দুরন্ত প্রতিবেদন : ‘দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা,/ দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু।/ দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া/ ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া/ একটি ধানের শিষের উপরে/ একটি শিশিরবিন্দু।’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই কথাগুলিকেই যেন নিজের কর্মজীবনে নিজের মতো করে জড়িয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছেন কবি-লেখক-সম্পাদক সুলেখা সরকার। তাই তিনি অন্য অনেকের মতো খ্যাতনামাদের নিয়ে আদিখ্যেতা দেখানোর চেয়ে আশপাশে ছড়িয়ে থাকা অখ্যাত প্রতিভাবানদের স্বীকৃতি দিয়ে তাঁদের বিখ্যাত করার প্রয়াসের মধ্যেই অধিক আনন্দ খুঁজে পান। আর এই কাজের জন্য তিনি বিগত বছর থেকে ‘আন্তর্জাতিক দার্জিলিং লিটেরারি ফেস্টিভ্যাল’ এর আয়োজন করে সেখানেই বিভিন্ন শাখায় ধারাবাহিক কাজ করে যাওয়া ব্যক্তিদের সম্মানিত করে চলেছেন। একা একজন মহিলা অক্লান্ত পরিশ্রম করে আয়োজন করেন এই বিশাল উৎসবের। নিজেই খুঁজে খুঁজে বের করেন তাঁর নিজের চোখে সেরা ব্যক্তিত্বদের। এমন নয় ব্যক্তিকে প্রতিবছর পুরস্কার দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তিনি। এবারেও তেমনই নয় রত্নকে নিজের মতো করে বেছেছেন। এবারে দার্জিলিং চর্যাপদ সম্মাননা দিয়েছেন কবি-শিক্ষক ড. অমিত কুমার দে-কে (কবিতার জন্য), তাম্রলিপি সম্মান দিয়েছেন মালবাজার কলেজের অধ্যক্ষ ড. শেষাদ্রি প্রসাদ বোসকে ( প্রবন্ধের জন্য), তক্ষশীলা সম্মান দিয়েছেন ত্রিপুরার ৫২ বছরের পুরনো ‘দীপ সাহিত্য’ পত্রিকাকে, পুরুষোত্তম সম্মান দিয়েছেন ‘আজকাল’ সংবাদপত্রের সাংবাদিক অলক সরকারকে। দ্বিগবিজয় সম্মান পেয়েছেন কবি বিশ্বজিৎ নন্দী।


এছাড়াও এবছর হিন্দি সাহিত্যে ‘রেবা সরকার স্মৃতি সম্মান’ পেয়েছেন কবি অর্চনা শর্মা। বাংলা সাহিত্যে কাজের জন্য ‘সুরেশ সরকার স্মৃতি সম্মান’ পেয়েছেন কবি রাজা। নেপালি সাহিত্যে ‘মীরা রায় স্মৃতি সম্মান’ পেয়েছেন কবি কৃষ্ণ প্রধান। অন্যদিকে এবছর ‘কেয়ার অফ দার্জিলিং লাইফএচিভমেন্ট এওয়ার্ড ২০২৪” পেয়েছেন লোক গবেষক প্রমোদ নাথ। এদের মধ্যে প্রায় প্রত্যেককে হাজির করেছেন লিট ফেস্টে। একা হাতে নিমন্ত্রণ করা থেকে গোটা অনুষ্ঠানের রূপরেখার দায়িত্বও সুলেখা সরকারকেই বহন করতে হয়েছে। এবারে ছিল দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক দার্জিলিং লিটেরারি ফেস্টিভ্যাল। হোটেল সালুজার ব্যাঙ্কুয়েট হলে। ৭ ডিসেম্বরের লিট ফেস্টে নেপাল, ভুটান, সিকিম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, বিহার, কলকাতা ও উত্তরবঙ্গের কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, ডক্টর এবং অধ্যক্ষ-রা যোগ দিয়েছেন। দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. দেবব্রত মিত্র অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাগবত শর্মা ভাণ্ডারী ( ভুটান), এনপিএস নিরউলা (সিকিম), বিশ্বজিৎ নন্দী (মেঘালয়), টিংকুরঞ্জন দাস ( ত্রিপুরা), প্রফেসর বিনোদ বিনীত ( বিহার) ড. বীরেন্দ্র মৃধা, গবেষক ড. রতন বিশ্বাস, সাহিত্যিক অশেষ দাস ও রাজীব চক্রবর্তী সহ অনেকে।













1 comment
DHANANJOY PAUL
অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই সুলেখা সরকার মহাশয়কে। এভাবেই সাহিত্য এগিয়ে চলুক।