Uncategorized

বাংলাদেশে ভোট, ২০ হাজার বৈধ অস্ত্র জমা পড়েনি

ফেব্রুয়ারি 11, 2026

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন

দুরন্ত প্রতিবেদন :‌ বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোট। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হবে ভোট গ্রহণ। তারই সঙ্গে হবে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে গণভোট। অর্থ্যাৎ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে গণ অভ্যুত্থান হবার পর সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব এসেছে। তার জন্য মানুষের হ্যাঁ /‌ না ভোটে রায় নেওয়া হবে। ভোট প্রস্তুতির মধ্যেই একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর–৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। আগামীকাল ভোট হবে ২৯৯টি আসনে।

ডাঃ তাসনিম জারা। বাংলাদেশের নির্দল এই প্রার্থীর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।


এবারের ভোট শান্তিপূর্ণ ও অবাধ করতে কমিশনের তরফে নির্দেশে দেওয়া হয়েছিল ৩১ জানুয়ারির মধ্যে লাইসেন্সধারী সমস্ত অস্ত্র জমা করতে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে প্রায় ২০ হাজার ২৮৮টি বৈধ অস্ত্র জমা পড়েনি বলে জানা গেছে। যা দেশের মোট ব্যক্তিগত অস্ত্রের ৪২ শতাংশ। ফলে থানায় জমা না হওয়া ওইসব অস্ত্র এখন অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এসব অস্ত্রের মালিকদের তালিকা করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কাজ শুরু করা হয়েছে। একইসঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি অস্ত্রের মালিকদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৩ হাজার ৭০২টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তির নামে ৪৮ হাজার ২৮৩টি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামে ৪ হাজার ৮৫৪টি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৬৫টি। এর মধ্যে শুধু ব্যক্তির নামে লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল। সরকারি নির্দেশের পর বেঁধে দেওয়া ৩১ জানুয়ারির মধ্যে দেশের বিভিন্ন থানায় ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ বা লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা পড়ে। ২০ হাজার ২৮৮টি অস্ত্র এখনও জমা পড়েনি।

এনসিপি পার্টির প্রার্থী মো.‌ নাহিদ ইসলামের ভোট প্রচার।


ঢাকা মহানগরে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামে ৩ হাজার ৯৯১ জনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭৪০টি আগ্নেয়াস্ত্র জমা পড়েনি। চট্টগ্রাম রেঞ্জ সূত্র জানায়, এই রেঞ্জে ২ হাজার ৮৬৪টি বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে। জমা পড়েনি মাত্র চারটি। অন্যদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের বিভিন্ন থানা ও সংশোধনাগার থেকে ৫ হাজার ৭৪৮টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে এখনও ১ হাজার ৩৬২টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় বিভিন্ন থানায় অস্ত্র আইনে ২ হাজার ৩৯৩টি মামলা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর পরদিন ১৩ ডিসেম্বর থেকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ শুরু হয়। ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযানে ১৫ হাজার ৯৩৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। অভিযানে ২৩৬টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।

সরকারি নির্দেশের পর বেঁধে দেওয়া ৩১ জানুয়ারির মধ্যে দেশের বিভিন্ন থানায় ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ বা লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা পড়ে। ২০ হাজার ২৮৮টি অস্ত্র এখনও জমা পড়েনি।


গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ অভিযানে ১৯৩টি আগ্নেয়াস্ত্র অস্ত্র ও ১ হাজার ৯৪১টি গোলাবারুদ উদ্ধারসহ ১ হাজার ৭৭৮ জনকে আটকের কথা জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ডিএমপি রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে ২৯টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। ছবি ও তথ্য :‌ অন্তর্জাল

Leave the first comment