দুরন্ত প্রতিবেদন : পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে পাহাড়ের সব স্কুলে ‘রুম-হিটার’ দেওয়ার নির্দেশ দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তার জন্য মোট ১০১ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও সোমবার ফুলবাড়ির ভিডিওকনের মাঠ থেকে জানিয়ে দিলেন। পাশাপাশি জানিয়ে দিলেন এদিন অনুষ্ঠানস্থল থেকে যেভাবে চা-সুন্দরী সম্প্রসারণ প্রকল্প চালু হল এবং শ্রমিকদের জমির পাট্টা ও ঘর তৈরির অর্থ প্রদান করা হল, পাহাড়ের প্রতিটি মহকুমাতেও সেটা করা হবে। তার জন্য সমীক্ষা চলা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এদিনের পাট্টা প্রদান অনুষ্ঠানে রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মন্ত্রী বুলুচিক বরাইক, সাবিনা ইয়াসমিন, মেয়র গৌতম দেব, জিটিএ প্রধান অনীত থাপা, মুখ্যসচিব বিপি গোপালিকা সহ জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও আলিপুরদুয়ার জেলার জেলাশাসক ও রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে জিটিএ প্রধান অনীত থাপাকে ডেকে দ্রুত হিটার পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। বলেন,‘১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়। পাহাড়ে তখন বেশি ঠান্ডা থাকে। এজন্য ১০১ কোটি টাকা দিচ্ছি। স্কুলে রুম-হিটার দেওয়ার জন্য। পাহাড়ের সব স্কুলে রুম হিটার দিচ্ছি যাতে ঠান্ডায় পরীক্ষার্থীদের কষ্ট না হয়।’ একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, আলিম, ফাজিল, সিবিএসই, আইসিএসই সহ সমস্ত বোর্ডে যারা পরীক্ষায় বসতে চলেছে, তাঁদের সকলকে অভিনন্দন জানান।
বিগত মাসে ও এদিন মিলিয়ে চা-বাগানে মোট পাট্টা দেওয়া হল ২২৫৬৯ পরিবারকে। মুখ্যমন্ত্রী জানান,‘আজকের দিনটি ঐতিহাসিক। কারণ জলপাইগুড়ি জেলার ১২ চা-বাগান ও আলিপুরদুয়ার জেলার ৮ চা-বাগানে মোট ১২০৭৭ শ্রমিক পরিবারের হাতে চা-বাগানের জমিতে পাট্টা দিলাম। এর মধ্যে প্রাক্তন চা-শ্রমিক, অবসরপ্রাপ্ত চা শ্রমিক এবং এখন যারা কাজ করছেন তাঁরাও রয়েছেন। আগেও অনেক পাট্টা দিয়েছি কিন্তু সেটা চা-বাগানের উদ্বৃত্ত জমিতে। কিন্তু এবারে দিচ্ছি যে শ্রমিক যে লাইনে কাজ করে সেখানকারই পাট্টা। জমির মালিকানা আজ থেকে তাদের হয়ে গেল। গত মাসে এসে জলপাইগুড়ির ৭ বাগান ও আলিপুরদুয়ার জেলার ৬ বাগানের ১০৫০০ শ্রমিকে পাট্টা দিয়েছিলাম। প্রথমে আমরা চা-সুন্দরী ঘর তৈরি করে দিতাম। এখন যেহেতু জমির পাট্টা দিলাম, তাই চা সুন্দরী ঘর বানাব না। ঘর বানানোর যে খরচা হয়, তার জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার করে অর্থ দেব। নিজের ঘর নিজে বানাও। সম্মানের সঙ্গে থাকুন। সেখানে হোম-স্টেও করতে পারেন। দোকানও করতে পারবেন। আপনার ভবিষ্যতের জন্য এটা বড় কাজ হবে।’

অন্যদিকে চা বাগানের শ্রমিকরা বেশিরভাগ সাদরি ভাষায় কথা বলেন। ফলে সেইসব চা-শ্রমিকদের পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য ১০০ সাদরি ভাষার স্কুল ও ৩০০ সাদরি পার্শ্বশিক্ষক নিয়োগের ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী এদিন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান,‘২০১১ সালের পর রাজ্যজুড়ে ২ লক্ষ ২৬ হাজার পরিবারকে গৃহপাট্টা দিয়েছি। ১ লক্ষ ৫৮ হাজার কৃষি পাট্টা দিয়েছি। ৫০ হাজারের বেশি বন পাট্টা দিয়েছি। সব মিলিয়ে প্রায় ৫ লক্ষ পরিবারকে পাট্টা দেওয়া হয়েছে। এমনকি মেদিনীপুরের খাসমহলে কোনওদিন স্বত্ব না পেলেও আমি তাদের করে দিয়েছি। আজ জলপাইগুড়ির ৫০৩৩ জন চা শ্রমিক পাট্টা পেয়েছে। আলিপুরদুয়ারের ৭০৪৪ জন পেয়েছেন। দার্জিলিং, কার্শিয়াং, মিরিক নিয়ে কাজ চলছে। অনীত থাপার সঙ্গে কথা হয়েছে। ওখানেও করে দেব।’












