Uncategorized, দার্জিলিং

‌‌তিস্তায় নতুন করে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাড়পত্র নয়, সিদ্ধান্ত জিটিএ’‌র

নভেম্বর 1, 2023

দুরন্ত প্রতিবেদন:‌ বিপর্যয় আটকাতে এবারে আগেভাগে সতর্কতার কথা ভাবছে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অর্থ্যাৎ জিটিএ। বুধবার দার্জিলিং ভানুভবনে জিটিএ’‌র জরুরী সভা করে সিদ্ধান্ত নিল তাঁদের প্রশাসনিক এলাকার মধ্যে থাকা তিস্তা নদীতে নতুন করে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ার ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। এদিনের জিটিএ সভায় সদস্য বিনয় তামাং ছাড়া বাকি প্রায় প্রত্যেকেই হাজির ছিলেন। এমনকি হমরো পার্টির সুপ্রিমো অজয় এডওয়ার্ডও ছিলেন। বৈঠক শেষে জিটিএ’‌র পর্যটন বিভাগের দায়িত্বে থাকা নরদেন শেরপা জানান,‘‌সিকিম বিপর্যয়ের পর অন্তত একটি বিষয়ে সমস্ত মহল সহমতে এসেছেন যে তিস্তাকে আটকে দেওয়ার পরিণতিই এমন বিপর্যয়। ফলে আমরা আপাতত চাইছি তিস্তার গতি রুদ্ধ করে আর কোনও বাঁধ দেওয়ার মতো প্রকল্পে জিটিএ ছাড়পত্র দেবে না।’‌


উল্লেখ্য, সিকিমের লোনক হ্রদ ফেটে তিস্তায় নেমে আসা হড়পা বানে যেভাবে উত্তর সিকিম বিধ্বস্ত হয়েছে, এমনকি তিস্তার নিম্ন অববাহিকায় থাকা কালিম্পং এলাকার তিস্তাবাজার সহ একটা বিস্তীর্ণ এলাকা যেভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, তারপর বিপর্যয় নিয়ে গবেষণা শুরু হয়ে গেছে। কেন এমনটা হল এবং কীভাবে এই বিপর্যয় আটকানো সম্ভব হবে, সেসব নিয়ে চর্চার মধ্যেই বিভিন্ন মহল একটি বিষয়ে সহমত পোষণ করেছেন। আর সেটি হল তিস্তার স্বাভাবিক গতিকে রোধ করে দেওয়া। তাই জিটিএ চাইছে বিপর্যয় আটকাতে জিটিএ এলাকায় আর কোনও বাঁধের অনুমতি দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে এদিন বিপর্যয় খতিয়ে দেখে তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করার জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। যেখানে শাসকদলের সদস্য, বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি বিরোধী শিবির থেকেও সদস্য রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেই কমিটি বিস্তারিত ক্ষতির হিসেব তৈরি করে কেন্দ্রকে পাঠাবে এবং দাবি করবে যাতে কালিম্পঙের ক্ষতিকেও বিপর্যয় বলে ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, সিকিম বিপর্যয়ের পর কেন্দ্রে ওই রাজ্যকে আর্থিক সহযোগিতা করেছে। অথচ একই বিপর্যয়ের শিকার হলেও কালিম্পঙের মানুষের জন্য কোনও ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেনি কেন্দ্র। একারণেই পুরো রিপোর্ট পাঠানোর সিদ্ধান্ত।

Leave the first comment