কবিতা অধিকারী, কাওয়াখালি : ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে গোর্খাদের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি। বলেছিলেন,‘গোর্খাদের স্বপ্ন, আমার স্বপ্ন’। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার করতে এসেও এই শিলিগুড়ির অদূরে দাঁড়িয়ে গোর্খাদের স্বপ্ন ও আকাঙ্খার প্রতি সহানুভূতিশীলতার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বারেবারে গোর্খাদের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। উল্টে প্রধানমন্ত্রী হবার আগে ও পরে মোদির দেখানো স্বপ্নে মশগুল হয়ে পাহাড়ের কিছু রাজনৈতিক নেতা আন্দোলনের নামে গোটা পাহাড়টাই জ্বালিয়ে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করেন। আপাতত পাহাড় শান্ত। বিজেপি নেতারাও পুরনো প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইদানিং সুর নরম করে নতুন কায়দায় কথা বলা শুরু করেছেন। কিন্তু শনিবার শিলিগুড়ির কাওয়াখালি ময়দানে ফের রাজনৈতিক জনসভা করতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি ফের গোর্খাদের স্বপ্ন দেখানোর পথেই হাঁটলেন। বললেন,‘আমার গোর্খা ভাইবোনদের যে সমস্যা রয়েছে, যে লক্ষ্য রয়েছে, তার প্রতি বিজেপি সবসময় সংবেদনশীল। বিজেপি আপনার চিন্তা দূর করতে নিরন্তর প্রয়াস চালাচ্ছে। এখন আমরা সমাধানের কাছাকাছি আছি। বিজেপি আপনার আকাঙ্খা পূরণ করতে চেষ্টা জারি রাখবে।’
‘আমার গোর্খা ভাইবোনদের যে সমস্যা রয়েছে, যে লক্ষ্য রয়েছে, তার প্রতি বিজেপি সবসময় সংবেদনশীল। বিজেপি আপনার চিন্তা দূর করতে নিরন্তর প্রয়াস চালাচ্ছে। এখন আমরা সমাধানের কাছাকাছি আছি। বিজেপি আপনার আকাঙ্খা পূরণ করতে চেষ্টা জারি রাখবে।’
প্রধানমন্ত্রী খোলসা করে কিছু বললেন না। অথচ গোল গোল কিছু অর্ধসমাপ্ত বাক্যের মধ্যে দিয়ে গোর্খাদের ফের স্বপ্নালু করে গেলেন। যাতে করে গোর্খারা ভাবতে পারেন, যে বিজেপি চুপ থাকলেও ভেতরে ভেতরে কিছু হচ্ছে। এবং সেই লোভেই ফের বিজেপিকে ঢেলে ভোট দেয়। আর এই কথাগুলি যাতে পাহাড়ের হাজার হাজার গোর্খা বিশ্বাস করতে বাধ্য হন, তার জন্য উদাহরণ হিসেবে শুনিয়ে দিলেন যে বহু বছরের প্রতীক্ষিত রামমন্দির যদি নির্মাণ হয়, জম্বু কাশ্মীর থেকে যদি ৩৭০ ধারা বিলোপ হয়, তবে মোদি অনেক কিছুই করতে পারে। এখন দেখার মোদির স্বপ্নে গোর্খারা ফের মশগুল হলো নাকি বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিলেন।












