বনানী বিশ্বাস
২০২৫ সালেই সেবক থেকে পাহাড়ি সুড়ঙ্গ পথ ধরে সিকিমে পৌঁছবে ট্রেন। মঙ্গলবার সেবক-সিকিম রেল প্রকল্পের ১ নম্বর টানেলের সফল ‘ব্রেক-থ্রু’ দেখে এমনটাই আশা করছেন রেলকর্তারা। টানেল-১ এর খননকার্য সফলভাবে এদিন শেষ হওয়ায় সেবক-রংপো রেল প্রকল্পের কাজ আরও একধাপ এগিয়ে গেল এদিন।
এদিন সেবক টানেলের ব্রেক-থ্রু ঘিরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায় টানেলের কাজে জড়িয়ে থাকা কর্মী থেকে আধিকারিকদের। এবার জানা দরকার ‘ব্রেক-থ্রু’ আসলে কী। পাহাড়ি পথে সুড়ঙ্গ কাটার সময় দুইদিক থেকে কাজ চলে। দুদিক থেকে সুড়ঙ্গ কাটতে কাটতে একটা সময় একসঙ্গে মিলে যায়। এই মিলে যাওয়াই হল ‘ব্রেক-থ্রু’। ব্রেক-থ্রুর পর খননের কাজ শেষ হয়ে যায়। এদিন সেবক থেকে ১.৯ কিমি সুড়ঙ্গ পথের শেষে একটি ৩-৪ ফুটের মোটা পাথর ডিনামাইট দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। ভাঙতেই ১ নম্বর টানেলের ৪.২৩ কিমি রাস্তা খুলে যায়। মঙ্গলবার সেবকের ১ নম্বর টানেলে এই কাজটিই সম্পন্ন হল উচ্চপদস্থ সব আধিকারিকদের উপস্থিতিতে। উপস্থিত ছিলেন উত্তর-পূর্ব রেলের চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার (কনস্ট্রাকশন) রাজীব কুমার সিং, সেবক রংপো রেল প্রকল্পের প্রোজেক্ট ডিরেক্টর মহিন্দর সিং, এনএফ রেলের জিএম, এজিএম, ইরকনের কর্তাব্যক্তি থেকে সেফটি ম্যানেজার, জিওলোজিস্ট থেকে সমস্ত কর্মকর্তারা। ব্রেক-থ্রুর পর উত্তর-পূর্ব রেলের চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার (কনস্ট্রাকশন) রাজীব কুমার সিং জানান,‘আজকের ব্রেক-থ্রু আমাদের বড় সাফল্য। এই নিয়ে ৯টি টানেলের খননকার্য শেষ হল। আশা করছি ২০২৫ সালের মধ্যে কাজ প্রায় শেষ করে রেল যোগাযোগ শুরু করাতে পারব। তবে সবটাই নির্ভর করছে পরিবেশ পরিস্থিতির ওপর।’

আসলে এই কাজটি ২০২৩ সালের মধ্যেই শেষ করার কথা ছিল। ২০২৪ সালের শুরুতেই সেবক থেকে সিকিমের রংপো পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের কথা। কিন্তু সেটা হয়নি। রাজীব সিংয়ের পাশাপাশি প্রোজেক্ট ডিরেক্টর মহিন্দর সিং জানান,‘কোভিডের জন্য আমরা প্রায় ২ বছর ঠিকঠাক কাজ করতে পারিনি। এরপর তিস্তা বিপর্যয়ের জন্যও সমস্যা হয়েছে। সব মিলিয়ে কাজ পিছিয়েছে। তবে এই কাজটি এমন যে আমরা তাড়াহুড়ো কিছুই করতে পারব না। সবটাই একটা নির্দিষ্ট নিয়মে ও নির্দিষ্ট সময় ধরে করতে হবে।’
উল্লেখ্য, সেবক রংপো রেলপথটির মোট দৈর্ঘ্য হবে ৪৪.৯৮ কিলোমিটারের। এর মধ্যে ৩৮.৫৫ কিমিই সুড়ঙ্গ পথ। তৈরি হচ্ছে মোট ১৪টি টানেল অর্থ্যাৎ সুড়ঙ্গ। এর মধ্যে ৯টি টানেলের কাজ শেষ হল। তৈরি হবে মোট ২২টি সেতু এবং ৫টি স্টেশন। এদিন যে টানেল -১ এর ব্রেক থ্রু হল তার দৈর্ঘ্য ৪.২৩ কিমি। বিস্ফোরন করা হয় সুড়ঙ্গ মুখ থেকে ১.৯ কিমি ভেতরে। সেখানে এদিন সুড়ঙ্গের কাজ করা সমস্ত কর্মী থেকে আধিকারিকদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে এই কাজ শুরু হয়েছিল। রেলকর্তাদের কথায় আপাতত ৫০ শতাংশ কাজ হয়েছে। বাকি কাজ হলে বাংলা সিকিমের যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন নতুন দিগন্ত খুলে দেবে, তেমনি শিলিগুড়িকে করিডর করে পর্যটকের ঢল আরও বাড়বে।













