সব ঠিকঠাক এগোলে আগামী দুই বছর পর আমূল বদলে যাবে শিলিগুড়ি। দার্জিলিং মোড়ে যানজট বলে কিছু থাকবে না। মাটিগাড়ার বালাসন সেতু থেকে সেবক পর্যন্ত চোখধাঁধানো রাস্তা দেখে চেনাই যাবে না আজকের শিলিগুড়িকে। ইতিমধ্যে প্রায় ১০০০ কোটিতে রাস্তা নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব জানান, আর কিছুদিন পর থেকে ঝড়ের গতিতে কাজ শুরু হবে। সেই সময় এই কাজ নিয়ে কাউকে পাকামি করতে মানা করেছেন। সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের বাক সংযম করার পরামর্শ দিয়েছেন। সেইসঙ্গে শিলিগুড়ির সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন এই কাজের ব্যাপারে। মেয়র পরিস্কার জানান,‘এই ৬ লেনের সড়ক একদিকে কালিম্পং, সিকিম, নাথুলা ও ডুয়ার্সকে যেমন যুক্ত করবে, তেমনি দার্জিলিং মোড়ের তীব্র যানজটকে সহজ করে দেবে। এটা শিলিগুড়ির জীবনরেখা হয়ে উঠবে। সেকারণেই এই কাজ যাতে কোনওভাবে বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। মেয়র বলেন,‘কোনও কারণে এই কাজ স্তব্ধ হয়ে গেলে আর সড়ক তৈরি হবে না। তাহলে তীব্র যানজটে আগামী প্রজন্ম ভোগান্তির মধ্যে পড়বে।’
উল্লেখ্য, বহু টানাপোড়েনের পর বালাসন থেকে সেবক পর্যন্ত দশাসই সড়ক নির্মাণ হচ্ছে। এই সড়ক হলে শিলিগুড়ি শহরে ঢোকার ঝঞ্ঝাট বলে কিছু থাকবে না। কারণ দার্জিলিং মোড়ে পাঁচতলা রাস্তা হবে। সেইসঙ্গে থাকবে চওড়া সার্ভিস রোড। সাড়ে ৩ কিমি এলিভেটেড রোড হবে বলেও মেয়র গৌতম দেব জানিয়েছেন। কাজ করবে স্টেট ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি। বালাসান থেকে সেবকের মধ্যে থাকা পাঁচটি নদীতে নতুন ৫টি সেতু তৈরি হবে। এর মধ্যে বালাসন, মহানন্দা, পঞ্চনই, চেঙ্গা রয়েছে। পুরো কাজের পর শিলিগুড়ির চেহারা সত্যিই বদলে যাবে। তাই এই কাজ যাতে কিছুতেই আটকে না যায়, তার জন্য এখন থেকেই সতর্ক করা শুরু করেছেন শিলিগুড়ির মেয়র। তিনি স্পষ্ট জানান,‘আমরা ২০০ শতাংশ সততার সঙ্গে যত্ন নিয়ে কাজটি করব। গোটা বিষয় প্রশাসন ঠিক করবে। এখানে প্রশাসনকে ডিঙিয়ে কেউ যেন পাকামি না করে, সেই বিষয়ে সতর্ক করেছেন। পাশাপাশি সমস্ত রাজনৈতিক দলকে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেছেন।












