ক্যাম্পাস, সাত-‌১৭

মাধ্যম পাল্টেছে ‌শিলিগুড়ির মেধা

মে 2, 2026

দুরন্ত প্রতিবেদন :‌ এক সময় মাধ্যমিক কিংবা উচ্চ মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় শিলিগুড়ির উপস্থিতি ছিল উজ্জ্বল। পরীক্ষার রেজাল্ট বের হলেই শিলিগুড়ি বয়েজ, শিলিগুড়ি গার্লস কিংবা মার্গারেট স্কুলের দিকে তাকিয়ে থাকতেন আপামর শিলিগুড়ির মানুষ। কিন্তু অন্তত প্রায় এক দশক ধরে সেই কৃতিত্ব সেভাবে আর চোখে পড়ে না। যা নিয়ে আক্ষেপের সীমা নেই এই শহরের। তাহলে কি শিলিগুড়ির মেধা হারিয়ে গেল?‌ এই প্রশ্ন বারেবারে ফিরে এসেছে। কেন শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ির নামকরা স্কুল থেকে ছিটকে গিয়ে কোচবিহারের প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে প্রবেশ করল?‌
এই বিষয় নিয়ে যখন চর্চা চলছে, তখন বিগত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে শিলিগুড়ির ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের পড়ুয়ারা দুর্দান্ত সব রেজাল্ট করছে। তাও সেই ফলাফল শুধুমাত্র রাজ্যের গণ্ডিতে আটকে নেই,বরং গোটা দেশের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য সাড়া ফেলছে। আর এই পড়ুয়াদের একটা বড় অংশ বাঙালি ঘরের। অর্থ্যাৎ বাংলা মাধ্যমে মেধা খুঁজে পাওয়া না গেলেও ইংরেজি মাধ্যমে কিন্তু সেই মেধাদের দিব্যি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। এতেই পরিষ্কার বাঙালি ঘরের মেধাবী পড়ুয়ারা আর বাংলা মাধ্যমে পড়ছে না, তাঁরা সকলেই সিবিএসই কিংবা আইসিএসই বোর্ডে লেখাপড়া চালিয়া যাচ্ছে। এবারের ফলাফল দেখলেও অবাক হতে হয়, এবারে আইসিএসই বোর্ডের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্ট দেখলে দেখা যাবে রাশি চৌবে যে ভারত সেরা ফলাফল করেছে, তেমনি দিব্যেন্দু প্রামাণিক ও রৌনক কুমার দ্বিতীয় সেরার জায়গা ছিনিয়ে এনেছে। দিব্যেন্দু আদ্যন্ত বাঙালি, রাশি চৌবের ভাষা বাংলা না হলেও সে বাঙালি, কারণ তাঁর জন্ম এই বঙ্গে। রৌনক কুমার অবশ্য বাংলার শিলিগুড়িতে লেখাপড়া করলেও সে আসলে বিহারের বাসিন্দা। এতেই পরিষ্কার শিলিগুড়িতে মেধা আগের মতোই আছে, তবে তারা বাংলা মাধ্যমের স্কুল থেকে বেরিয়ে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ঢুকে পড়েছে।


এখানেই প্রশ্ন, বাংলা মাধ্যমে তাহলে কারা লেখাপড়া করছে?‌ এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, বাংলা মাধ্যমের স্কুলের প্রতি মধ্যবিত্তের ভরসা প্রায় উঠেই গেছে। তাই ঋণ নিয়েও অনেকে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াচ্ছেন। সরকার যদি সরকারি স্কুলের প্রতি সামান্য যত্নবান হতে পারে, তাহলেই ছবিটা পাল্টে যাবে। কোটি কোটি টাকা শিক্ষকদের বেতন দিয়ে রাখার পরেও যদি সেখানে পড়ুয়ারা না যায়, তবে সেই স্কুল ও শিক্ষক পুষে লাভ কী?‌ কেন স্কুলে শুধু মিড ডে মিল খাইয়ে শেষ হবে, কেন শিক্ষকদের লেখাপড়া করানো বাদে অন্য কাজে অধিক নিয়োজিত করা হবে, এই প্রশ্ন এখন শিক্ষকদের মধ্যেই।
বহু শিক্ষক রয়েছেন, যারা স্কুলে গিয়েও টিচার্স রুমেই সময় কাটান। অথচ অনুপস্থিত কোনও শিক্ষকের ক্লাস তিনি করাতে নারাজ। এই প্রবণতা চললে বাংলা মাধ্যম স্কুল মিউজিয়ামে রাখা ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না বলেই ধারণা অনেকের। অন্যদিকে ক্রমশ ডানা মেলছে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল। শিলিগুড়ি শহরে এত বেসরকারি স্কুলের ছড়াছড়ি যে পড়ুয়া পেতে এবং বেতন উসুলের প্রতিযোগিতা চলে। এত স্কুল হওয়ায় মানেরও অনেক উন্নতি হয়েছে বটে। তবেই তো রাশি চৌবের মতো প্রতিভাদের মূল্যায়ন হচ্ছে।

Leave the first comment