উত্তরবঙ্গ

বিএসএফের নালা ধসে ৪ শিশুর মৃত্যু চোপড়ায়

ফেব্রুয়ারি 12, 2024

দুরন্ত প্রতিবেদন:‌

সীমান্তে হাইড্রেন তৈরির জন্য খোঁড়াখুড়ি চালাচ্ছিল বিএসএফ। জেসিবি দিয়ে মাটি তুলে পাশে জমাও করা হচ্ছিল। সেখানেই খেলা করতে গিয়ে মাটি চাপা পড়ে একসঙ্গে ৪ শিশুর মৃত্যু হল উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়ায়। ঘটনাটি ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের চোপড়া দাসপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের চেতনাগছ এলাকায়। নিহত শিশুদের বয়স ৬–৮ বছরের মধ্যে। মৃত শিশুদের নাম – ইউসুফ আলি (‌গেন্দাগছ)‌, মহম্মদ আলি (‌চেতনাগছ)‌, তালেব আলম (‌চেতনাগছ)‌ ও গোলাম মোস্তফা (‌চেতনাগছ)‌।
জানা গেছে, বিএসএফ–এর ১৩২ নম্বর ব্যাটেলিয়ন ক্যাম্পের অদূরেই জেসিবি মেশিনের সাহায্যে মাটি কেটে হাইড্রেন তৈরি করছিল। গ্রামবাসীর অভিযোগ, হাইড্রেনে শিশুদের মাটি চাপা পড়ার দেড় ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয় মৃতদের। বিএসএফের গাফিলতির অভিযোগ জানিয়ে তুমুল ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা–সহ চোপড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহকারি সভাপতিও। গ্রামবাসী বদিরুজ্জমান বলেন, ‘‌স্থানীয় বিএসএফ ক্যাম্পের লাগোয়া বর্ডার রোডের পাশে জেসিবি মেশিনে হাইড্রেন খুঁড়ছিল বিএসএফ। এদিন দুপুরে ওই এলাকায় খেলতে গিয়ে স্থানীয় শিশুরা মাটি চাপা পড়ে। বিএসএফ তৎপর হলে বেঁচে যেত শিশুগুলি। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি শাস্তি চাই দোষী বিএসএফের।’‌


ক্ষুব্ধ চোপড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি ফজলুল হকও। তিনি বলেন, ‘‌ঘটনাস্থল এলাকার এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য রিয়াজুল হকের কাছ থেকে প্রথম দুর্ঘটনার খবর পাই। মৃত ৪ শিশু ছাড়াও আরও কয়েকজন শিশু এখনও নিখোঁজ আছে বলে জানা গেছে। বিএসএফ তৎপর হলে মৃত্যু এড়ানো যেত। বিএসএফের গাফিলতির জন্যই উদ্ধারে দেরি হয়েছে। বিএসএফ সীমান্তে কঁাটাতারের বেড়ার এপারে জেসিবি মেশিনের সাহায্যে মাটি কেটে হাইড্রেন তৈরি করছিল। আলগা মাটি পড়েছিল ড্রেনের ওপরের পাশের জমিতে। এ নিয়ে কোনও সতর্কতা ছিল না।’‌‌

টেন্ডার ছাড়াই কাজ করছিল বিএসএফ ?‌ সিপিডব্লুডিও নাকি কাউকে কিছু জানায়নি। আসল রহস্য কী ?‌


এই ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল। তাঁর কথায়, ‘‌জানতে পেরেছি বিএসএফ গরু পাচার রুখতে নাকি ওই হাই ড্রেন বানাচ্ছিল। কিন্তু আমার কাছে খবর আছে, ওই কাজের কোনও টেন্ডার হয়নি। এমনকি সিপিডব্লুডি–সহ অন্য কোনও কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কিছু জানে না। বিএসএফ–এর ওই নির্দিষ্ট ব্যাটেলিয়ন স্থানীয় লোকদের সঙ্গে চুক্তি ভিত্তিতে কাজটা করাচ্ছিল। আমরা এই ঘটনায় মৃত প্রতিটা শিশুর পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি, প্রশাসনকে বলব বিএসএফ–এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে।’‌ ইসলামপুর পুলিশ জেলার সুপার জবি থমাস বলেন, ‘‌৪ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বিএসএফ হাইড্রেন নির্মাণ করছিল বলে রিপোর্ট পেয়েছি। অনেকেই আমাদের কাছে জানিয়েছেন বিএসএফ–এর গাফিলতি এবং নজরদারির অভাবের কথা। ঘটনার তদন্ত চলছে।’‌

Leave the first comment