ্রেক্ষিত তৈরি করছে। তাই আমরা আমাদের জন্য লড়াইয়ে নেমেছি বলে হরেকৃষ্ণ সরকার জানান। দলের নেতা সোমনাথ বর্মন জানান, সব রাজবংশী গ্রেটার নয়। এই কথাটির মধ্যে স্পষ্ট যে রাজবংশী মানুষ অনন্ত মহারাজ বা বংশীবদন বর্মনদের শাসকপ্রীতি ধরে ফেলেছে। তাঁরা নতুন পথ খুঁজছে। আর সেই রাস্তা খোঁজ দিতে ময়দানে নেমেছে এপিআই। মতুয়ার প্রসঙ্গ উঠতেই হরেকৃষ্ণ সরকার এদিন বলেন,‘‌‌মুকুল বৈরাগ্য মহা চামচায় পরিণত হয়েছে’।

Leave the first comment