দার্জিলিং

প্রার্থী হবেন গোর্খা !‌ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলকেই সমর্থনের ঘোষণা অনীতের

ফেব্রুয়ারি 6, 2024

কবিতা অধিকারী
কার্শিয়াং, ৬ ফেব্রুয়ারি

দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলকেই সমর্থন করবে পাহাড়ের ‘‌ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা’‌ (‌বিজিপিএম)। মঙ্গলবার কার্শিয়াঙে আইটি পার্কের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে এসে জানিয়েছেন, দলের সুপ্রিমো তথা জিটিএ প্রধান অনীত থাপা। পাশাপাশি তিনি পাহাড়ের মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, এখানে প্রার্থী পদে গোর্খাই থাকবেন। আমাদের প্রতিনিধিই যাবেন সংসদে।’‌
অনীত থাপার বক্তব্যে পরিস্কার, গোর্খা প্রার্থী দেওয়ার শর্তেই তৃণমূলকে ঢালাও সমর্থন দেবে বিজিপিএম। সেক্ষেত্রে প্রার্থী কে হবেন, সেই সিদ্ধান্তও তৃণমূলের ওপরেই ছাড়তে রাজি। অর্থ্যাৎ গ্রহনযোগ্য গোর্খা প্রার্থী হলেই হল। অনীত থাপা জানান,‘‌বিজিপিএম দল তৃণমূলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েই কাজ করছে। আমরা তাই তৃণমূলের প্রতীকেই লোকসভা লড়াই করব। কিন্তু লোকসভার প্রার্থী আমাদের গোর্খা জাতি থেকেই হবে।’‌ তাহলে কে হবেন সেই গোর্খা প্রার্থী?‌ উত্তরে অনীত থাপার পরিস্কার কথা,‘‌প্রার্থী নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তৃণমূল। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সবটাই অনুমান নির্ভর।’‌

লোকসভায় দার্জিলিং আসনে তৃণমূলের সঙ্গে জোট করেই ভোটে লড়বে অনীতের দল


দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে যখন বিজেপির প্রার্থী পদ নিয়ে রাজু বিস্ত বনাম হর্ষবর্ধন শ্রিংলাকে নিয়ে জলঘোলা হচ্ছে, তখন পাহাড় সমতল জুড়ে চর্চা চলছিল তৃণমূলের প্রার্থী তবে কে হচ্ছেন। কখনও অনীত থাপা, কখনও গোপাল লামা প্রার্থী হচ্ছেন বলে খবর ছড়ালেও এদিন অনীত থাপা অনেকটাই পরিস্কার করেন। জানান,‘আমরা আঞ্চলিক দল। আমরা লোকসভায় প্রার্থী দিতে পারি না। দার্জিলিং লোকসভা জিততে হলে শুধু পাহাড়ের ভোট নয়, সমতল শিলিগুড়ির ভোটও চাই। রাজ্য সরকার আমাদের যেভাবে সহযোগিতা করছে, সমস্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে, তাতে তৃণমূলের প্রতীককে গুরুত্ব দিতেই হবে। তবে ‌প্রার্থী আমাদের গোর্খা জাতির থেকেই হবে। কিন্তু লোকসভায় গোর্খা প্রতিনিধি পাঠাতে চাইলে তৃণমূলের প্রতীকে সমর্থন দিতেই হবে। কারণ শুধু পাহাড়কে নিয়ে লড়াই করতে চাইলে ভোট নষ্ট হব।’‌
এতদিন পাহাড়ে জাতিস্বত্ত্বার প্রচার করতে গিয়ে যে গোর্খা বনাম বাঙালি নিয়ে একটা সাম্প্রদায়িক রাজনীতির জন্ম দেওয়া হয়েছে, সেটাও সোজা ভাষায় জানানো হয়। বলা হয়, শিলিগুড়ি শহরে অন্তত ১ লক্ষ গোর্খা মানুষ কর্মসূত্রে রয়েছেন এবং সবাই সম্প্রীতির বন্ধনের মধ্যে আছেন। অনীত থাপা জানান,‘‌আবেগের রাজনীতি, ধ্বংসের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে সৃজনশীলতা ও বাস্তবতার ভিত্তিতে রাজনীতি করতে হবে। এখানে এতকাল ধরে পাহাড় গড়ার রাজনীতি হয়নি, কাজের জন্য রাজনীতি হয়নি। এখন সেই পাহাড় গড়ার রাজনীতি শুরু হয়েছে। সেটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’‌

Leave the first comment