শিল্প-‌সংস্কৃতি, সাতরঙ

পাঞ্জাবিতেই ভোটের বার্তা গৌতমের

এপ্রিল 16, 2026

দুরন্ত প্রতিবেদন:‌ নববর্ষের অনুষ্ঠানে রাজনীতির কথা নয়। এটা স্থির করেই বুধবার বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র তথা তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব। সাতসকালে শিলিগুড়ি বাঘাযতীন পার্কে এসে গোটা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান দেখলেন শুধু নয়, নিজেও অংশ নিলেন। সহস্র কণ্ঠে বর্ষবরণ পর্বে গৌতম দেব নিজেও গান গাইলেন। তারপর সংবাদমাধ্যমের কাছে বিভেদের বিরুদ্ধে ঐক্যের বার্তা দিলেন। কিন্তু কোনও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটি করেননি। ভোট নিয়েও কোনও প্রশ্নের জবাব দেননি।

বার্তাবহ পাঞ্জাবিতে গৌতম দেব। ছবি:‌ সাতদিন


কিন্তু গৌতম দেব ৫০ বছরের অভীজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা বলে কথা। তিনি ভরা ভোটের মরসুমে মুখ বন্ধ করে থাকবেন, সেটা হতেই পারে না। তারপরেই লক্ষ্য করে দেখা গেল, মুখে রাজনীতি কিংবা ভোট নিয়ে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে মুখ না খুললেও নিজের পাঞ্জাবিতেই সমস্ত উত্তর লিখে নিয়ে এসেছিলেন। গৌতম দেবের পাঞ্জাবিই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছে বছর শুরুর দিনে। নববর্ষের সকালে বেগুনি রঙের একটি পাঞ্জাবি পরেছিলেন, সেই পাঞ্জাবিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি গানের কলি লেখা। পাঞ্জাবির রং আর গানের কথাগুলির মধ্যেই বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সাধারণের জিজ্ঞাস্য সব প্রশ্নের উত্তর ছিল। অবাক হচ্ছেন ?‌ জেনে নিন তাহলে, কীভাবে একটি পাঞ্জাবি সসম্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিল।

মমতা ব্যানার্জির পদযাত্রায় সেই পাঞ্জাবিতেই গৌতম দেব। ছবি:‌ সাতদিন


গৌতম দেব বেগুনি রঙের পাঞ্জাবিই পরলেন কেন?‌ আসলে বেগুনি রং হল আভিজাত্য, ক্ষমতা, গভীর জ্ঞান বা আধ্যাত্মিকতার প্রতীক। এই রং লাল (শক্তি) এবং নীলের (স্থিতিশীলতা) সংমিশ্রণে তৈরি, যা সৃজনশীলতা, রহস্য, নারীর অধিকার বা আত্মসম্মানকে নির্দেশ করে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্রিটিশ নারীদের ভোটাধিকার আন্দোলনের সময় বেগুনি রং ব্যবহার করা হয়েছিল, যা বর্তমানে নারী অধিকার ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়। এবারের ভোটের সময়ও সেই ভোটাধিকার রক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। যেভাবে এসআইআরের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে, তা নিয়ে গোটা বাংলা জুড়ে ক্ষোভ প্রতিবাদ বড় আকার নিয়েছে। চলছে কেন্দ্র ও কমিশনের সঙ্গে একসঙ্গে লড়াই। আর এই লড়াইয়ে প্রধান মুখ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। বুধবার শিলিগুড়িতে মমতা ব্যানার্জির পদযাত্রা ছিল।

র্ষবরণের শোভাযাত্রায় বার্তাবহ পাঞ্জাবি পরে গৌতম দেব। ছবি:‌ সাতদিন

সেই পদযাত্রাতেও গৌতম দেব একই পাঞ্জাবি পরে হাজির ছিলেন। অর্থ্যাৎ ইংরেজদের থেকে যেভাবে অধিকার ছিনিয়ে আনার জন্য একসময় আন্দোলন হয়েছিল, একই ভাবে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের থেকেও সেই অধিকার ছিনিয়ে আনতে আন্দোলন যে জারি থাকবে, তার উত্তর পাঞ্জাবির রং নির্বাচনের মধ্যে দিয়েই দিয়েছেন তিনি।


অন্যদিকে পাঞ্জাবির বুকে রবীন্দ্রনাথের একটি গানের লাইন লেখা ছিল। ‘জয় হোক জয় হোক নব অরুণোদয় জয় জয়।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এটি একটি প্রভাতী সংগীত। তবে এই গানটি কেবল একটি প্রভাতী সংগীত হিসেবে নয়, এখানে মানুষের মনের জড়তা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে জেগে ওঠার এক চিরন্তন আহ্বান করেছেন কবি। অরুণোদয় শব্দের আক্ষরিক অর্থ সূর্যোদয়। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের দর্শনে এটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। গানটিতে ‘অরুণোদয়’ বা সূর্যোদয় বলতে অন্ধকার (অজ্ঞতা, ভয়, সংশয়) কাটিয়ে জ্ঞানের আলো এবং আশার জাগরণকে বোঝানো হয়েছে। মানুষের জীবনে যখন স্থবিরতা আসে, তখন ‘নব অরুণোদয়’ হয়ে আসে নতুন প্রাণের স্পন্দন। কবি এখানে জয়ধ্বনি করছেন সেই অজেয় শক্তির, যা সমস্ত বাধা বিঘ্ন কাটিয়ে সত্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কবির ভাষায়, জীবনের সব মালিন্য ধুয়ে মুছে দিয়ে যখন সত্যের আলো প্রকাশ পায়, তখনই জয় হয় সুন্দরের। এটি আত্মার মুক্তির এবং অন্তরের শুচিতার গান। সেই কথাটিই একটি লাইনে প্রকাশ করার জন্য শিলিগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব রবীন্দ্রনাথকে আশ্রয় করেছেন।

Leave the first comment