রাজনীতি, শিলিগুড়ি

পুরভোট থেকে শিলিগুড়ির ৫০ হাজার বাদ !‌

সেপ্টেম্বর 16, 2026

দুরন্ত প্রতিবেদন :‌ বিধানসভা হোক কিংবা পুরসভা, আসন পুনর্বিন্যাস করলে সেখানে আসন ভিত্তিক নতুন ভোটার তালিকা করা অনিবার্য। আর নতুন ভোটার তালিকা মানেই সেখানে সংযোজন বিয়োজনের বিষয় থাকবে। অনেক নতুন ভোটার আছেন, যাদের হয়তো বিগত ভোটের সময় ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি। সেটা ১ দিনের জন্যও হতে পারে। সেই সব ভোটারদের নতুন লিস্টে নাম থাকা গণতান্ত্রিক অধিকার। পাশাপাশি এসআইআরের জেরে শহরের যারা বিচারাধীন হয়ে ছিলেন, তাঁদের নাম তালিকায় এখনও যুক্ত হয়নি। এই নামগুলি যদি ভোটার তালিকায় না ওঠে, তবে বিরোধীদের হিসেব অনুযায়ী অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পুরভোট দিতে পারবেন না। ভোট থেকে বঞ্চিত থাকবেন।
উল্লেখ্য, ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবারেও শিলিগুড়ির মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, শিলিগুড়িতে বিন্যাস নয়, ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়ছে মাত্র। শঙ্কর ঘোষের এই মন্তব্যের মধ্যে বিশাল রহস্য রয়েছে।


আসলে বিজেপি সরকার শিলিগুড়ি পুরনিগমের ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এমনভাবে করতে চাইছে, যার মধ্যে যুক্তির পরিমাণ কম। সিপিএমের রাজ্য নেতা দিলীপ সিং জানান,‘‌পুরপ্রশাসন এখনও জানাতে পারেনি শিলিগুড়ির ৪৭টি ওয়ার্ড যে ভাঙা হচ্ছে, সেসব কিসের ভিত্তিতে?‌ ওয়ার্ডের আয়তন নাকি জনসংখ্যায় সমতা আনার ভিত্তিতে?‌ যেভাবে ১৪টি ওয়ার্ড ভাঙার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে কোনও নিয়মই খাটছে না। এই বিন্যাসে সমস্যা মিটবে না, হয়তো বিজেপির ব্যক্তিগত সুবিধা হতে পারে।’‌

পুরনিগমের বিদায়ী বোর্ডের বাম পরিষদীয় দলনেতা সিপিএমের নুরুল ইসলাম পরিষ্কার জানিয়েছেন, বিজেপি দলীয় এজেন্ডায় ওয়ার্ড ভাগ করছে। এতে মানুষের যেমন লাভ হবে না, পরিষেবাও সঠিকভাবে দেওয়া যাবে না। কারণ ভাঙার পরেও কোনও ওয়ার্ডে ৩ হাজার আবার কোনও ওয়ার্ডে ১২ হাজার জনসংখ্যাই থাকবে। প্রায় ১৩ হাজার জনসংখ্যার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড অক্ষত রেখে ১০ হাজার জনসংখ্যার ২৪ নম্বর ওয়ার্ড ভাঙার কথা বলা হচ্ছে। এতে ২৪ নম্বর ভেঙে ৫০০০ জনসংখ্যার দুটি ওয়ার্ড হবে কিন্তু ৩৫ নম্বরে সেই ১৩ হাজারই মানু্ষ থাকবেন। এতে করে অসমতা মিটবে কীভাবে !‌ বিষয়টি নিয়ে তাই বাম, তৃণমূল ও কংগ্রেস চাইছে সর্বদলীয় বৈঠক করে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। সরকার শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার জন্য অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই।

Leave the first comment