খবরাখবর, শিলিগুড়ি

দেবী দর্শনেই মিলবে গাছের চারা, চক্রবর্তী বাড়ির পুজোতেও পরিবেশ বাঁচানোর বার্তা

অক্টোবর 22, 2023

উৎসবের আলোয় ভরেছে শহর শিলিগুড়ি। হাজারো থিম আর বাজেটের উচ্চতায় চিকচিক করছে শত শত মণ্ডপ। এই থিমের মধ্যে যেমন জীবন উঠে আসছে, তেমনি নানা সামাজিক বার্তাও এসে আলতো ধাক্কা দিচ্ছে মানুষের চেতনায়। এত আয়োজন, এত আলোর মধ্যেও অন্য আলোর সন্ধান দেয় শিলিগুড়ি চক্রবর্তী বাড়ির পুজো। শিলিগুড়ি দেশবন্ধুপাড়ার অবন ঠাকুর সরণির চক্রবর্তী বাড়ির পুজো মানেই পরিবেশপ্রেম। এখানে দেবী যেন আসলে প্রকৃতি, এখানে দেবী মানে নদী, গাছ, পশু-‌পক্ষী। এবারেও যারা চক্রবর্তী বাড়ির পুজো দেখতে যাবেন, তাঁরা প্রত্যেকে পাবেন আস্ত গাছের চারা। বাড়িময় পরিবেশ বাঁচানোর নানা স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ডে ভরে উঠেছে। বিগত বছর বাংলার শক্তিশালী অভিনেতা শাশ্বত চ্যাটার্জি নিজে চক্রবর্তী বাড়ির পুজোয় গিয়ে পরিবেশ বাঁচানোর আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন। ফুরসৎ পেলে এবারও যে আসবেন না, তার নিশ্চয়তা নেই। যদিও খবর লেখা পর্যন্ত তেমন সম্ভাবনার কথা জানাতে পারেননি চক্রবর্তী পরিবারের উত্তরাধিকারী দীপজ্যোতি চক্রবর্তী।  
দীপজ্যোতি চক্রবর্তী পেশায় আইনজীবী। কিন্তু আদ্যন্ত পরিবেশপ্রেমী। প্রকৃতির প্রতি ভালবাসার টানেই জড়িয়ে পড়েছেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গেও। তবে সবকিছু ছাপিয়ে তিনি শিলিগুড়ি শহরে পরিবেশপ্রেমী হিসেবেই বিশেষভাবে পরিচিত। এর জন্য অবশ্য তিনি কস্মিনকালেও ঢাক পেটাননি। হৃদয় থেকে তার এই পরিবেশ নিয়ে কাজের টানে বারেবারে পাশে এসে দাঁড়ান শাশ্বত চ্যাটার্জি থেকে সব্যসাচী চক্রবর্তীর মতো অভিনেতারা। তাই বাড়ির ঐতিহ্য দুর্গাপুজোতেও তিনি পরিবেশ ভাবনার বাইরে কিছুই ভাবতে পারেন না।
শিলিগুড়ির চক্রবর্তী বাড়ির পুজোর বয়স বেশি না হলেও ওপার বাংলায় এই পুজোর বয়স শতবর্ষের ওপরে। দীপজ্যোতিবাবু জানান,‘‌ওপার বাংলার ঢাকার বিক্রমপুরের বাঘড়ার বাড়িতে জাঁকজমক পুজো হত। পরবর্তীতে আমার পরিবার বাংলাদেশ থেকে এপার বাংলার হুগলি ও পরে শিলিগুড়িতে এসে থিতু হয়। মাঝে অনেক বছর পেরিয়ে যাবার পর ৮ বছর আগে নতুন করে পুজোর পরিকল্পনা করি এখানে। পুরনো ঐতিহ্য ও রীতিনীতির তালিকা খুঁজে এনে ডাকের সাজের একচালা প্রতিমা দিয়েই শুরু করি। উদ্দেশ্য এই দিনে গোটা পরিবারকে একত্রিত করা।’‌ তবে এখন শুধু নিজের পরিবার নয়, শিলিগুড়ির বিভিন্ন মহলের মানুষ ভিড় করেন এই চক্রবর্তী বাড়ির পুজোয়। পুজোর মধ্যে দিয়েও সামাজিক কাজ মানুষকে আরও কাছে টেনে নিয়ে এগিয়ে চলেছে।

Leave the first comment